সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে শতাধিক পরিবার, নবীগঞ্জে কামার শিল্পের দুর্দিন

kamar shilpo daily sylhetমতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ:
এখন আর আগের মতো কামারের হাতুড়ির টং টং শব্দে সকাল বেলায় পতিবেশির ঘুম ভাঙে না। যেখানে এক সময় টং টং শব্দ করতো সেখানে আজ বিরাজ করছে নীরবতা।

লোহার মূল্য বৃদ্ধিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে নবীগঞ্জে কামার শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে।

প্রয়োজনের তুলনায় চাহিদা কম ও কামারদের তৈরি সামগ্রীর তুলনায় আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন কোম্পানির স্টিলের তৈরি সামগ্রী সস্তা দামে বিক্রি করায় তাদের দীর্ঘদিনের বংশানুক্রমিক এ পেশা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। যে কারণে কেউ কেউ এখন অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় কামাররা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। কয়েকশতাধীক কামার পরিবারে নেমে এসেছে দুর্দিন। অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে কামার সম্প্রদায় তাদের পৈতৃক পেশায় নবীগঞ্জে এখনো কোনো রকমে টিকে আছে কয়েকটি পরিবার।

নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের মধ্যবর্তী একটি গ্রামের নাম কামারগাঁও। তার পার্শ্বেই অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কামারগাঁও বাজার। কামার শিল্পকে ঘিরে ওই বাজারের নাম করন করা হয়েছিলো কামারগাঁও বাজার। কামারগাঁও বাজারের কামারীদের সুনাম ও ছিলো জেলা জুড়ে। সেখানে প্রায় ৪/৫ যুগ পূর্বে শুধু কামারদের উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠে এ বাজার। এবং সে সময় কয়েকশত কামারী পরিবার কামার শিল্প পেশায় নিয়োজিত ছিলো। তারা এতো দক্ষ ছিলো যে নিখুত ও উন্নত মানের সাংসারিক জীবনের ব্যবহারর্য্য লোহার জিনিস ক্রেতার চাহিদা মতো তৈরী করে দিতেন। জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সৌকিন লোকজন দা, কোরাল, খন্তা, চুরি, চাকু, সরতা, মাছ মারার হাতিয়ারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় লোহার জিনিস তৈরী করে নিতেন কামারগাঁও বাজার থেকে।

কিন্তু নানা সমস্যা ও প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, মূল্য বৃদ্ধি, চরম আর্থিক সংকট ও তৈরি পণ্যের চাহিদা কমসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। কয়েকেশত পরিবারের দিন কাটছে অতি দুঃখ-কষ্টে। মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কামারগাঁও এলাকার কামার শিল্পে জড়িত অনেক শ্রমিকই এখন এ পেশা বদলিয়ে অন্যান্য পেশায় জড়িয়েছেন। বর্তমানে হাতে গুনা কয়েকটি পরিবার কামার শিল্প পেশাকে আজো আকরে রেখেছেন। যারাই আছেন তারাও আর্থিক সংকটের জন্য বিকল্প পেশা খুঁজছেন। তাদের প্রয়োজনীয় পুঁজি নেই। কারন এখন আর আগের মতো ক্রেতা আসেন না এ বাজারে। বর্তমানে ৩ টি দোকানই আছে বাজারে। এবং বাজারের নিকটে একটি বাড়িতে কামার ফনিভূষন দেব ছোট্র একটি ঘরে আজো আকরে রেখেছেন বাপ-দাদার বংশগত এ পেশা।

কামার ফনিভূষন দেব এ প্রতিবেদককে জানান, প্রায় ৪০/৪২ বছর যাবত এ পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। তার পরবর্তী হাল ধরে রাখার মতো লোক নেই। যারা আছেন তারাও আর্থিক সংকটে আছেন। কোন দপ্তর থেকে আর্থিক কোনো সহযোগীতা গেলে তাদের ব্যবসা আরো জমজমাট হতো। পূর্বের চেয়ে বর্তমানে লোহার দাম বেড়ে যাওয়া ব্যবসা মন্দার প্রধান কারন।

কামারগাঁও বাজারে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার প্রায় কয়েক হাজার লোকের সমাগম ঘটে। পরিতাপের বিষয় যাদেরকে অনুসরন করে বাজারের নাম করন করা হয়েছিলো কামারগাঁও বাজার, আজ কালের বিবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে কামারগাঁও বাজারের কামার শিল্প ও প্রাচীন বাজারের ঐতিহ্য।

এছাড়াও কামারের তৈরি সামগ্রী চাহিদা অগের তুলনায় কমে যাওয়া এবং আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন কোম্পানির স্টিলের তৈরি কোদাল, খুন্তি, হাতুড়ি, চাকু ইত্যাদি বাজারে সয়লাব ও স্বল্প মূল্যে পাওয়া যায়, এতে কামারদের কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে।

সন্তানদের এ পেশার বদলে মুদি, সেলুন ব্যবসাসহ বিভিন্ন পেশা শেখাচ্ছেন কামাররা। তা ছাড়া সারাদিন আগুনের পাশে বসে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। কামার পেশায় কাজ করে চোখের সমস্যা, কোমর ব্যথা, হার্ট, কানের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়।

কামাররা জানান, কামার শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারিভাবে সুদমুক্ত ঋণসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন। কামারদের জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চল, উপজেলা শহরে নির্দিষ্ট জায়গা ও কয়লার বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা করার জন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থার এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: