সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বীথির চোখে আশার আলো, মুখ থেকে লোম অপসারণ

wডেইলি সিলেট ডেস্ক:
অদ্ভুত রোগে আক্রান্ত ১২ বছর বয়সী কিশোরী বীথি আক্তারের (১২) মুখের অতিরিক্ত লোম লেজার থেরাপির মাধ্যমে অপসারণ শুরু হয়েছে। এতে তার লোমশ মুখের অবস্থা আগের তুলনায় অনেক মসৃণ হয়ে উঠেছে।

কিশোরী বীথি আক্তার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) অ্যান্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস ও হরমোন) বিভাগের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসক অধ্যাপক মো. ফরিদ উদ্দিন এর অধিনে চিকিৎসাধীন আছে।

বীথির বর্তমান অবস্থা নিয়ে ডা. ফরিদ উদ্দিন জানান, ভর্তির পর পরীক্ষা করে তাঁরা দেখতে পান বীথির হরমোনজনিত কোনো সমস্যা নেই। তার জরায়ু ঠিক অবস্থা রয়েছে। শরীরের হাড়সহ অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিকঠাক রয়েছে। মূলত তিনটি সমস্যা ছাড়া পুরো শরীরে আর কোথাও কোনো সমস্যা নেই।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়টির চিকিৎসকরা বোর্ড মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেন বীথির কসমেটিক সার্জারি করে প্রথমেই মুখের পশম সরাতে হবে। সেই হিসেবে প্রথম ধাপে লেজার থেরাপি করা হয়। এই থেরাপিতে চিকিৎসকরা সাফল্য পেয়েছেন বলে জানান ডা. ফরিদ উদ্দিন।

বীথির বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিনা মূল্যে চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

শুরুতে গত সোমবার সন্ধ্যায় পান্থপথ গ্রিন রোডে চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. এম ইউ কবীর চৌধুরী লেজার থেরাপির মাধ্যমে বীথির মুখের লোম পরিষ্কার করেন।

এ বিষয়ে ডা. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘ডা. এম ইউ কবীর চৌধুরী আমাদের অনুরোধে প্রায় দেড় লাখ টাকার এই লেজার থেরাপি বিনা মূল্যে করে দেন। এ ছাড়া ডাক্তার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সমাজের অনেক বিত্তবান লোক আপনাদের সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বীথির পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।’

এই চিকিৎসক আরো বলেন, ‘আগামী ৩০ মে বীথির স্তনের অপারেশন করা হবে। এর জন্য প্রায় ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা খরচ হবে। তবে এ চিকিৎসা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ বিনা খরচে করে দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মন্ত্রী আর্থিক সহযোগিতা করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। এর পরই আমরা মুখের মাড়ির অপারেশন করব। এ ছাড়া বীথির সিটি স্ক্যানসহ তার পুরো শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাও ফ্রিতে করা হয়েছে।’

বীথির বাবা আবদুর রাজ্জাক জানান, বিএসএমএমইউর চিকিৎসকরা বীথিকে চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. এম ইউ কবীর চৌধুরীর কাছে নিয়ে যেতে বলেন।

আবদুর রাজ্জাক বলেন, প্রফেসর কবীর চৌধুরী জানিয়েছেন বীথিকে অন্তত ২০ বার থেরাপি দেওয়া লাগবে। প্রথম থেরাপির ২০ দিন পর তাকে আবার থেরাপি দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) অ্যান্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস ও হরমোন) বিভাগের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে বীথিকে ভর্তি করা হয়।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার জয়ভোগ গ্রামের দরিদ্র মটরসাইকেল চালক আব্দুর রাজ্জাকের বড় মেয়ে বীথি আক্তার। জয়ভোগ পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সে। ১২ বছর বয়সী এই কিশোরী অদ্ভূত এক রোগে আক্রান্ত। জন্মের পর থেকেই বড় বড় পশম গজায় তার সারা দেহে। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহ ছাপিয়ে তা মুখেও গজিয়েছে।

গত এক বছর ধরে বীথির শরীরে দেখা দেয় নতুন নতুন সমস্যা। তার স্তন অস্বাভাবিকভাবে বড় হতে থাকে। এখন তা নেমে গেছে পেটের নিচ পর্যন্ত। স্তনের ভারে সোজা হয়ে হাঁটতে পারে না সে। প্রচণ্ড ব্যথার যন্ত্রণায় চিৎকার করে সবসময় কান্নাকাটি করে সে। দিনমজুর বাবা মেয়ের কষ্ট আর সহ্য করতে না পেরে ঋণ করে মেয়েকে নিয়ে আসেন ঢাকায়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: