সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড : অভিযোগের অন্ত নেই ভুক্তভোগীদের

Mbazar pawbu news daily sylhetজালাল আহমদ::
বর্ষ মৌসুমের শুরুতেই মৌলভীবাজার জেলার কয়েকটি নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাইবো) এর কর্মকর্তাদের ওপর স্থানীয়দের অভিযোগের অন্ত নেই। সরেজমিন ভাঙনকবলিত বাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে পাউবো’র কর্মকর্তারা পড়েছেন স্থানীয়দেও তোপের মুখে।

শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয়রা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামতের অভিযোগ দিলেও আমলে নেন না তারা। আর বর্ষায় নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙনের খবর পেলে তোড়জোড় চলে মেরামতের। উদ্দেশ্য একটাই লোক দেখানো। কাজের পুরো বরাদ্দ পকেটস্থ করা।

মৌলভীবাজারের পাউবো’র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ জেলার নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন থেকে জুড়ী, কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও মৌলভীবাজার উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ থাকা নদীগুলোর মধ্যে জুড়ী, কন্টিনালা, মনু, ফানাই, ধলাইসহ অনান্য নদী ও পাহাড়ি ছড়াগুলো খনন কিংবা মেরামতের জন্য বারবার পাউবো অফিসে ধর্ণা দিয়েও কোনো কাজ হয় না। বরাদ্দ নেই এমন অভিযোগে সান্তনা দিলেও প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বর্ষা মৌসুমে বন্যাকবলিত হলে তখন মেরামতের জন্য শুরু হয় তাদের দৌঁড়ঝাঁপ আর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ।

সম্প্রতি জেলার জুড়ী নদীর ভাঙনকবলিত প্রতিরক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে গেলে পাউবো’র কর্মকর্তারা পানিবন্দী দুর্ভোগগ্রস্তদের তোপের মুখে পড়েন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণেই বাঁধ ভেঙে উপজেলার অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তাদের দাবি, সময় মতো মেরামত কাজ করা হলে তারা হঠাৎ এমন দুর্ভোগে পতিত হতেন না।

স্থানীয়রা জানান, গেলো সপ্তাহে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জুড়ী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। ওই সব স্থান দিয়ে পানি ঢুকে অন্তত ৩৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন।

এদিকে কুলাউড়ার কর্মধা, রাউৎগাঁও ও ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়ন দিয়ে বয়ে যাওয়া ফানাই নদীর ৩টি স্থানে ভাঙনে কর্মধা ইউনিয়নের হাসিমপুর, বাবনিয়া, মহিষমারা; রাউৎগাঁও ইউনিয়নের কবিরাজী, ভবানীপুর, মুকুন্দপুর ও জয়চ-ী ইউনিয়নের গোগালী নদীর বাঁধটি একাধিক স্থানে ভাঙনের ফলে লামাপাড়া, কামারকান্দি, দানাপুর; কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের শঙ্করপুর, জনতাবাজার, লক্ষ্মীপুর ও প্রতাবী গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ আকষ্মিক বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, সম্প্রতি নদীর বাঁধ ভাঙনের খবর পেয়ে মৌলভীবাজার পাউবো’র কয়েকজন কর্মকর্তা জুড়ীর জায়ফরনগরের কয়েকটি গ্রামে ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় লোকজন তাদের দেখে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। খবর পেয়ে জনপ্রতিনিধিরা ছুটে গিয়ে স্থানীয় উত্তেজিত লোকদের নিবৃত্ত করেন। এ সময় পাউবো’র কর্মকর্তারা জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাঁধগুলো মেরামতের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান গুলশান আরা মিলি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: