সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভুলেভরা এদারা বোর্ডের প্রশ্ন!

5e4c91af-a50e-4e5f-8025-4cbf2057902fগোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:
দেশের প্রাচীনতম কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড আযাদ দ্বীনী এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ। ১৪৩৭ হিজরি/২০১৬ ঈসায়ি সনের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা শেষ হয়েছে ২৬ মে বৃহস্পতিবার। পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ১৭ মে মঙ্গলবার। ৭টি স্তরে এবারের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় দশ সহস্রাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। পরীক্ষার শেষ দিনের ইংরেজি প্রশ্নপত্র ছিল ভুলেভরা। ভুলেভরা প্রশ্নপত্র দিয়েই পরীক্ষা দিয়েছে মুতাওয়াসসিতাহ ৩য় বর্ষের ছাত্ররা।

যা প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা নাযিম (নিয়ন্ত্রক)সহ নেগরান(গার্ড) কারো নজরে ধরা পড়ে নি। তারা জানেনই না এবারের মুতাওয়াসসিতা ৩য় বর্ষের ইংরেজি প্রশ্নপত্রে থাকা ভুলের ছড়াছড়ির কথা। ছাত্রদেরও অভিযোগ নেই ভুলের। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ছাত্র স্বীকার করেছে ভুলের কথা। তারা জানিয়েছে, তারপরেও আমরা ভুল প্রশ্নে উত্তরপত্র দিয়ে এসেছি। আমাদের অসুবিধা হয়নি। তবে নেগরানরা (গার্ডরা) কিছু বলে নি দেখে আমরা নিশ্চুপ থেকেছি। কী ভুল ছিল প্রশ্নপত্রে? যার ফলে এতো গুঞ্জন ছিল ২৬ মে বৃহস্পতিবার কওমি অঙ্গনে।

সেদিন ছিল বোর্ডটির মারহালায়ে মুতাওয়াসসিতাহ ৩য় শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা। মনোগ্রামহীন প্রতিটি প্রশ্ন, ইংরেজি প্রশ্নের প্রথমেই ইংরেজি সনের ভুল। ২০১৬ ইংরেজির স্থলে লেখা হয়েছে ১০১৬ ইংরেজি। সাবজেক্টেও ভুল। ২৬ মে’র পরিবর্তে ৯ জুন! তা ছাড়া প্রতিটি প্রশ্নে বানান ভুলের ছড়াছড়ি। শুধু তাই না, ইবতেদায়ি ৫ম শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্নপত্রেও বানান ভুলের ছড়াছড়ি। মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে এদারা বোর্ডের সহকারী পরীক্ষানিয়ন্ত্রক সৈয়দ আবদুর রহমান ভুলের কথা স্বীকার করে কোনো সুদোত্তর না দিয়ে লাইন কেটে দেন। পরে যোগাযোগ করবেন বলে জানালেও আর কোনো যোগাযোগ করেন নি। এ ছাড়া বোর্ডের মহাসচিব আবদুল বাসিত সাহেবের মোবাইলে ফোন দিলে তার কোনো পাত্তা মেলে নি।

05e5abe1-6385-4259-a8bb-2716d474ab25এ ব্যাপারে দু’জন মাদরাসাশিক্ষক এনামুল হক ও খালেদ আহমদ বলেন, এ রকম ভুল খুবই লজ্জার। গোটা কওমি মাদরাসার জন্য লজ্জাজনক। আমরা এরকম ভুল আশা করি নি। তারা বলেন, পরীক্ষানিয়ন্ত্রণ-কমিটি আছে, পরীক্ষানিয়ন্ত্রকসহ অনেক গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্বশীল থাকা সত্ত্বেও এ রকম ভুলের দায়ভার তাদেরই নেয়া উচিত এবং এর কারণ দর্শানো উচিত।

জাকারিয়া আহমদ নামে একজন শিক্ষক বলেন, বোর্ডের কেন্দ্রীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এমন ভুল দায়িত্বশীলদের অবহেলার পরিচয়ই বহন করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো সচেতন ও সচেষ্ট হতে হবে। নতুবা এর দায়ভার তাদের নিতে হবে। এ ছাড়া কয়েকজন অভিভাবক ও মাদরাসাশিক্ষক জানান, প্রশ্নপত্রের ভুল এবারে প্রথম ঘটনা। এরকম আগে কখনো ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। এরকম ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে আমাদের সন্তানরা কী শিখছে? আমরা এরকম ভুলের পুনরাবৃত্তি চাই না এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে বিশেষ করে বাংলা- ইংরেজি পরীক্ষার দিন সচেতন নেগরান (গার্ড) থাকা প্রয়োজন বলে মনে করি আমরা।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: