সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছেলেকে খুঁজে ফিরছেন বঙ্গবন্ধুর দেহরক্ষী

16457_b9নিউজ ডেস্ক::
২০১৪ সালের ২৯শে মার্চ থেকে কাজী রকিবুল হাসান শাওনের খোঁজে হয়রান তার স্বজনরা। পরিবারের দাবি কালো পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে কুমিল্লার মুন্সেফ কোয়ার্টার এলাকার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল সেদিন। এরপর দুই বছরের বেশি সময় পার হয়েছে। আজ অব্দি তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

শাওনের পিতা মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবদুল মতিন (৬৫)। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেহরক্ষী দলের সদস্য। আবদুল মতিন বিগত দুই বছরের বেশি সময় ধরে খুঁজে ফিরছেন প্রাণপ্রিয় ছেলেকে। মা আনোয়ারা বেগম (৫৫) খুঁজে ফিরছেন নাড়ীছেড়া ধনকে। ছেলের শোকে কাতর হয়ে শয্যাশায়ী তিনি। স্ত্রী ফারজানা মুন্নী অপেক্ষায় আছেন কবে ফিরবেন তার স্বামী। শাওনের আদরের কন্যা রাইসার (৪) দুচোখ সারাক্ষণ খুঁজে ফিরে তার বাবাকে। বোন বিথী ও ভাইদের অপেক্ষার প্রহরও যেন ফুরায়না। ছেলেকে ফিরে পেতে যা যা করণীয় তার সবই করেছেন বাবা আবদুল মতিন। কিন্তু হতাশাই সঙ্গী হয়েছে তার। কি কারণে তার ছেলে নিখোঁজ বা গুম হয়েছে সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর দেহরক্ষী ছিলেন-এই দাবিতে ছেলেকে ফিরে পেতে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

১৭ই মে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার ও ১৬৭ ধারায় পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত আপিলের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান (ড. মিজানুর রহমান) আমাকে বলেছেন, জাতির পিতার দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে কোনো কারণ ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার হদিস পাননি’। আবদুল মতিন বলেন, পত্রিকায় দেখেছি মাননীয় প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিয়ে আদালতে কথা বলেছেন। স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের একজন প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে কথা বলায় আমি খুব উৎসাহবোধ করছি। আমার ছেলেকে ফিরে পাব বলে আমি বিশ্বাস করি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাজী রকিবুল হাসান শাওন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। আওয়ামী লীগের যেকোনো সভা সমাবেশে থাকতেন সামনের সারিতে। শাওনের বাবা আবদুল মতিন জানান, ওই দিন (২০১৪ সালের ২৯শে মার্চ) ভোর পাঁচটায় র‌্যাবের কালো পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তত ২০ জন সদস্য কুমিল্লার মুন্সেফ কোয়ার্টার এলাকায় তাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে কোনো কারণ ছাড়াই পরিবারের সবার সামনেই টেনেহেঁচড়ে শাওনকে গাড়িতে তুলে বিষ্ণুপুরের দিকে নিয়ে যায়। ওই দিন সকালে কুমিল্লার র‌্যাব-১১-এ ছেলের খোঁজে গেলে তাকে জানানো হয় কাজী রকিবুল হাসান শাওন নামে কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করেনি র‌্যাব।

আবদুল মতিন আরও জানান, শাওনকে খুঁজে না পেয়ে ৭২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা থানায় তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) (নম্বর-২১৪৭, ৩১.০৩.২০১৪) করেন। পাশাপাশি উচ্চ আদালতে রিট আবেদনসহ স্বরাষ্ট্র সচিব, র‌্যাবের মহাপরিচালক, পুলিশের আইজিপি, কুমিল্লা সেনানিবাসের ডিজিএফআইয়ের অধিনায়ক, কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করে ছেলের সন্ধান চান তিনি। কিন্তু ছেলেকে ফিরে পাননি। একপর্যায়ে কাজী আবদুল মতিন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (জামাকন) দ্বারস্থ হয়ে শাওন নিখোঁজ হওয়ার পর ৩০শে এপ্রিল লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। মানবাধিকার কমিশন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশও করে। কিন্তু শাওনের নিখোঁজ রহস্যের কোনো কিনারা হয়নি। জানতে চাইলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। মানবাধিকার কমিশন ও আমি ব্যক্তিগতভাবে যা যা করণীয় তার সবই করেছি। কিন্তু শাওনকে আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, যে মানুষটি বঙ্গবন্ধুর দেহরক্ষী ছিলেন তার যদি এ অবস্থা হয়, তাও আবার বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আমলে, তাহলে আর কি বাকি থাকে? তিনি বলেন, অসহায় পিতামাতা ও একটি পরিবার তাদের আপনজনকে খুঁজে ফিরছেন। কিন্তু পাচ্ছেন না। এই মানসিক যন্ত্রণা পরিবারের সদস্যরা কীভাবে সহ্য করবে? পরিবারটি শারীরিক, মানসিকসহ সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো। এখন এর দায়ভার কে নেবে? ড. মিজানুর রহমান বলেন, ছেলেটি কোন রাজনৈতিক দলের অনুসারী, সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়। যদি সে অপরাধী হয়ে থাকে তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়াটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায়না। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দেবে। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা। কিন্তু এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের কি কোনো দায়িত্ব নেই? আইন ও উচ্চ আদালতের মাত্র কয়েকটি নির্দেশনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি পালন করে তাহলে দেশে নিখোঁজ কিংবা গুম হওয়া কমে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আবদুল মতিন বলেন, অনেকেই আমাকে ধিক্কার দেয়, কটূক্তি করে। আমি সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছি। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর দেহরক্ষী ছিলাম। কিন্তু আমার ছেলে নিখোঁজ হয়ে গেছে। আমি কিছু করতে পারছি না। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যসহ সবার কাছেই নিজেকে ছোট মনে হয়। তিনি বলেন, পুত্রশোকে ওর মায়ের (আনোয়ারা বেগম) ব্রেইন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। প্রতিদিন ছেলের অপেক্ষায় থাকে মা। কিন্তু আমাদের ছেলে আর ফিরে আসে না। শাওনের পরিবারের একজন সদস্য জানান, শাওনকে যখন তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তখন তার একমাত্র মেয়ে রাইসার বয়স ছিল প্রায় ২ বছর। ৪ বছরের রাইসা এখন বাবাকে খুঁজে ফিরে। দিনরাত আব্বু আব্বু বলে ডাকে। কিন্তু তাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা জানা নেই মা কলেজ শিক্ষিকা মুন্নীর কিংবা পরিবারের সদস্যদের। ভালোবেসে বিয়ে করেছিল শাওন ও মুন্নী। কিন্তু ভালোবাসার মানুষটিকে হারিয়ে ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন মুন্নী। প্রতিনিয়তই স্বামীর প্রতীক্ষায় থাকেন তিনি। কিন্তু দুবছরের বেশি সময়েও প্রতীক্ষার অবসান হয়নি তার। মানবজমিন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: