সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আইনি লড়াই শেষ: ৩২ হাজার পরিবারে হাসি

fa0d9c06-6d4e-4ad4-8605-feaa146fde43ডেইলি সিলেট ডেস্ক::
সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে ও সমাজে সন্মান নিয়ে বাঁচতে ৩২ হাজার প্যানেলভুক্ত শিক্ষক পরিবারের পক্ষে উচ্চ আদালতে আইনী লড়াই করে জয়ী হয়েছেন তরুণ অ্যাডভোকেট মো: সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া।

রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য তিনি উচ্চআদালতে দীর্ঘ চার বছর আইনি লড়াই করেছেন। অধিকার আদায়ে হাইকোর্টে ৩৫টিরিট আবেদন করেছেন সুপ্রিমকোর্টের এই আইনজীবী। শুধু হাইকোর্টেই নয়,সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগেও লড়েছেন শিক্ষকের পক্ষে।

সরকারী বিধি মোতাবেক সব যোগ্যতা নিয়েই চাকরির আবেদন করেছিলেন তারা, নিয়োগপরীক্ষায়ও অংশ নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, মেধা তালিকায়ও স্থান পেয়েছিলেন পরীক্ষায় উত্তীর্ণহয়ে। কিন্তু তারপরও নিয়োগ পাচ্ছিলেন না জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষক সমাজের এ অংশটি।

এই আইনজীবী চার বছর বিরতিহিন পরিশ্রম করে প্যানেলভুক্ত শিক্ষকদেরকে এনে দিয়েছেন সন্মান, মুছে গেছে তাদের অসহায়ত্বের গ্লানি। সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া অনেক গরীবঅসহায়, দুস্থ্য মেধাবী শিক্ষকদের পক্ষে আদালতে লড়েছেন বিনা পয়সায়।

টাইফয়েটে আক্রান্ত হয়ে শারিরীক প্রতিবন্ধি হবিগঞ্জের রোকন মিয়া, কুড়িগ্রামেররক্তশুন্য রোগী রফিক মাস্টার, চাকরি না থাকায় ডিভোর্স হওয়া এনজিও কর্মীজাহানারা বেগম, সিরাজগঞ্জের শিরিন সুলতানা, ভোলার চরফ্যাশনের হাফেজ বজলুল হকসহ৩২ হাজার শিক্ষক পরিবারের সদস্যের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন তিনি।

এই আইনজীবী বলেন, মানবিক কারণে অসহায় শিক্ষকদেরপাশে দাঁড়িয়েছি। তিনি বলেন, হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ শিক্ষকদের পক্ষে রায় দিয়েছেন।সরকার এই রায় বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা ভালো উদ্যোগ। এসকল প্রার্থীরা

নিয়োগ পেলে তাদের দীর্ঘ হয়রানির অবসান ঘটবে বলে আমি বিশ্বাস করি। একইসঙ্গে ৩২হাজার পরিবারে ফিরে আসবে স্বস্তির নি:স্বাশ। প্রাথমিক শিক্ষর মান উন্নয়নে অগ্রনীভুমিকা পালন করবে এই প্যানেলভুক্ত শিক্ষকরা।

উচ্চ আদালতের রায় বিবেচনায় নিয়ে সরকার সম্প্রতি বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিকবিদ্যালয়ের জন্য প্যানেলভুক্তদের নিয়োগ দেয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্টমন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কাজও শুরু করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে সারা দেশে এধরনের প্যানেলভুক্ত শিক্ষক আছেন প্রায় ৩২ হাজার। তারা এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন। সূত্র আরো জানায়, ওইসব শিক্ষককে শূন্য পদেনিয়োগ দিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিরঅনুলিপি জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হচ্ছে।

এ নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধা তালিকায় স্থান পেলেও এসব শিক্ষকদেরকে আজকের এপর্যায়ে আসতে সংগ্রাম করতে হয়েছে দীর্ঘ এক আইনি লড়াইয়ের। এ লড়াই শেষ হওয়ার আগেঅনেকে চলে গেছেন অন্য চাকরিতে। অনেকেই আবার চলে গেছেন পরপারে।

২০১০ সালের ১১ এপ্রিল রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শূন্যপদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিজ্ঞপ্তির ওপরভিত্তি করে ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪২ হাজার ৬১১ জনকে নিয়োগের লক্ষ্যেএকটি প্যানেল তৈরি করা হয়। এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর এক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তপরিবর্তন করে ইউনিয়ন ভিত্তিক নিয়োগের কথা জানায়। সে সময় ১০ হাজার ৪৯৭ জনকে
নিয়োগও দেয় সরকার। এতে করে মেধা তালিকার প্রথম দিকে থেকেও অনেকে নিয়োগ বঞ্চিতহন। পরে ২০১৩ সালে সব রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়।এরপর নিয়োগ দেয়া বন্ধ করে দেয় সরকার। ফলে হতাশ হয়ে পড়েন চাকরি প্রত্যাশীপ্যানেলভুক্তরা।

পরে নিয়োগ বঞ্চিত ও প্যানেলভুক্ত সদস্যদের মধ্য থেকে কয়েক হাজারজন ইউনিয়ন ভিক্তিকনিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সালপর্যন্ত হাইকোর্টে পৃথক রিট করেন। এর মধ্যে সবার আগে দায়ের হওয়া একটি রিটআবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১৮ জুন রিট আবেদনকারী ১০ জনকে নিয়োগদিতে নির্দেশ দিয়ে ইউনিয়ন ভিত্তিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেনহাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ। ওই রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যেতাদের নিয়োগ দিতে বলা হয়। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহঅন্যরা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। ২০১৫ সালের ৭ মে তাখারিজ করে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহারনেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। পরে অধিদফতরের করা রিভিউ আবেদনও খারিজ করে দেয়া হয়।

সব আইনি লড়াইয়ে হেরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সম্প্রতি ওই ১০ জনকে নিয়োগ দেয়। এরমধ্যে একজন চাকুরিপ্রত্যাশী ইতোমধ্যে ইন্তেকাল করেছেন। বাকি ৯ জনের ২ জন অন্যচাকুরিতে যোগদান করেছেন। ৭ জন শেষ পর্যন্ত চাকুরিতে যোগদান করেছেন। এই ৭ জননওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বাসিন্দা।

এরপর গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর একই প্যানেলভুক্ত প্রায় ১০ হাজার জনের নিয়োগ প্রশ্নে রায়দেন হাইকোর্ট। এরা মোট ৩০১টি রিট আবেদনে আইনের আশ্রয় নেন। আবেদনকারী এসবসদস্যকে ৬০ দিনের মধ্যে নিয়োগ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত। সেইরায়ের সার্টিফাইড কপি সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতেপৌঁছেছে। এই বিষয়ে সর্বপ্রথম রিটকারী ১০ জনকে নিয়োগ দিলেও গত ১৭ সেপ্টেম্বর হওয়া
রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ফাইল দায়ের করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। কিন্তু ইতোমধ্যেইসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্যানেলভুক্ত সবাইকে নিয়োগ দেয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে হাইকোর্টে মামলার শুনানিকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর এক প্রতিবেদনে জানানোহয়, ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সদ্য জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে শূন্যপদের সংখ্যা ১৭ হাজার ৪৪৪টি। পাবর্ত্য তিন জেলা ছাড়া ৬১টি জেলায় ওই সময় পর্যন্তপ্যানেল থেকে ১০ হাজার ৪৯৭ প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগের অপেক্ষায় আছেন৩২ হাজার ১১৪ জন। এদের মধ্যে হয়তো অনেকেই চলে গেছেন অন্য চাকরিতে।

ওায় ঘোষণার পর প্যানেলভুক্ত শিক্ষক নেতা রজেল মিয়া, প্রবীন কুমার বিশ্বাস বলেন, এ রায়ের ফলে আমরা ও আমাদের পরিবারের সকলেই খুশি। আমাদের মাঝে স্বস্তির নি:স্বাশফিরিয়ে এসেছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: