সর্বশেষ আপডেট : ৩০ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাসিয়া নদীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু, টপ অব দ্যা বিশ্বনাথ!

2503162বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
বিশ্বনাথে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। এটি এখন টপ অব দ্যা বিশ্বনাথ। গত মঙ্গলবার ৫টি দোকান ঘর উচ্ছেদ করলেও এখনো অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা নদীর দু-পাড় দখলে করে রয়েছে। সাধারন মানুষের প্রশ্ন উচ্ছেদ করা হবে কি বাকি অবৈধ স্থাপনাগুলো ? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মনে! উপজেলা সদরের বাসিয়া নদীর দু-পাড় দখল মুক্ত হলে নদীটি ফিরে পাবে তার নতুন জীবন এমটাই ধারনা করছেন এলাকাবাসি।

বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের বাসিয়া নদীর দুটি পাড় অবৈধভাবে দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য স্থাপনা। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য অনেক দিন ধরে বিশ্বনাথবাসী দাবি জানিয়ে আসলেও অদৃশ্য কারণে এতোদিন উচ্ছেদ করা হয়নি এসব স্থাপনা। ভূমি অফিসের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ। অবশেষে গত মঙ্গলবার উপজেলা সদরের নতুন বাজারস্থ বাসিয়া নদীর পাড়ে অবৈধভাবে নির্মিত ৫টি দোকান ঘর উচ্ছেদ করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন নবাগত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল হক। বিশ্বনাথের সচেতন মহলের দীর্ঘদিনের দাবি এই উচ্ছেদের ফলে অনেকেই সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। আবার অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা বহাল রেখে ৫টি দোকান ঘর উচ্ছেদ করায় অনেকেই হতাশ রয়েছেন, প্রকাশ করেছেন ক্ষোভ। তবে স্বার্থভোগিরা ভূমি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লুটপাট ও ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ করেছেন।

এদিকে, ২০১৪ সালে সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে বিশ্বনাথ উপজেলা সদর পর্যন্ত বাসিয়া নদীর ১৮ কিলোমিটার খনন খনন করা সম্পন্ন করা হয়। ঐ সময়েও বিশ্বনাথবাসী নদী পারের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার দাবি জানালেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই নদী খনন কাজ সম্পন্ন করা হয়। অবশেষে বিশ্বনাথবাসীর দীর্ঘদিনে দাবি এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়েছে, যদি তা উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত না থাকে তাহলে প্রশ্নবিদ্ধ হবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এমনটাই মনে করছেন বিশ্বনাথের সচেতন মহল। তাই অভিযান অব্যাহত রেখে দ্রুত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন বিশ্বনাথবাসী।

জানা গেছে, বিশ্বনাথে প্রভাবশালীদের নেপথ্যে বিভিন্ন নদ-নদীর চর দখল করে দোকানঘর নির্মাণ অব্যাহত রাখার অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার আট ইউনিয়নের বিভিন্ন নদ-নদী-খালের চর দখল করে প্রভাবশালী মহল বিগত কয়েক বছর ধরে দোকানকোঠা,বাসাভাড়া নির্মাণ করে আসছেন। উপজেলায় বর্তমানেও সরকারি জায়গা দখলের মহা-উৎসব চলছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। উপজেলায় দুটি বড় নদী রয়েছে। একটি হল বাসিয়া নদী অপরটি মাকুন্দা নদী। উপজেলায় অসংখ্য খাল-বিল রয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার নামক স্থান থেকে ‘সুরমা নদী’ থেকে বাসিয়া নদীর উৎপত্তি হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার খাইকা নামক স্থানে ‘কুশিয়ারা নদীতে’ গিয়ে শেষ হয়েছে। বাসিয়া ও মাকুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪২ কিলোমিটার ও প্রস্থ প্রায় ৩০ মিটার। এরই মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার পুরো দখলে রয়েছেন। উপজেলা সদরের বাসিয়া নদীর প্রায় এক কিলোমিটার নদীর চর দখল করে শতাধিক দোকাঘর নির্মিত হয়েছে।

জানা যায়, নদীমাতৃক আমাদের এই বাংলাদেশে দিন দিন নদী-নালা, খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে “নদীমাতৃক পরিচয়টি ”হারাতে বসেছে তেমনি ভূমি খেকো মানুষজনও অবৈধ ভাবে এসকল জায়গা দখল করে গড়ে তুলছেন দোকানকোঠা। এসকল ভূমি খেকো মানুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্বনাথের বেশ কিছু প্রভাবশালীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নদীর চর দখল করে তাতে অবৈধভাবে অট্টালিকা বানাতে। কেউবা আবার বানাচ্ছেন রান্না ঘর, কেউবা গরু ঘর, কেউবা আবার টয়লেট, কেউবা আবার দোকান কোঠা।

সিলেটের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে বিশ্বনাথ উপজেলা অবস্থিত। এ উপজেলার আয়তন ২১৪৫০ বর্গ মিটার। ফসলী জমির পরিমান ১৭২০৫ হেক্টর। দুটি নদীসহ অসংখ্য খাল বিল রয়েছে। গত ১৫-২০ বছরে নদী ও খাল বিল গুলো ভরাট হওয়ায় ফসল উৎপাদন যেমন হ্রাস পেয়েছে তেমনি ভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা রয়েছে। বিশ্বনাথ উপজেলার ওপর দিয়ে দুটি নদী প্রবাহিত হয়েছে। একটির নাম ভাসিয়া নদী অপরটির নাম খাজাঞ্চি নদী (মাকুন্দা নদী) সিলেট সদর উপজেলার টুকের বাজারের সোজা দক্ষিণে সুরমা নদী হতে ভাসিয়া নদী উৎপত্তি হয়ে কামাল বাজার, মুন্সীর বাজার হয়ে উপজেলা সদরের ওপর দিয়ে কালিগঞ্জ বাজার হয়ে দেওকলস ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে কুশিয়ারা নদীতে সংযুক্ত হয়েছে। খাজাঞ্চি নদীটি লামাকাজি ইউনিয়নের পূর্ব প্রান্ত খাজাঞ্চিগাও গ্রামের নিকট সুরমা নদী হতে উৎপত্তি হয়ে রাজাগঞ্জ, বৈরাগী, সিংগেরকাছ লামাটুকের বাজার হয়ে জগন্নাথপুর উপজেলার রসুলগঞ্জ বাজার হয়ে কুশিয়ারা নদীতে পড়েছে। ১৯৯০ সালের পূর্ব পর্যন্ত এসব নদী দিয়ে বড় বড় নৌকা, লঞ্চ, স্টিমার যাত্রী ও মালামাল বহন করতো।

উল্লেখযোগ্য খাল গুলো হচ্ছে চরচন্ডিখাল, চান্দী খাল, পাকিচিরি ছৈলা খাল, উত্তর ধর্মধা, বৈরাগী খাল, কাইয়া কাইড় খাল, সোনালী বাংলা বাজার, লাকেশ্বর খাল, আমতৈল খাল, দশঘর চাউল ধনী হাওর খাল, নকি খালি খাল, বিশ্বনাথ রামধানা খাল, রামধানা কাদিপুর খাল, হাওরের মধ্যে চাল ধনী হাওর, নোয়াগাও হাওর, আমতৈল হাওর, রামপাশা হাওর। উপজেলার কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে জরুরী ভিত্তিতে পুরো বাসিয়া নদী ও খাজাঞ্চি মাকুন্দা নদী সদর উপজেলার চানপুরের সন্নিকটে সুরমা থেকে দক্ষিণ দিকে খাজাঞ্চিগাও পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার মরা সুরমা খনন এবং খাজাঞ্চি নদীর বিভিন্ন স্থানে ভরাটকৃত স্থান খনন, ভাসিয়া নদীর উৎপত্তি স্থল উপজেলা সদরের অংশ খনন, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, ভরাট হওয়ায় খালগুলো খনন করা একান্ত প্রয়োজন।

নদী-নালা, খাল-বিল ভরাটের পর আবার ভূমি খেকো এ মানুষ গুলোর কারন বিশ্বনাথের প্রান কেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া এককালের খরস্রোতা বাসিয়া নদী কালের বিবর্তনে এখন তার ঐতিহ্য হারিয়ে যেন এখন একটি ছোট খালে পরিনত হয়েছে। এক সময় যে নদী দিয়ে স্রোত বয়ে যেত, সে নদী দিয়ে এখন পায়ে হেঁটে পার হওয়া যায় অতি সহজেই। মাটি ভরাটের সঙ্গে সঙ্গে প্রভাবশালীরা নদীর চর দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা বাড়ীর জন্য নির্মান করছেন বড় বড় অট্রালিকা। গত ১৫-২০ বছর আগেও বাসিয়া নদীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পালের নৌকাসহ বড় বড় নৌকা, লঞ্চ, ষ্টিমার দেখা গেলেও এখন আর এসব দেখা যায়না। উপজেলার রাজাগঞ্জবাজার দিয়ে বয়ে যাওয়া মাকুন্দা নদীও ভূমিখেকোদের দখলে চলে যাওয়ার কারনে মাকুন্দা নদী আজ বিলিন হয়ে যাওয়ার পথে।

বিশ্বনাথে সর্ববৃৎহ চরচন্ডীর খালকে আজ ছোট ড্রেইনে পরিণত হয়েছে। চরচন্ডী খালটি দীর্ঘ দিন ধরে ভূমিখেকোদের দখলে থাকার কারনে এর তীরে প্রভাবশালীরা বাসা-বাড়ী-দোকান ঘর নির্মান করে চলছেন অবাধেই। এক সময় এই খাল দিয়ে নৌকার মাধ্যমে জগন্নাথপুর ও ছাতক থানা থেকে বিশ্বনাথে টাটকা সবজি আমদানী করা হলেও বর্তমানে এখন আর সেই সুযোগ নেই। যার ফলে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, অন্যদিকে টাটকা সবজি খাওয়া থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। খালটি অর্ধেক দখল করে বসে আছে ভুমিখোকোরা।

নবাগত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল হক বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এরজন্য তিনি সকল মহলের সহযোগীতা কামনা করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: