সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১২ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নয় শিশুকে কারাগারে প্রেরণ: সিএমএমকে উকিল নোটিশ

adalotনিউজ ডেস্ক :: সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই মোহাম্মাপুরের নয়টি শিশুকে কারাগারে পাঠানোর বিষয় জানতে চেয়ে একটি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রোববার সকালে চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ নোটিশটি পাঠানো হয়। সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম সরকারি ডাকযোগে এ নোটিশটি পাঠান।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি), ঢাকা দক্ষিন জেলা প্রসাশক (ডিসি), মোহাম্মাদ পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর এ নোটিশটি পাঠানো হয়।আগামী ৩দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন এবং শিশু আইনের সুস্পষ্ঠ লংঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নোটিশের জবাব না দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে জানান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ মে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ওরা ক্ষুধার্ত ও নির্যাতিত’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা দিন কিছু খেতে দেওয়া হয়নি। ক্ষুধার যন্ত্রণা নিয়ে একপর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়ে নয় বছরের শিশুটি। সন্ধ্যায় পুলিশ সদস্যদের দেখে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে সে। তাদের উদ্দেশে বলে, ‘স্যার। আমারে ছেড়ে দেন। আমি চুরি করিনি। আমি নির্দোষ।’
এই শিশুটির মতো আরও আটটি শিশু। কারও শরীরে মলিন পোশাক। কারও গা খালি। চেহারায় দারিদ্র্যের ছাপ। কাঁদতে কাঁদতে তারা সমস্বরে বলে, ‘স্যার। আপনাগো দিলে কি কোনো মায়া-দয়া নেই? আমরা তো চুরি করিনি। আমাদের ছেড়ে দেন। পুলিশ খামাখা আমাদের ধরেছে।’
এ দৃশ্য গতকাল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের হাজতখানার।
এই নয়টি শিশুকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আটক করে গতকাল সকালে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় আনে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ। কিন্তু তাদের কাউকে আদালতের বিচারকের সামনে তোলা হয়নি। সকাল থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তাদের রাখা হয় হাজতখানায়। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে আদালত পুলিশ মোহাম্মদপুর থানার দেওয়া প্রতিবেদন সিএমএম আদালতে উপস্থাপন করে। আদালত শিশুদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মাধ্যমে টঙ্গীর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে সন্ধ্যার দিকে শিশুদের প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে নয়জন শিশুর মধ্যে চারজন আদালত এলাকায় বলে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে তাদের মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড় থেকে সাদাপোশাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের নেওয়া হয় মোহাম্মদপুর থানায়। চুরি করার কথা স্বীকার করানোর জন্য মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে পুলিশ তাদের লাঠি দিয়ে মারধর করে। কথা বলার সময় নির্যাতনের চিহ্ন দেখায় তারা।
বাকি পাঁচ শিশু বলে, বুধবার দুপুরে পুলিশ তাদের মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ডেকে থানায় নেয়। পরে হাজতখানায় আটকে রাখা হয়। তারা চুরির সঙ্গে জড়িত এমন কথা স্বীকার করানোর জন্য তাদের নির্যাতন করে পুলিশ। ঠিকমতো খেতেও দেওয়া হয়নি তাদের।
আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক নয়ন মিয়া বলেছেন, এরা কিশোর অপরাধী। এরা মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া টাউন হল, মোহাম্মাদীয়া হাউজিংসহ আবাসিক এলাকায় গ্রিল কেটে চুরি করে থাকে। বুধবার রাত ১২টা ৩০ মিনিটে এলাকাবাসী তাদের আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। এসব কিশোর অপরাধীর কোনো আত্মীয়স্বজন খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এই শিশুদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, জানতে চাইলে নয়ন মিয়া বলেন, এরা এলাকার কিছু চিহ্নিত চোরের সহযোগী। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে পুলিশের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এক শিশুর মা আদালত এলাকায় প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ছেলে মোহাম্মদপুরের একটি স্কুলে লেখাপড়া করে। সে কোনো দিন চুরি করেনি। গত মঙ্গলবার রাতে তাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তাকে থানায় রাখা হয়। তিনি বারবার পুলিশকে বলেছেন, তাঁর ছেলে নিরপরাধ। অথচ পুলিশ তাকে ছেড়ে না দিয়ে নির্যাতন করেছে। এমনকি তাদের সঙ্গে দেখাও করতে দেওয়া হয়নি।
শিশুটির মা জানান, কেবল তাঁরা নন, আরও তিন শিশুর অভিভাবক থানায় যান। কিন্তু পুলিশ শিশুদের ছেড়ে দেয়নি। মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, ‘এসব শিশু ভোরবেলা ঘোরাঘুরি করে। আমরা হয়তো তাদের ভোরে আটক করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। শিশুদের থানায় নিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ পেলে অবশ্যই তা তদন্ত করা হবে।’
শিশুদের আটক ও নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন অনুযায়ী, শিশুরা যদি নির্যাতন করার অভিযোগ করে থাকে, তাহলে অবশ্যই তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: