সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রিজার্ভ চুরি : ৩০ বিদেশীর সম্পদ জব্দে ১১ দেশকে সিআইডি’র চিঠি

Bangladesh-Bank-logoনিউজ ডেস্ক::বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ৩০ বিদেশী নাগরিক ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে ১১ দেশে চিঠি পাঠিয়েছে সিআইডি (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ)। সন্দেহভাজন ওই ৩০ জন যাতে বিশ্বের কোথাও পালিয়ে যেতে না পারেন এবং তাদেরকে দ্রুত আটক করে যে কোনো সময় আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য ওই ৩০ জনকে রেড নোটিশভুক্ত করতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে জনা গেছে।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ইস্যুতে আজ সোমবার থেকে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ইন্টারপোলের তিন দিনের সম্মেলন শুরু হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রসহ ১১টি দেশ অংশ নেবে। সেখানে অর্থ চুরির ইস্যুতে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এ বিষয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ হেল বাকী বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশকে চিঠি দেওয়া হয়। সন্দেহভাজনদের রেড নোটিশধারী করতে ইন্টারপোলে প্রস্তাব দেওয়া হবে।
দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অর্থ চুরির ঘটনার তদন্তে বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহায়তা চায়। এরই মধ্যে ইন্টারপোল ও এফবিআই তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষ করে যেসব দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনার আলামত রয়েছে, তাদের একত্রিত করার মধ্য দিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে চায় সিআইডি। সংশ্লিষ্ট দেশের সহায়তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- জাপানের সাসাকিম তাকাশি, জয়দেবা, আরসিবিসির জুপিটার শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতো, এনজেলা তেরেস, মাইকেল ফ্রান্সিসকো ক্রুজ, জেসি ক্রিস্টোফার লাগোরাস, আলফ্রেড ভারগারা, এনরিকো তায়েদ্রো ভাসকুয়েজ, কিম ওং, স্লুইড বাতিস্তা, ফিলিপাইনের ব্যবসায়ী উইলিয়াম গো সো, শ্রীলংকার এনজিও শালিকা ফাউন্ডেশনের গামাজ শালিকা পেরেরা, সানজেবা টিসা বান্দরা, শিরানি ধাম্মিকা ফার্নান্দো, ডন প্রসাদ রোহিতা, নিশান্থা নালাকা, ওয়ালাকুরুয়ারাচ্চি প্রমুখ। এ ছাড়া শালিকা ফাউন্ডেশন ও আরসিবিসি ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরি করা হয়। তারা হলো- হ্যাকার, মানিলন্ডার, নেগোসেয়িটর ও ‘ইনসাইডার’। সিআইডি বলছে, ইনসাইডার হলো তারাই- যারা বাংলাদেশের ভেতরে বসে পরিকল্পিতভাবে অথবা তাদের গাফিলতির কারণে হ্যাকারদের সহজে সার্ভারে প্রবেশ করার সুযোগ দিয়েছে। এরই মধ্যে সিআইডি তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আরও অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অর্থ চুরির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার জড়িত থাকার তথ্য সন্দেহাতীতভাবে এখনও পাওয়া যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত হ্যাকারদের ম্যালওয়ারের মাধ্যমে আক্রান্ত ৩৫টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস শনাক্ত হয়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এমন কিছু তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, যাতে এটা স্পষ্ট- হ্যাকারদের সুইফট কোড সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা ছিল। তবে অর্থ চুরির ঘটনায় সুইফটের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার জড়িত থাকার ব্যাপারে এখনও কোনো মন্তব্য করতে চাননি ওই কর্মকর্তা। হ্যাকারদের ভুলেই আরও বড় অর্থ চুরির ফাঁদ থেকে রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ। ৩৫টি ভুয়া আদেশে কোনো ইন্টারমিডিয়েট ব্যাংকের নাম উল্লেখ না করায় অর্থ ছাড় হয়নি।
একটি সূত্র বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ কোন জায়গায় রয়েছে, সেটা নির্ণয় করা তদন্তের মূল লক্ষ্য নয়। মূলত কার কার গাফিলতির কারণে হ্যাকাররা অর্থ চুরি করেছে, সেটা প্রমাণ করাই মূল লক্ষ্য। আর এতে মূল দায়-দায়িত্ব আরসিবিসি ব্যাংকের। এরই মধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চুরি যাওয়া অর্থের অল্প কিছু ফেরত দিয়ে তাদের দায়িত্বের বিষয়টি একভাবে স্বীকারও করে নিয়েছে। আরসিবিসির চারটি ভুয়া অ্যাকাউন্টে ৮১ মিলিয়ন অর্থ এসেছিল। এর আগে এসব অ্যাকাউন্টে মাত্র একবার ৫০০ ডলার লেনদেন হয়। অথচ পরের লেনদেনে একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার প্রবেশ করলেও আরসিবিসি বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেনি। এমনকি এই বিশাল পরিমাণ অর্থ এসব অ্যাকাউন্টে কেন এসেছে তাও তারা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করেনি। এ ক্ষেত্রে তাদের চরম গাফিলতি ছিল। সাধারণত কোনো অ্যাকাউন্টে যদি এক মিলিয়ন অর্থও আসে, তবে সেটার সূত্র খোঁজা হয়। আর বিষয়টি জানাজানির পর সংশ্লিষ্টদের মুখ বন্ধ করতে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেন মায়া দিগুইতো।
তদন্তে সংশ্লিষ্টরা জানান, চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরি করা হয়। তারা হলো- হ্যাকার, মানিলন্ডার, নেগোসেয়িটর ও ইনসাইডার। ইনসাইডার হলো তারাই যারা বাংলাদেশের ভেতরে বসে পরিকল্পিতভাবে কিংবা তাদের গাফিলতির কারণে হ্যাকাররা সহজে সার্ভারে প্রবেশ করার সুযোগ পায়। এরই মধ্যে সিআইডি তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আরও অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রিজার্ভ চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সরাসরি জড়িত থাকার কোনও তথ্য এখনও তারা পাননি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চরম গাফিলতি ও অবহেলা যে ছিলো তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: