সর্বশেষ আপডেট : ২০ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দরাই শাল্লা জগন্নাথপুরে কে কত ভোট পেলেন?সুনামগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের ৫ম ধাপের নির্বাচনে বিজয়ী হলেন সুরঞ্জিত সেনের অনুসারীরা

imagesআল-হেলাল:: সুনামগঞ্জের ৩ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের ৫ম ধাপের নির্বাচনে বাউলের গান ও ভোটারদের ব্যালট বিপ্লব একাকার হয়েছে। একজন জনপ্রিয় বাউলের “সোনার নায় আজ বান্দর কাড়ালী”গানটির যথার্থতা ও স্বার্থকতা প্রমাণ করেছেন ভোটাররা। অগ্রহনযোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের কাছে দলীয় মনোনয়ন বিক্রির বিরুদ্ধে এই প্রথমবারের মতো নীরব ব্যালট বিপ্লবের ঘটনায় রাজনীতিতে পরিবর্তন ও সততার দ্বারা প্রতিষ্টার ইঙ্গিত দিয়েছেন সাধারন মানুষ।

এবারের নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতিতে ভাটি বাংলার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেন গুপ্তকে অবমূল্যায়নেরও জবাব দেয়া হয়েছে। বিদ্রোহীদের নির্বাচিত করার মাধ্যমে ভোটাররা প্রমাণ করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা ও কোন কোন উপজেলায় এখনও পশ্চিমা হানাদার স্টাইলে দলীয় রাজনীতি পরিচালিত হচ্ছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নির্বাচনী বৈতরনী অনায়াসেই পাড়ি দিয়েছেন বিদ্রোহীরা। দলীয় প্রধান ও নীতি নির্ধারকদেরকে বুঝানো হয়েছে আর বাণিজ্যিক রাজনীতি নয় এবার দলীয় বান্দর সামলান। কাউন্সিলারদের মতামতকে উপেক্ষা করে এক ব্যাক্তির ঘোষিত কমিটি নয় দলের দায়িত্ব দেন কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে দলের জন্য ত্যাগী নিবেদিত নেতাদেরকে। নির্বাচনে নীরব ভূমিকা পালন করায় জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুট ও পৌর মেয়র আয়্যুব বখত জগলুলের গ্রহনযোগ্যতাও ক্রমশই বাড়ছে।

দলের এই ২ কান্ডারীর নীরবতার সাথে যোগ হয়েছে ভোটারদের নীরব ব্যালট বিপ্লবের। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে সুনামগঞ্জের দিরাই,জগন্নাথপুর ও শাল্লা উপজেলার মোট ১৯ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপি সমর্থিত ১৬ জন দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যাবধানে বিজয়ী হয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত এসব বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপির সমর্থক তৃণমূল আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী,ভোটার ও সমর্থকদের প্রকাশ্য স্বতস্ফুর্ত সমর্থন ছিলো। জগন্নাথপুরে দলীয় একমাত্র প্রার্থী হিসেবে আশারকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের শাহ আবু ইমানী (নৌকা) নির্বাচিত হয়েছেন। এখানকার নির্বাচিত বিদ্রোহী প্রার্থীরা বলেন,বাণিজ্যের নৌকা ডুবে গেছে। কথিত নৌকাওয়ালারা মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে আমাদেরকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা ছাড়াও প্রকাশ্য দিবালোকে এলাকায় এসে আমাদেরকে বহিষ্কার ঘোষনাসহ আমাদের বিরুদ্ধে বিষোধগারে লিপ্ত হয়েছিলেন। তাদের অপতৎপরতায় আমাদের পীঠ দেয়ালে লেগেছিলো। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপি ছাড়া আমাদের বিচার দেওয়ারও কোন জায়গা ছিলনা। তিনি আমাদেরকে ধৈর্য্যরে সাথে প্রতিকূল পরিবেশের মোকাবেলা করে শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আমরা জনগনের ভালবাসায় প্রিয় নেতার দোয়া ও আশীর্বাদের প্রমাণ পেয়েছি।

সর্বশেষ খবরে জগন্নাথপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহনের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ১নং কলকলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাশিম (চশমা) ৫৯৩৮ ভোট পেয়ে সরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী দ্বীপক কান্তি দে দিপাল (নৌকা) পেয়েছেন ৪৯৯৮ ভোট। ২নং পাটলী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল হক (আনারস) ৫৪০৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আঙ্গুর মিয়া (নৌকা) পান ৩৩৬০ ভোট। চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আরশ মিয়াকে (নৌকা) ৫৫৯৯ ভোট পেয়েছেন বলে বহু নাটকীয়তার পর তাকে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত ঘোষনা করা হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হারুন অর রশীদ (আনারস) পান ৫৫০৯ ভোট। সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রাথী তৈয়ব মিয়া (আনারস) ৪৩৮৬ ভোট পেয়ে সরকারীভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্ধন্ধী আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল হাসান (নৌকা) পান ৪৩৩২ ভোট। আশারকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ আবু ঈমানী (নৌকা) ৩৮১৭ ভোট পেয়ে সরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আব্দুল আহাদ মদরিছ (আনারস) পান ৩৭৯৯ ভোট। পাইলগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মখলিছুর রহমান (ঘোড়া) ৩১০৭ ভোট পেয়ে সরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের অপর বিদ্রোহী মঞ্জুর আলী আফজল (মোটর সাইকেল) ২৯৪০ ভোট পান। এদিকে নির্বাচনে ভোট গ্রহনের পর ফলাফল ঘোষনা নিয়ে সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন ও চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের বুধরাইল ও সুনাতনপুর ভোট কেন্দ্রে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল হাসান (নৌকা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈয়ব মিয়া (আনারস) সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। বুধরাইল কেন্দ্রে ব্যালেট বাক্স ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।

সুনাতনপুর কেন্দ্রে ভোট গননা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে একজন ম্যাজিষ্ট্রেটের নের্তৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভোট বাক্্র জগন্নাথপুরে নিয়ে আসে। পরে এ দুটি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষনা করা হয়। এদিকে চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হারুন অর রশীদ (আনারস) প্রতীকের সমর্থনে বিজয় মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে আসলে পুলিশ তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। আশারকান্দি ও চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী ও প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী আব্দুল আহাদ মদরিছ মিয়া ও হারুনুর রশীদ রির্টানিং অফিসার বরাবরে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ করে পূন ভোট গননার দাবী জানিয়েছেন।

দিরাই উপজেলায় আওয়ামীলীগের রাজনীতি অনেকটা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নির্ভর। সাংগঠনিক রাজনীতিতে দলে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বিরোধী কোন শক্তি কখনও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি। তবে নাছির উদ্দিন চৌধুরী সুরঞ্জিত বিরোধী অবস্থান তৈরী করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেননি মজবুত ভিত্তি। এবার ইউপি নির্বাচনে অনেকটা ধরাশায়ী হয়ে পড়েছেন তিনি। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নির্বাচনের ভোটের লড়াইয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অনুসারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক প্রদীপ রায় ও যুগ্ম সম্পাদক মেয়র মোশাররফ মিয়ার কাছে হেরে গেছেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মতিউর রহমান। ভাটিপাড়া ও জগদল ইউনিয়নে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাবেক সাংসদ মতিউর রহমান যে প্রার্থী বদল করেছিলেন, দু’টিতেই নৌকা প্রতিকের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অনুসারি সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় ও মেয়র মোশাররফ মিয়ার নেতৃত্বে তৃনমুল নেতাকর্মীরা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মতিউর রহমানকে চ্যালেঞ্জ চুড়ে জগদল ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী শিবলী আহমদ বেগ ও ভাটিপাড়ায় শাহজাহান কাজীকে জয়লাভ করান।

কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ,মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনকে নিয়ে মাঠপর্যায়ে প্রচারনায় নেমেও আওয়ামীলীগ জেলা সভাপতি মতিউর রহমান ও তার মনোনিত নৌকার প্রার্থীদেরকে শোচনীয়ভাবে হার মানতে হয়েছে। দলীয় প্রতিকে নির্বাচন হওয়ায় ধরাশায়ী হয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী। বিগত দিনে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্ব বিএনপি সবকটি ইউনিয়নে শক্ত অবস্থানে থাকলেও এবার ২টিতে সামন্য ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করলেও সবকটি ইউনিয়নে ভরাডুবি হয়েছে নাছির উদ্দিন চৌধুরী সমর্থিত প্রার্থীদের। রফিনগর ইউনিয়নে বিএনপির নাছির চৌধুরীর ঘাটি হলেও সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত অনুসারি আওয়ামীলীগের রেজুয়ান হোসেন খান (নৌকা) ৩ হাজার ৬৩১ ভোট পেয়ে সরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর চৌধুরী (আনারস) পেয়েছেন ৩ হাজার ৫০ ভোট।

এখানে ভোটের ব্যবধানে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বিএনপি প্রার্থী। একই অবস্থা ভাটিপাড়া ইউনিয়নে। এখানে বিএনপি’র ভোট ব্যাংক থাকলেও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অনুসারি আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী শাহজাহান কাজী (মোটর সাইকেল) ৩ হাজার ৮০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মতিউর রহমান অনুসারী আওয়ামীলীগের জাহেদুল ইসলাম (নৌকা) ৩ হাজার ১৬৭ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থাকলেও বিএনপির নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থিত প্রার্থী ভোটের ব্যবধানে ধরাশায়ী হয়েছেন। রাজানগর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সৌম্য চৌধুরী (নৌকা) ৩ হাজার ৪২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী নওশেরান চৌধুরী (ঘোড়া) ৩ হাজার ১৭২ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থাকলেও ভোটের ব্যবধানে বিএনপি রয়েছে তৃতীয় স্থানে। চরনারচর ইউনিয়নে বিএনপির রতন কুমার দাস (ধানের শীষ) ৬ হাজার ৬৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন আওয়ামীলীগের পরিতোষ রায় (নৌকা) তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ১০০ ভোট। সরমঙ্গল ইউনিয়নে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী এহসান চৌধুরী (আনারস) ২ হাজার ৬৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে আওয়ামীলীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর কারনে ভরাডুবি হয়েছে নৌকার। প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র মোয়াজ্জেম হোসেন জুয়েল (ধানের শীষ) পেয়েছেন ২ হাজার ৫১২ ভোট। এখানে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত সমর্থকরা কৌশলের আশ্রয় নিয়ে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত এহসান চৌধুরীকে নির্বাচিত করেন। করিমপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের আছাব উদ্দিন সরদার (নৌকা) ৪ হাজার ৬৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে অল্প ভোটের ব্যবধানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শাহাজাহান সরদার পরাজিত হলেও বিএনপি’ তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

জগদল ইউনিয়নে মতিউর রহমান অনুসারী আওয়ামীলীগের প্রার্থী হুমায়ুন রশিদ লাভলুকে পরাজিত করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অনুসারী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শিবলী আহমদ বেগ (আনারস) ৪ হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ ইউনিয়নে বিএনপির ভোট ব্যাংক থাকলেও ধরাশায়ী হয়েছেন জনপ্রিয় প্রার্থী কামরুল ইসলাম। তাড়ল ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কুদ্দুস (টেলিফোন) ২ হাজার ৩৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আকিকুর রেজা পুলিশ (মোটর সাইকেল) ২ হাজার ১২০ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও ভোটের ব্যবধানে বিএনপি’র প্রার্থী অনেক পিছিয়ে রয়েছেন। কুলঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপি’র মুজিবুর রহমান (ধানের শীষ) ৩ হাজার ৫৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী পবিত্র মোহন দাস (টেলিফোন) পেয়েছেন ২ হাজার ২৬৬ ভোট। এ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর কারনে ভরাডুবি হয়েছে নৌকার প্রার্থীর। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এখানে আওয়ামীলীগের দলীয়,বিদ্রোহী ও বিএনপির বিদ্রোহী চেয়ারম্যানদের নির্বাচিত ৭ জনই সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপির ঘনিষ্ট সমর্থক। এছাড়া বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে যে দুজন নির্বাচিত হয়েছেন তারাও কোননা কোনভাবে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপির আশীর্বাদ নিয়েছেন। ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নৌকার জোয়ারের বিরুদ্ধে কুড়েঘর প্রতীকের পক্ষে গণ জাগরন তৈরী করে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত যেভাবে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন ঠিক তেমনিভাবে এবারের ইউপি নির্বাচনে বানিজ্যের নৌকা ডুবাতে অসুস্থ সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের নির্দেশে তার ভক্ত ও অনুসারীরা নতুন জাগরন ও তেলেসমাতি দেখিয়ে একই সাথে বিএনপি ও বানিজ্যের নৌকার পরাজয় ঘটিয়েছেন। সুস্থ স্বাভাবিক রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের চাইতে রোগশয্যায় শায়িত শারীরিকভাবে অসুস্থ সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত যে আরো বেশী জনপ্রিয় তার প্রমাণ দিয়েছেন তৃনমূল পর্যায়ের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী সমর্থক ও ভোটাররা।

বাণিজ্যের নৌকা বিরোধী জোয়ারের ঢেউ আংশিকভাবে লেগেছে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায়। নির্বাচিতদের ৪ জনই সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপির ঘনিষ্ট সমর্থক। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলেও ইউনিয়ন নির্বাচনে এখানে বিএনপির অবস্থা একেবারে নিবু নিবু হয়েছে। পরিসংখ্যানে জানা গেছে, শাল্লা উপজেলার আটগাও ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের আবুল কাশেম আজাদ (নৌকা) ৪০৩৯ ভোট পেয়ে সরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির আব্দুল্লাহ আন নোমান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৩৬৪৯ ভোট। বাহাড়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিধান চৌধুরী (নৌকা) ৬৮৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি একই দলের নরেশ চন্দ্র চৌধুরী (ঘোড়া) পেয়েছেন ৫৩৩৫ ভোট। হবিবপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল (নৌকা) ৭২৫৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সুবল চন্দ্র দাস (ঘোড়া) পেয়েছেন ৬৪৬৪ ভোট। শাল্লা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জামান চৌধুরী ফুল মিয়া (আনারস) ৪৯১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের আব্দুস ছাত্তার (নৌকা) পেয়েছেন ৪৪৮০ ভোট। এখানে আওয়ামীলীগ বনাম আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ,সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান,জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মতিউর রহমান,সাধারন সম্পাদক জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন,সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের পুত্র আজিজুস সামাদ ডন,কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেত্রী শামীমা শাহরিয়ার ও জেলা যুবলীগের আহবায়ক খায়রুল হুদা চপল প্রমুখ জনপ্রিয় নেতা নেত্রীরা যেসব ইউনিয়নে গিয়ে দিনরাত অকান্ত পরিশ্রম করে ব্যাপক গণ সংযোগ চালিয়ে ছিলেন সেসব এলাকায় নৌকার চরম ভরাডুবি হয়েছে। আবার কেন্দ্রীয়,মহানগর ও জেলা কমিটির নেতৃস্থানীয়রা শাল্লা উপজেলায় গণ সংযোগে না যাওয়ায় সেখানে সুরঞ্জিত প্রিয় নৌকার প্রার্থীরা সহজেই বিজয়ী হয়েছেন।

২৮ মে শনিবার সুনামগঞ্জের শাল্লা,দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলার ১৯ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন। এ লক্ষ্যে কমিশনের জেলা কমিটির উপদেষ্টা রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মজলুল হক,জেলা শাখার সহ-সভাপতি মোঃ ফজলুল হক, জগন্নাথপুর উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ জহিরুল ইসলাম লাল মিয়া,মোঃ মাফজুল ইসলাম খান,মোঃ কবির আহমদ, মুক্তার মিয়া, মোঃ কাশেম, মোঃ নিজাম উদ্দিন জালালী, মোঃ সুবেদ খান, মোঃ আবুল ফজল, মাসউদ আহমদ তালুকদার, মোঃ ফয়জুল হক, রিজু সুলতান, মোঃ অদুদ মিয়া কামালী, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ এনায়েল খান, সুহেল আহমদ খান,আমির আহমদ খান, মোঃ আব্দুল হক কামালী, মোঃ ইয়াকুব মিয়া ও রেজাউল করিমসহ একদল পর্যবেক্ষক বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। কমিশনের জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক আল-হেলাল সার্বিকভাবে পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম মনিটরিং করেন। ইউপি নির্বাচনে এবারের ভোটারদের ব্যালট বিপ্লবের গতিধারাটিই গত পৌর নির্বাচনে হয়েছিলো উল্লেখ করে মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষকদের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র পদপ্রার্থী শাহ নুরুল করিম বলেন,পরিকল্পিত ভোট চুরির কারনে আমরা এই ব্যালট বিপ্লবের গতিধারাটি কাজে লাগাতে পারিনি। তবে আমাদের মিশন ব্যার্থ হয়নি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তা চুড়ান্ত প্রাতিষ্টানিক রুপ নিয়েছে। আগামীতে এই বিপ্লবের আরো ভয়াবহ ভয়ংকর বিস্ফোরন দেখার জন্য প্রস্তুত হতে বাণিজ্যিক রাজনীতিবিদদের প্রতি কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারন করে এই নিবেদিত আওয়ামীলীগ নেতা বলেন,বিদ্রোহের দাবানলের এই মুক্তিযুদ্ধের ধারায় রাজনীতিকে পরিচালনা করার জন্য আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষকরা ৫ম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হয়েছে বলে দাবী করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: