সর্বশেষ আপডেট : ২৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘চউখর পলকের লগে সবতা পুড়িয়া ছাই অই গেলো’

f65f7709-454d-4e69-aa41-75213fbbd02dবড়লেখা প্রতিনিধি:
‘চউখর পলকের লগে সবতা পুড়িয়া ছাই অই গেলো। ঘরো আর ঢুকতে পারলাম না, নিতাম পারলাম না কোনতা। পরনে একটা কাপড় ছাড়া এখন আর কোনতা নাই। ছেলেমেয়ের পড়ার বইগুলাও পুড়ি গেছে। এখন কিলা খাইতাম, কিলা বাঁচতাম। কই থাকতাম চিন্তায় শেষ অই যাইয়ার।’

পোড়া ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মৌলভীবাজারের বড়লেখা সদর ইউনিয়নের জফরপুর গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা মিনারা বেগম। আগুনে ঘরের সাথে পুড়ে গেছে তার পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও। জফরপুর গ্রামে ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নির্মিত এ আশ্রয়ন প্রকল্পে গত ২২ মে দিবাগত রাতে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে মিনারা বেগমের মতো আরও ৯টি পরিবারের ঘর পুড়েছে। পুড়েছে অর্ধশতাধিক হাঁস-মুরগি, ৮টি ছাগল, ধান-চাল, টাকা ও আসবাবপত্র।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে আশ্রয়ন প্রকল্পে গিয়ে দেখা গেছে, মিনারা বেগমের মতো অন্যরাও পুড়ে যাওয়া জিনিসপত্র নেড়ে-ছেড়ে দেখছেন আর কাঁদছেন। শুধু মিনারা নয়, আগুনে পুড়েছে রহিম উদ্দিন, সফিক উদ্দিন, হোছনা বেগম, আছমা বেগম, হারিছ আলী, বিলকিছ বেগম, সালেহা বেগম, রেহানা বেগম ও আমির হোসেনের ঘরও। সঙ্গে বেঁচে থাকার সম্বলও। তেমনি একজন হারিছ আলী। তার হাঁস-মুরগি, নগদ টাকা ও আসবাবপত্র পুড়েছে। অগ্নিদগ্ধ হয়েছে ২ বছরের শিশুপুত্র তোফায়েল আহমদ। সে বর্তমানে উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আশ্রয়নের আরেক বাসিন্দা রহিম উদ্দিন জানালেন, আগুনে ঘরে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। ঘরে যেসব কাপড় ছিলো তার একটাও নিতে পারেননি।

গত ২২ মে রাতে জফরপুর গ্রামের গুচ্ছগ্রামে স্থাপিত আশ্রয়ন প্রকল্পে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১০টি বসতঘরের সাথে অর্ধশতাধিক হাঁস-মুরগি, ৮টি ছাগল, ধান-চাল, টাকা ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আশ্রয়ন প্রকল্পের ৭ নম্বর ঘর থেকে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। অগ্নিকা-ের সময় সবাই শবে বরাতের নামাজ আদায় করছিলেন। এদিকে সোমবার সদর ইউপি চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদের ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রত্যেককে ৫০ কেজি করে চাল ও ৪ কেজি করে ডাল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন বাড়ি থেকে নগদ টাকা, কাপড়সহ জিনিসপত্র সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য আলা উদ্দিন, মঈন উদ্দিন, আজিজ আহমদ প্রমুখ।

সদর ইউপি সদস্য আলা উদ্দিন ও মঈন উদ্দিন জানান, ভূমিহীন পরিবারগুলো অগ্নিকা-ে বসতঘরসহ সবকিছু হারিয়ে নি:স্ব হয়ে গেছে। আমরা এলাকার প্রত্যেকটি বাড়ি থেকে নগদ টাকা, কাপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করে তাদের দিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয়ও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাসও দেয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: