সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চাকরি, সংসার সামলেও যেভাবে ব্যবসা করা যায়

15নিউজ ডেস্ক ::

কর্মজীবী নারী নাগিনা আবদুল্লাহ। একযোগে বহু কাজ করতে হয় তাকে। ফুল টাইম চাকরি করেন। সংসার সামলাম। একই সঙ্গে একটা সাইড বিজনেস গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। আধুনিক নারীরা তার মতো এগিয়ে আসছেন। চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা এবং সংসার দেখাশোনা সবই করতে চান। যথেষ্ট চাপ না নিয়েও কিভাবে সুষ্ঠুভাবে এসব দায়িত্ব পালন করা যায়, সে সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন।
১. চিন্তা-ভাবনা গুছিয়ে নিন। তবে এখানে সীমাবদ্ধতা নেই। যখন ব্যবসা শুরুর চিন্তা করছেন, তখন কি করা সম্ভব সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। বিভিন্ন অনলাইন বিজনেস পর্যবেক্ষণ করতে থাকুন। যখন দেখবেন, আপনার মতো বহু নারী সফল হয়েছেন, তখন বুঝত পারবেন কি করা সম্ভব। এভাবে যাদের চিনেছেন তাদের সঙ্গে গিয়ে দেখা করেছেন নাগিনা। দুই সন্তানের জননী এমা জনসন ওয়েলদি সিঙ্গেল মমি সাইটের প্রতিষ্ঠাতা। এর মাধ্যমে তিনি পেশাদারদের সহায়তা ও পরামর্শ দেন। তার ইমেইল তালিকায় ১২ হাজার ঠিকানা রয়েছে। পোডকাস্ট চালু করেছেন যেখানে মেহমান হিসাবে পাওয়া যায় আরিয়ানা হাফিংটনের মতো সফল নারীদের।

২. ব্যস্ত নারী হিসাবে আপনার হয়তো অনলাইন ব্যবসা করার সুযোগটা একটু বেশি। আধুনিক যুগে ব্যবসার দারুণ মাধ্যম। ব্যবসা শুরুর পর এর পরিধি বাড়াতে অস্থির হয়ে পড়েননি নাগিনা। আইডিয়ার পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে হবে ধীরে ধীরে। মনের মতো সময় হয়তো কখনোই মিলবে না। কিন্তু কৌশলে সময় বের করে নিতে হবে। নিজের ওপর চাপ প্রয়োগ না করে সুযোগ বুঝে সময় বের করে আনুন। এর জন্যে যা করতে পারেন-

ক. যে কাজগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, সেগুলোর পেছনে সময় ব্যয় করা বন্ধ করুন। এতে বেশ কিছু সময় বের হয়ে আসবে।

খ. অনলাইন ব্যবসার সুবধিা হলো, যেকোনো জায়গা থেকে কাজটা চালিয়ে নেওয়া যায়। প্রতিদিন সকালে ৩০ মিনিট এটার পেছনে সময় ব্যয় করলেই একে গুছিয়ে রাখতে পারবেন। এভাব নানা পরিবর্তনের মাধ্যমে নাগিনা সপ্তাহে বাড়তি ৩ ঘণ্টা সময় বের করতে সক্ষম হন।

গ. প্রতি দুটো সাপ্তাহিক ছুটির একটি ব্যয় করেন ব্যবসার পেছনে। এ সময়ে প্রচুর কাজ করা সম্ভব।

ঘ. আরো বেশি উৎপাদনশীল হয়ে উঠুন। যে সময় পাবেন তা ব্যয় করুন গুরুত্বপূর্ণ কাজে। কাজের কাজ করতে পারলে উৎপাদনশীলতা বেড়ে যাবে। ঘুমের সময় পরিবর্তন করে বা বিভিন্ন বদভ্যাস ঠিকঠাক করে অনেক উৎপাদনশীল হয়ে ওঠা যায়। প্রতিদিন সকাল, দুপুর, বিকাল ও রাতে কিছু অলস সময় থাকে। এগুলো চিহ্নিত করুন। একমাত্র ব্যবসাতেএ গুরুত্ব দিন। অপ্রয়োজনীয় কাজগুলো বাদ দিন।

৩. একটি লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যান। প্রথমেই বিশাল কল্পনায় ভেসে যাবেন না। তাহলে অন্ধের মতো দৌড়াতে হবে। এত কাজ এলোমেলো হয়ে যায়। প্রথমেই কি কি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন তার তালিকা করুন। এই পণ্যগুলো কোথা থেকে আনবেন তা বের করুন। প্রতিমাসে পণ্য কতগুলো লাগতে পারে এবং তার মজুদ কিভাবে করবেন ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা করুন। এসব ছোট ছোট পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলুন। এগুলো গুরুত্বহীন মনে হবে। কিন্তু এরাই বড় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ভিত্তি গড়ে দেবে।

৪. কাজটা উপভোগ করুন। পরিবারের মানুষকে এতে যুক্ত করতে পারেন। এতে কাজটা উপভোগ্য হবে। খুব বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়লে অন্যদের সহায়তা নিন। দুই একটি কাজ তাদের মধ্যে ভাগ করে দিন। ব্যবসাকে প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করুন। আপনার দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠবে এটি। নাগিনা বাড়িতে তৈরি খাবার বিক্রি শুরু করেন অনলাইনে। তার স্বামী রেসিপিগুলোর ছবি তুলতেন, বাচ্চারা রান্নার কাজে সহায়তা করতেন আর ভাই-বো বা মা দিতেন নানা পরামর্শ। গোটা কর্মকাণ্ড অনেক মজার হয়ে ওঠে। এমনকি ব্যবসা ছড়াতে আরো নানা কৌশল গ্রহণ করা যায়। পরিচিতদের নিয়ে একটা পার্টি দিন। সেখানে আপনার ব্যবসার বিষয়টিকে মূল আলোচনার বিষয় করুন। কাজের শুরুতে একটা নিউজ লেটার সোশাল মিডিয়ার বিভিন্ন গ্রুপে পাঠিয়ে দিন।

৫. যে অনলাইন ব্যবসা শুরু করেছেন তাকে এগিয়ে নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকুন। এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিন। একে কতটা এগিয়ে নেবেন? অর্থাৎ, জীবনের মূল পেশা করে নিতে এগোবেন? প্রথম ১০দিনে ৫০০ জনের কাছে প্রচার করুন। পরের ১০ দিনে সংখ্যা দ্বিগুন করুন। এভাবে এগিয়ে যান। ব্যবসা কতটা বিস্তৃত হলো তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিন, আপনি এটাকে মূল পেশা করবেন কিনা? চাকরি কি ছেড়ে দেওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে? আপনি কি অন্যান্য কাজের সঙ্গে একে মানিয়ে নিতে পারবেন? কর্মঘণ্টা বৃদ্ধি করলে কি আরো এগোনোর সুযোগ রয়েছে? অন্যান্য কাজ দেখাশোনার জন্যে কাউকে নিয়োগ দিলে কি আরো বেশি সুবিধা বের করতে সক্ষম আপনি?

৬. ফুল টাইম চাকরি করেও অনলাইন ব্যবসাটা চালু রাখা যায়। চাকরির পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু সময় এর পেছনে ব্যয় করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে এর পরিধি একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ে বেঁধে ফেলতে পারেন। এভানে অন্তত ছয় অঙ্কের একটা ব্যবসা দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন নাগিনা। তিনি সব সময় নজর রাখেন কোথায় সুযোগ রয়েছে। তার ক্রেতা এবং পরিচিতজনদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখেন। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: