সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজারের প্রাচীন জনগোষ্ঠি মণিপুরীদের জীবনধারা

manipuriজালাল আহমদ::
বাংলাদেশের অন্যতম নৃ-গোষ্ঠি মণিপুরী সম্প্রদায়ের বাস মৌলভীবাজার তথা সিলেট বিভাগে। আঠারো শতক থেকে এই এলাকায় মণিপুরীদের বসবাস। বাংলাদেশে প্রায় দেড় লাখ মণিপুরী বাস করে। মণিপুরী নারীদের সুখ্যাতি রয়েছে হাতে বোনা তাঁতের কাপড়ের জন্য।

সীমান্তবর্তী মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল ও বিশেষ করে কমলগঞ্জের প্রায় ৬০টি গ্রাম বিখ্যাত মণিপুরী তাঁতশিল্পের জন্য। বাংলাদেশের প্রাচীন হস্তশিল্পগুলোর মধ্যে মনিপুরী হস্তশিল্প সুপ্রসিদ্ধ। মণিপুরী হস্তশিল্প অনেকটা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। তাঁতশিল্পের সঙ্গে মণিপুরীদের রয়েছে যুগ-যুগান্তরের সম্পর্ক। মণিপুরী সমাজে মেয়েদের তাঁতশিল্পের অভিজ্ঞতাকে বিয়ের ক্ষেত্রে পূর্বযোগ্যতা হিসেবে দেখা হয়। এমনকি মেয়েরা যখন জন্ম নেয় একটু বড়ো হলেই মায়েরা

মেয়েদেরকে তাঁতে বুনন কাজ শেখান-এই উদ্দেশ্যে যে, এই কাজ শিখলে তাদের বিয়ের সময় এটা যৌতুকের একটা অংশ হিসেবে কাজ করবে। মণিপুরীদের বস্ত্র তৈরির তাঁতকল বা মেশিন প্রধানত তিন ধরণের। যেমন-কোমরে বাঁধা তাঁত, হ্যান্ডলুম তাঁত ও থোয়াং। এই তাঁতগুলো দিয়ে সাধারণত টেবিল ক্লথ, স্কার্ফ, লেডিস চাদর, শাড়ি, তোয়ালে, মাফলার, গামছা, মশারি ইত্যাদি ছোটো কাপড় তৈরি হয়ে থাকে।

প্রধানত নিজেদের তৈরি পোশাক দ্বারা নিজেদের প্রয়োজন মেটাতেই মণিপুরী সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁতশিল্প গড়ে ওঠেছিল। পরবর্তীকালে তাঁতশিল্পে নির্মিত সামগ্রি বাঙালি সমাজে নন্দিত ও ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে নকশা করা ১২ হাত মণিপুরী শাড়ি, নকশি ওড়না, মনোহরী ডিজাইনের শীতের চাদর বাঙালি মহিলাদের শৌখিন পরিধেয়। মণিপুরীদের বস্ত্রের পাশাপাশি মণিপুরী নৃত্য বেশ বিখ্যাত। মণিপুরী সংস্কৃতির উজ্জ্বলতম দিক হলো মণিপুরী নৃত্য যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। মণিপুরীদের অন্যান্য ধ্রুপদী নৃত্যধারার মধ্যে রয়েছে-গোষ্ঠলীলা, পুঙচলোম, খুবাকইসেই ও উদুখল। লোকনৃত্যের মধ্যে লাই-হারাওবা, খাম্বা-থইবি, মাইবি-জগোই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া বৈষ্ণব পদাবলী, পালাকীর্ত্তন, ভজন ও আরতির সুর ও সঙ্গীত মণিপুরী সঙ্গীত ও নৃত্যকলার অন্যতম দিক।
মণিপুরী নৃত্যের মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ হলো-রাধাকৃষ্ণের প্রেম অবলম্বনে গোপ-গোপীদের রাসনৃত্য। ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিলেটের বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী গ্রাম মাছিমপুরে বষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের পরিবেশিত রাসনৃত্য দেখে বিমোহিত হন এবং শান্তি নিকেতনে মণিপুরী নৃত্য প্রবর্তন করেন। বিশ্বময় মণিপুরী নৃত্যের এই প্রচার, প্রসার ও সুখ্যাতির পেছনে রয়েছে সিলেট জেলার নিভৃত পল্লী মাছিমপুরের বষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী রমণীদের অসামান্য ও অনবদ্য ভূমিকা। ১৯২০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তৎকালীন সিলেট জেলার কমলগঞ্জ থানার বালিগাঁও গ্রামের বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী নৃত্যগুরু নীলেশ্বর মুখার্জী, ত্রিপুরার গুরু বুদ্ধিমন্ত সিংহ এবং আসামের গুরু সেনারিক সিংহ রাজকুমারকে শান্তি নিকেতনে মণিপুরী নৃত্য প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়ে যান। সিলেটের মণিপুরী নাচ সারা বাঙালির মধ্যে এক অন্যরকম উন্মাদনার সৃষ্টি করে। এমনকি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর শান্তি নিকেতনে ড্যান্সিং কারিকুলামে মণিপুরী নাচকেও অন্তর্ভূক্ত করেন। ফলে মণিপুরী নাচ ভারতীয় উপমহাদেশের একটা ক্লাসিক্যাল মর্যাদা লাভ করে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: