সর্বশেষ আপডেট : ৪৫ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নবীগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় পরাজিত চেয়ারম্যান গোলাপের উপর হামলা: আহত ১০, ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

620f7aca-6d29-4013-a42d-9c00bdb8fef1নবীগঞ্জ প্রতিনিধি::
নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নে বারবার নির্বাচিত এবারের পরাজিত চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপ ও তার লোকজনের উপর অপর পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজন কতৃক হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় আহত হয়েছেন ১০।

এ ঘটনায় আবুল খায়ের গোলাপ বাদি হয়ে আলোচিত পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়েজ আমীন রাসেলকে প্রধান আসামী করে নবীগঞ্জ থানায় ২১ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, এবারে গজনাইপুর ইউপি নির্বাচনে ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এর মধ্যে বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপ, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল ও ফয়েজ আমীন রাসেলের পিতা শাহ নেওয়াজের মধ্যে মূল লড়াই হয়। এতে আবুল খায়ের গোলাপের (আনারস প্রতীক)‘র সাথে ৩ শত ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন ইমদাদুর রহমান মুকুল (নৌকা), ২য় হন আবুল খায়ের গোলাপ (আনারস) এবং ৩য় হন শাহ নেওয়াজ (চশমা)।

২৮ মে রাতে উপজেলার পরিষদেরহ ল রুমে এ ফলাফল ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের পরের দিন গত রবিবার সকালে পরাজিত চেয়ারম্যান গোলাপ গ্রামের লোকদের সাথে দেখা করার জন্য নিজ বাড়ি হতে পায়ে হেটে রউনা হন। লোগাঁও গ্রামস্থ আঃ কাইয়ুমের দোকানের সামনে আসা মাত্রই দোকান থেকে বেড়িয়ে আসে মৃত মালিকের পুত্র আঃ আহাদ।

এ সময় আঃ আহাদ চেয়ারম্যান গোলাপের সামনে এসে বলে আমাদের মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ নেওয়াজ ২য় হয়েছেন এবং আপনি কেন ২য় হয়েছেন বলে মিথ্যা প্রচার করেন। পরবর্তিতে ২য় হয়েছেন বলে প্রচার করলে প্রাণে হত্যার হুমকি দেয় আঃ আহাদ ও তার লোকজন। তখন আবুল খায়ের গোলাপ বলেন নির্বাচন কমিশন ঘোষনা দিয়েছে আমি ২য় হয়েছি।

এ কথা বলা মাত্রই ফয়েজ আমীন রাসেলের নির্দেশে আঃ কাইয়ূমের দোকানে পূর্বে রাখা দা, ফিকল, লাটি, সুলপি, লোহার রড, হকিস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে বেআইনি জনতা বদ্ধে মিলে আবুল খায়ের গোলাপ ও তার সাথে থাকা লোকদের উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ফয়েজ আমীন রাসেল তার হাতে তাকা রুইল দিলে চেয়ারম্যান গোলাপের পিটে বারী দিয়ে গুরুত্বর জকম করে। এমনঅবস্থায় আঃ আহাদ তার হাতে থাকা ফিকল দিয়ে চেয়ারম্যান গোলাপকে হত্যা করার উদ্যোশে বুক লক্ষ করে ঘাই মারিলে জয়নাল মিয়া ঝাপটে পরে চেয়ারম্যানকে রক্ষা করে।

এতে ফিকলের ঘাই জয়নালের হাতে পড়ে। এসময় ফয়েজ আমীনগংদের সাথে থাকা সকলের চেয়ারম্যান গোলাপ ও তার লোকদের মারপিট করে। হামলার সময় চেয়ারম্যান গোলাপের পায়জমার তাকা ৫২ হাজার ৫ শত টাকা এবং শার্টের বুক পকেটে থাকা ৫ হাজার ৩শত টাকা লুট করে নেয় হামলাকারীদের সহযোগী মারুফ মিয়া। পরে আহতদের হাক ডাকে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন এবং গুরুত্বর আহতদের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স নিয়ে ভর্তি করেন। এবং অন্যান্য আহতদের স্থানীয় চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

হামলার খবরে এলকায় দেখা দেয় টান টান উত্তেজনা। রাস্তায় নেমে আসেন গ্রামের নিরপক্ষ শত শত জনতা। ঘটনার খবর পেয়ে গোপলার বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আব্দুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। এ ঘটনায় আবুল খায়ের গোলাপ বাদি হয়ে ফয়েজ আমীন রাসেলকে প্রদান আসামী করে ২১ জনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

গতকাল সরজমিনে ওই এলাকায় গেলে জয়নাল মিয়া বলেন, আমি নিরপক্ষ এক জন লোক ঘটনার দিন আমি না থাকলে চেয়ারম্যান সাহেবের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেত। ফিকল দিয়ে যে ঘাই মেরেছিল আমি ঝাপটি মেরে না ফেরালে চেয়ারম্যানের পেট দিয়ে ডুকে যেত।

গ্রামের স্থানীয় অনেক লোক জানান, আবুল খায়ের গোলাপ ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যান্ত ভালো লোক, ক্লিন ইমেজের অধিকারী। তিনি টানা ২ বার নির্বাচতি হয়েছেন। এবাং প্রতিহিংসার শিকার হয়ে পরাজীত হয়েছেন। এবং গোলাপ পরাজীত হওয়ার নেপত্যে রয়েছেন তারই আপন চাচাত্ত ভাই পরাজীত চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ নেওয়াজ।

গ্রামবাসী আরো জানান, তারা আপন চাচাত্তো ২ ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরুধ চলে আসছে। এবং উভয় পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধীক মামলা মোকদ্দমা রয়েছে।
গ্রামের সচেতন নিরপেক্ষ লোকজন বলেন, তারা ২ ভাই মিলে গেলে চেয়ারম্যান পদটি তাদের পরিবার থেকে অন্য কোথাও যেত না। তারাই মিলে মিশে আজীবন চেয়ারম্যানী করতে পারতো। গ্রামবাসী তারই উদাহারন হিসেবে দেখিয়েছেন নির্বাচনী ফলাফল।

যেমন- নৌকার প্রার্থী ইমদাদুর রহমান মুকুল পেয়েছেন- ৪৮৩৭ ভোট। আবুল খায়ের গোলাপ পেয়েছেন ৪১২৮ ভোট। শাহ নেওয়াজ পেয়েছেন ৩৬০৭ ভোট।
অর্থাৎ- গোলাপ ও শাও নেওয়াজ ২ভাই মিলে পেয়েছেন- ৪১২৮+৩৬০৭ = ৭৭৩৫ ভোট।

নৌকার প্রার্থী মুকুলের চেয়ে প্রায় দ্বীগুন ভোট পেয়েছেন তারা। যদি গোলাপ ও শাহ নেওয়াজ ২ ভাই মিলে একক প্রার্থী হতেন তাহলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হতেন। তাদের সমযোতার মনমানষিকতা করার জন্য আহবান জানিয়েছেন গ্রামবাসী।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: