সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

খেলা নয়, যেন ভেঙে যাওয়া জনসভা

khela-420160527153700ডেইলি সিলেট ডেস্ক::
শুক্রবার বিকেলের শেষপ্রান্ত। সকালে ভারি বৃষ্টি হয়েছে। গ্রীষ্মের অমন বৃষ্টির প্রভাব তখনও দৃশ্যমান। প্রাণ শীতল করা উদাস হাওয়ায় চিত্ত যে বেজায় ফুরফুরে, তা গোটা মাঠের পরিবেশই বলে দিচ্ছে।

খেলার মাঠ নাকি কোনো ভেঙে যাওয়া জনসভার পরমুহূর্ত, তা বলা মুশকিল। বিশাল মাঠের যে প্রান্তে চোখ যায়, সেখানেই খেলোয়াড়। কেউ ক্রিকেট খেলার ব্যাট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে, কেউ বল হাতে।

কেউ বল কুড়িয়ে আনছেন, আবার কেউ ব্যাট হাকাচ্ছেন। ধুম ধাড়াক্কা খেলার অায়োজন। গোটা মাঠের ক্রিকেটের অাধিক্য থাকলেও খেলা চলছে হরেক রকমের। ফুটবল, ভলিবলেও মেতেছেন কেউ কেউ। কে কোন খেলার খেলোয়াড়, তা অাঁচ করা কঠিন। কার স্ট্যাম্প কে তাক করে বল ছুড়ছেন, তাও বোঝা মুশকিল।

সবাই যেন সবার সহযোগী। কারো সঙ্গে কারো দ্বন্দ্ব নেই। বল গড়িয়ে যাচ্ছে অন্যের সীমানায়, তাতে কি হয়েছে? দ্বন্দ্ব করলে তো মাঠ ছাড়তে হবে। পাঠক বলছিলাম, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের পশ্চিমপাশের গোলেরটেক মাঠের কথা।

খোলা অালো-বাতাস বিহীন যান্ত্রিক নগরীতে অমন একটি মাঠ পাওয়া গেলে কার মন স্থির থাকে? এ মাঠের সবাই খেলোয়াড়, সবাই দর্শক।

বয়সের কোনো বাছ-বিচারও খাটছে না এখানে। বড়দের সঙ্গে শিশুরাও অংশ নিয়েছে। শিশুরা দৌঁড়াদৌঁড়ি করেই মাত করে দিচ্ছে পুরো মাঠ।

মানা হচ্ছে না খেলার কোনো বিধানও। নিজেরাই ইচ্ছমত বিধান তৈরি করে নিয়েছেন। বিধান মানলে তো একটি মাঠে অতগুলো টিমের খেলা চলে না। এক মাঠে অর্ধশত টিমের খেলা। প্রায় হাত মেপে জায়গা নিতে হয়েছে। অাবার কোনো কোনো টিমে দ্বিগুণ খেলোয়াড় অংশ নিয়েছে। অানন্দ যে কোনো নিয়ম বা বিধানের ফ্রেমে অাটকানো যায় না, তার প্রমাণ মিলল গোলেরটেক এই মাঠটিতে।

ব্যাট হাতে খেলতে এসেছেন, অাজিজুর রহমান মানিক। তিনি বলেন, সখের বশেই খেলতে আসা। সপ্তাহে একিদন সময় পাই। বন্ধুদের সঙ্গে এদিনটি এখানেই কাটাই। ভালো লাগে। আশে পাশে মার্কেট না থাকার কারণে প্রাণ খুলে নিশ্বাস নেয়া যায়।

অাজিজের সঙ্গী অাল অামীন বলেন, রাজধানীতে তো আর ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ নেই। আনন্দ বলতে বিকেলে এতটুকু খেলাধুলাই। মাঠটি আরো একটু পরিষ্কার রাখতে পারলে সুবিধা হতো।

মাঠের সীমানা প্রাচীরের গ্রীল ধরে এমন আনন্দময় খেলার মুহূর্ত উপভোগ করছেন সোহাগী অাক্তার। থাকেন মাঠ সংলগ্ন দারুস সালাম থানার পাশেই। বলছিলেন, `বিকেলে বের হতে মন চায়। কিন্ত কই যাবো। রাজধানীতে তো মন খুলে ঘুরে বেড়ানোর আর জায়গা নেই। তাই বিকেলে এখানেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করি। ভালো লাগে। গ্রামের কথা মনে পড়ে যায়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: