সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রার্থী মনোনয়নে ভুলের খেসারত: ওসমানীনগরে জাপার ভরাডুবি

japa daily sylhetবিশেষ প্রতিনিধি:
সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাংগঠনিকভাবে দল দুর্বল থাকায় ও যোগ্য প্রার্থীর অভাবে ওসমানীনগরে জাতীয় পার্টির লজ্জাজনক ভরাডুবি ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় প্রার্থী থাকার পরও অনেক সুবিধাভোগী নেতা দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে কাজ করেছেন। অন্যদিকে উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা এ লজ্জাজনক ভরাডুবির জন্য দলীয় এমপি ও স্থানীয় এক যুব সংহতির নেতাকে দায়ী করছেন।

এ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের ঁজাতীয় পার্টির প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের সব ভোট একত্র করে লাঙল প্রতীকের ভোট হয়েছে ২৬৬৫টি। অথচ, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে সিলেট-২ আসনে (ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ) জাতীয় পার্টির প্রার্থী হন ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া। যিনি ২০০৮ সালের উপজেলা নির্বাচনে বিশ্বনাথ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে প্রায় ৩ হাজার ভোট পেয়ে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিলেন। সে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহিবুর রহমান বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। কিন্তু ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে এহিয়া আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী স¦তন্ত্র হেভিওয়েট প্রার্থী মুহিবুর রহমানকে বিশাল ভোটে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু সংসদ নির্বাচনের মাত্র আড়াই বছরের মাথায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের লজ্জাজনক পরাজয় দলীয় কর্মীদের মুখ পুড়িয়েছে। পাশাপাশি এমপি ইয়াহ্ইয়া ও যুবসংহতি নেতা আশিক মিয়ার প্রতি জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে যাচ্ছেন।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওসমানীনগরের ৬টি ইউনিয়নে প্রার্থী দেয় জাতীয় পাটি। প্রার্থীরা হচ্ছেন, উমরপুর ইউনিয়নে আজিজুর রহমান, সাদীপুর ইউনিয়নে আব্দুল মুহিম, পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নে আব্দুল মালিক, উছমানপুর ইউনিয়নে কাজী তুহেল, দয়ামীর ইউনিয়নে ছৈদুল ইসলাম সৈয়দ, তাজপুর ইউনিয়নে আশরাফ মিয়া সিরাজ। লাঙল প্রতীকে তাদের প্রাপ্ত ভোট যথাক্রমে উমরপুরে ৬৬৫, সাদীপুরে ৩৮৭, পশ্চিম পৈলনপুরে ১৩৭, উছমানপুরে ২০৬, দয়ামীরে ৯৪০, ৩৩০টি। ওসমানীনগরের সবকটি ইউনিয়নে লাঙল প্রতীকের প্রার্থীদের সবমোট ভোট মিলিয়ে দেখা যায় তাদের প্রাপ্ত ভোট ২৬৬৫টি।
জাতীয় পার্টির এই শোচনীয় হারে দলীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, দলের নেতা স্থানীয় এমপি ইহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া ও একশে্িরণর দলীয় কয়েক চাটুকার ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের মূল্যায়ন না করে নিজেদের পছন্দমতো প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন দেন । যাদের মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা নেই, তারা চেয়ারম্যান প্রার্থী হলে দলের ভরাডুবি ঘটতে বাধ্য-এমন মন্তব্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওসমানীনগর উপজেলা জাতীয় পাটির একাধিক শীর্ষ নেতার।

সাধারণ সম্পাদক মকবুল আলী থানা জাতীয় পার্টি , ইউনিয়ন জাতীয় পার্টি, ওয়ার্ড জাতীয় পার্টি কারো সাথে সমন্বয় না করে এমপি সাহেব নিজস্ব মতামতে প্রার্থী দিয়েছেন। আমরা মনে করছি, তার এই স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের কারণে দলের ভরাডুবি হয়েছে। সবার মতামতে প্রার্থী দেওয়া হলে আমরা ওসমানীনগরে ৩/৪টি ইউনিয়নে জিততে পারতাম।

ওসমানীনগর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য ছিদ্দেক আলী বলেন ্এমপি এহিয়া তার ইচ্ছেমতো প্রার্থী দিয়েছেন। দলের এই ভরাডুবির জন্য স্থানীয় এমপি দায়ী। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী দিতে আমরা বারবার এমপিকে তাগিদ দিলেও তিনি তাতে কর্ণপাত না করে যুব সংহতি নেতা আশিক মিয়ার প্ররোচনায় ইচ্ছেমতো প্রার্থী দিয়ে দলকে লজ্জাজনকভাবে হারিয়েছেন। আমরা পল্লীবন্ধু এরশাদের দল করি, কোনো ব্যক্তির দল করি না। বিষয়টি আমরা দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদারকে অবগত করেছি। এমপি এহিয়া চৌধুরী এলাকায় এলে তার কাছে দলীয় প্রার্থীদের ভরাডুবির কারণ জানতে চাইব এবং আশিক মিয়াকে দল থেকে বহিষ্কারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করব।

এ ব্যাপারে উপজেলা যুব সংহতির আহবায়ক আশিক মিয়া বলেন, সাংগঠনিকভাবে দল দুর্বল থাকায় ও যোগ্য প্রার্থীও অভাবে দলের পরাজয় ঘটেছে। দলীয় প্রার্থী থাকার পর ও অনেক সুবিধাভোগী দলীয় প্রার্থীও বিপরীতে কাজ করেছে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি ইউিনিয়নে জাতীয় পার্টির প্রার্থীও অভাব থাকায় আমি ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে যোগ্য ব্যক্তি এনে এমপির মাধ্যমে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করিয়ে লাঙল প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিয়েছি। তবে কোনো প্রার্থীর কাছ থেকে টাকাপয়সা আদায়ের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির এমপি এহিয়া চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: