সর্বশেষ আপডেট : ২৬ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হাসিনা হাত বাড়ালেন, এবার পালা মমতার

216247_1নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো শেখ হাসিনার ইলিশ মনে করিয়ে দিচ্ছে কিসিঞ্জারের পিং পং কূটনীতিকে।হেনরি কিসিঞ্জারের পিং পং কূটনীতি একটা সময়ে সাড়া ফেলেছিল। কিসিঞ্জার তখন আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। ১৯৭১। সে বছর ১০ এপ্রিল আমেরিকার টেবিল টেনিস খেলোয়াড়দের একটি দল জাপান থেকে হংকং হয়ে চীনে যায়।–বাংলা ট্রিবিউন।

১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন আত্মপ্রকাশ করা থেকে পরবর্তী ২২ বছর আমেরিকা তার ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। মাও জে দংয়ের চীন যেন মার্কিন নাগরিকদের কাছে ছিল এক নিষিদ্ধ দেশ। সেই বরফ গলতে শুরু করল মার্কিন টেবিল টেনিস দলের ওই সফরের মধ্যে দিয়ে। কিসিঞ্জার ওই সফরে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। তিনিও সে বছর জুলাইয়ে চীনে যান। পরের বছর চীনে যান খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন। কিন্তু দু’দেশের কাছাকাছি আসা শুরু হয়েছিল সেই মার্কিন টেবিল টেনিস দলের সফরে। সেটাই পিং পং কূটনীতি। টেবিল টেনিস খেলা পিং পং বলেও পরিচিত। টেবিল টেনিসের বল খুবই ছোট। পিং পং কূটনীতির সাফল্য দেখে খোদ মাও জে দং বলেছিলেন, ‘একটা পুঁচকে বল বিশাল জগদ্দল পাথরকে নড়িয়ে দিল!’

এইভাবে অরাজনৈতিক বহু উপাদান ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে দু’দেশের সম্পর্ককে সহজ ও স্বাভাবিক করেছে। কিসিঞ্জারের পিং পং কূটনীতির ধাঁচেই যেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইলিশ কূটনীতি। তবে এ ক্ষেত্রে দু’টি দেশ নয়, একটি দেশ ও তার প্রতিবেশী দেশের একটি রাজ্যের সম্পর্ক। তা হোক, তবু দুই বাংলা তো!

আর কয়েক ঘণ্টা পরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে তার দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার রেড রোডে তার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মমতা আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। হাসিনা আসতে না পারলেও পাঠাচ্ছেন বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে। আর তার হাত দিয়েই উপহার পাঠাচ্ছেন ২০ কেজি ইলিশ, পদ্মার ইলিশ। যা পেতে মুখিয়ে থাকে পশ্চিমবঙ্গের আম বাঙালি।

মমতা বন্দোপাধ্যয়- শেখ হাসিনা

কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ইলিশ পাঠিয়ে শেখ হাসিনা আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটা বার্তা দিতে চাইলেন। সেটা হলো, পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ পাঠানোর ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ আছে, সেটা তিনি তুলে নেবেন এবং তারই প্রতীক হিসেবে ২০ কেজির এই ইলিশ উপহার। আর এর বিনিময়ে মমতাকেও তিস্তার পানি চুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। হাসিনা ইচ্ছে করলে মমতাকে নীল বা সবুজ পাড়ের, সাদা জমিনের ঢাকাই জামদানি পাঠাতে পারতেন। সে সব কিন্তু তিনি পাঠাননি। ইলিশই পাঠিয়েছেন।

গত বছর জুনে বাংলাদেশ সফরে গিয়ে হাসিনাকে মমতা হাল্কা মেজাজে অনুযোগ করেছিলেন, পদ্মার ইলিশ থেকে পশ্চিমবঙ্গবাসী বঞ্চিত হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেন বিষয়টি দেখেন। হাসিনাও পাল্টা, তবে হাসিমুখে উত্তর দিয়েছিলেন, তা হলে বাংলাদেশ যাতে তিস্তার পানি পায়, সেটাও দেখতে হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে।

কাজেই, মমতার আগামিকালের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ইলিশ উপহার পাঠিয়ে হাসিনা একটা প্রতীকী বার্তা পাঠাতে চাইলেন যে, পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ পাঠানোর ওপরে নিষেধাজ্ঞা তুলতে তার কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তিস্তার পানিচুক্তি যদি ভারত সরকার সম্পাদন করতে ফের উদ্যোগী হয়, তা হলে মমতাকেও তার পুরনো অনড় অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে।

প্রসঙ্গত, কল্যাণ রুদ্রের মতো পশ্চিমবঙ্গের নদী বিশেষজ্ঞরা বলে দিয়েছেন, তিস্তা চুক্তি হতে কোনও বাধা নেই, কিন্তু দু’বাংলাকেই জলের ব্যাপারে অযৌক্তিক চাহিদা পেশ করা চলবে ‌না। নদীতে ন্যূনতম, আবশ্যক জলের প্রবাহ বজায় রেখে তবেই জলের চাহিদা পেশ করতে হবে।

ইলিশ উপহার পাঠিয়ে হাসিনা এ ক্ষেত্রে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আগে, এ বার মমতার পালা।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: