সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে ঝুমা-জয়নালের প্রেম বিরহ নিয়ে তোলপাড়

15543_b8ডেইলি সিলেট ডেস্ক: সিলেটে নাটক থেকে বাস্তব জীবনের জুটি ঝুমা ও জয়নালের প্রেম-বিরহ নিয়ে তোলপাড় চলছে সিলেটে। শোবিজ অঙ্গনে এই দুইজনের কথা এখন মুখে মুখে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জয়নাল কারাগারে। আর বাইরে থেকে প্রতিশোধের নেশায় মেতে উঠেছেন ঝুমাও। ঠিক ৬ মাস আগে ঘটনাটি ছিল উল্টো। ঝুমা ছিলেন কারাগারে। আর বাইরে থেকে কলকাঠি নেড়েছিলেন জয়নাল। তবে, জয়নালের আঁচড়ে ঝুমার পরিবার অনেকটা লণ্ডভণ্ড।–মানবজমিন।
ঝুমাও হয়ে গেছেন বিতর্কিত। তার গোপন কু-কীর্তি প্রকাশ করে বিশ্বাস ভঙ্গকারী জয়নালও শাস্তি ভোগ করছেন। তারা ছিলেন সিলেটি নাটকপাড়ার বেশ উদীয়মান দুই শিল্পী। ঝুমার বাড়ি কোম্পানীগঞ্জ হলেও বাবার সঙ্গে তারা সিলেট শহরে বসবাস করছেন অনেকদিন ধরে। ঝুমা আক্তার ঝুমি হিসেবেই সিলেট শহরে রয়েছে ঝুমার পরিচিতি। তারা দীর্ঘ দিন বসবাস করেছেন সিলেট নগরীর শেখঘাট এলাকায়।
জয়নালের আগে ঝুমার আরেক স্বামী ছিল। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন রেখেই ঝুমা ডিজে পার্টিতে হয়ে উঠতেন মধ্যমণি। সিলেটের বিলাসী লন্ডনিদের বাংলোতে জলসার আসরে রাতের পর রাত অতিবাহিত করেছেন ঝুমা। আর এসব ঘটনায় তার পরিবার কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। স্বামী এসবের প্রতিবাদ করায় তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন ঝুমা। প্রায় ৪ বছর ধরে সুন্দরী ঝুমা সিলেটের ‘ডিজেকন্যা’ হিসেবে অনেকটা পরিচিতি পায়। ‘ডিজেকন্যা’ থেকেই তার ডাক পড়ে মডেলিংয়ে। সিলেটের আঞ্চলিক নাটকের অনেকেরই চোখ পড়ে ঝুমার ওপর। এ কারণে খুব সহজেই ঝুমার ডাক পড়ে আঞ্চলিক ভাষার নাটকেও। তেমনি ভাবে প্রায় আড়াই বছর আগে সিলেটে নির্মিত হয় ‘বুড়ো মিয়া’ নাটক।
এই নাটকের মাধ্যমেই জয়নাল আবেদীন পলাশের সঙ্গে পরিচয় ঝুমার। সেই থেকে প্রেম শুরু। কিন্তু জয়নাল স্বস্তি দেননি ঝুমাকে। নাটকে অভিনয় থেকে ঝুমার সঙ্গে সম্পর্কের গাঢ়তার অনেক দূর পর্যন্ত গড়ায় জয়নালের। ওই নাটকের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন কলাকুশলী জানিয়েছেন, ঝুমা ও জয়নালের অবাধ মেলামেশার কারণে নাটকের শুটিং চলাকালে তারা আলোচনায় আসে। এবং ঝুমাও ছিল অনেকটা বেপরোয়া। এ কারণে তার দাপটের কাছে অনেকেই ছিলেন অসহায়। জয়নাল ঝুমাকে আরো কাছে পাওয়ার তাগিদে ঝুমার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ায়।
এক এক করে জয়নাল পরিবারের সব সদস্যকে বশে আনে। এমনকি ঝুমার স্বামী কখনও ঝুমাকে ডিভোর্স দিতে চাননি। তিনি বার বার ঝুমাকে বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালান।
এক সময় তাকে পুলিশি ঝামেলার মুখেও পড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত জয়নালের প্ররোচনায় ঝুমা স্বামীকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন। জয়নালও বাস্তব জীবনে কম অভিনয় করেননি। ঝুমার কাছে নিজেকে তুলে ধরেন একজন লন্ডনপ্রবাসী হিসেবে। ঝুমাকে বিয়ে করে লন্ডনে নিয়ে যাবেন বলেও কথা দিয়েছিলেন। আর জয়নালের সেই আশ্বাসে মজে গিয়েছিলেন ঝুমাও। স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে জয়নালের সঙ্গে ঘর সংসার শুরু করেন। ওদিকে, জয়নাল ওখানে ইতি ঘটাননি নাটকের।
প্রায় ৬ মাস আগে ঝুমা গ্রেপ্তারের সময় সিলেটের কোতোয়ালি থানায় জয়নাল সম্পর্কে অনেক কথাই বলেছিলেন। জয়নালের সঙ্গে ঝুমা ছাড়াও খাতির জমেছিল ঝুমার ভাবীর। তাদের সম্পর্কও বিছানা পর্যন্ত গড়ায়। এ কারণে ঝুমার ভাবী সবসময় জয়নালের দেখানো পথেই চলতেন। ভাবীর পর জয়নালের চোখ পড়ে ঝুমার ছোটো বোনের উপর। ওই বোনটি ছিল অবিবাহিতা। বয়সও বেশি হয়নি। তার সঙ্গেও গোপন সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চালায়। আর এতে বাধা হয়ে দাঁড়ান ঝুমা। নিজের বোনের সম্ভ্রম রক্ষার্থে তিনি প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিলেন। এ নিয়ে জয়নালের সঙ্গে বিরোধ শুরু হলে ভাবীকে দিয়ে মামলা করিয়ে ঝুমাকে গ্রেপ্তার করায় জয়নাল। মা, ভাই সহ ঝুমা কারাগারে গেলে জয়নাল শ্যালিকাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। এরপর থেকে শ্যালিকার দেখভালের দায়িত্ব পালন করেছেন জয়নাল নিজেই।
আর তিন মাস জেল খেটে এসে ঝুমা সেই প্রতিশোধের জাল বুনেছিলেন। জয়নালকে শিক্ষা দিতে হবে- এমন পণও করেছিলেন তিনি। কারাগার থেকে বেরিয়ে জয়নালের কাছেই ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। জয়নালও ঝুমাকে কাছে টেনে নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ফের তাদের বিরোধ বাধে। ঝুমার ওপর জয়নাল চালায় অমানুষিক নির্যাতন। আর এতেই পুরো বিরোধ আবার তেতে উঠে ঝুমার। করেন নারী নির্যাতন মামলা। আর এই মামলায় কারাগারে এখন জয়নাল। মামলা এখন একটা নয়। পুলিশ জানিয়েছে, জয়নালের বিরুদ্ধে নারী প্রতারণার আরো অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও একাধিক নারী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন থানায়। সব ঘটনায়ই হচ্ছে প্ররোচনার মাধ্যমে সম্ভ্রমহানির।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: