সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভারতের মেয়েরা বিক্রি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে!

141128143153_rural_women_andhra_pradesh_640x360_psainath_nocreditআন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের একজন মন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, তার রাজ্য থেকে মেয়েদের উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিয়ে গিয়ে ‘দোকানের পণ্য’র মতো বিক্রি করা হচ্ছে। অন্ধ্রের অনাবাসী ভারতীয় দফতরের মন্ত্রী পাল্লে রঘুনাথ রেড্ডি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে লেখা এক চিঠিতে আরও দাবি করেছেন, এই অসহায় মহিলাদের অবিলম্বে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অন্ধ্র ও তেলেঙ্গানা থেকে বহু মহিলা মধ্যপ্রাচ্যে কাজের সন্ধানে গিয়ে চরম বিপদে পড়ছেন বলে অ্যাক্টিভিস্টরাও অভিযোগ করছেন, কেউ কেউ এ জন্য আবার ভারত সরকারের মানসিকতাকেও দায়ী করছেন।

আসলে ভারতের নানা প্রান্ত থেকে গরিব ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েরা কাজের সন্ধানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে গিয়ে প্রায়শই বিপদে পড়েন – এই অভিযোগ নতুন নয়।

কিন্তু অন্ধ্রের ওই মন্ত্রী ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লেখা তার চিঠিতে এই মেয়েদের দুর্দশার যে বর্ণনা দিয়েছেন তা চমকে দেওয়ার মতো।
পাল্লে রঘুনাথ রেড্ডি বলছেন, অন্ধ্র ও তেলেঙ্গানা থেকে অসহায় মেয়েদের নিয়ে গিয়ে দোকানের পণ্যর মতো বেচা হচ্ছে – আর ক্রেতারা দরদাম করে তাদের কিনে নিচ্ছেন।

হায়দ্রাবাদে এই ধরনের পরিবারগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেন মজলিস বাঁচাও তেহরিকের নেতা আমাজাদউল্লা খান, তিনিও মনে করেন এই বক্তব্য হয়তো অতিশয়োক্তি নয়।

তিনি বলছিলেন, মোটা মাইনের টোপ দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে তাদের নিয়ে যাওয়ার পরই পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

‘তাদের বাবা-মাও তাদের ফোন করতে পারেন না, আর তাকে হয়তো কোনও প্রত্যন্ত জায়গায় নিয়ে গিয়ে একা কোনও কামরায় আটকে রাখা হয়, নির্যাতন চালানো হয়। বছরের পর বছর তার পরিবার জানতেও পারে না সে বেঁচে আছে, না মরে গেছে।’

চরম অত্যাচার থেকে পালিয়ে বাঁচতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন – এবং সেই অসহায় মহিলাদের জেলে ঠাঁই হয়েছে, এমন ঘটনা অজস্র।
কিন্তু বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান – এই ছটি উপসাগরীয় দেশের জেলে এমন ভারতীয় মহিলার সংখ্যা ঠিক কত, ভারতের কাছে তার কোনও পরিসংখ্যানই নেই।

নারী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে ভারতে বহুদিন আন্দোলন করছেন বামপন্থী নেত্রী বৃন্দা কারাট, তিনি এই নিষ্ক্রিয়তার জন্য ভারতের বর্তমান সরকারকেই দায়ী করছেন।

বৃন্দা কারাট বলছিলেন, ‘অনাবাসী ভারতীয়দের কল্যাণের জন্য যে মন্ত্রণালয় ছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার তো সেটাই উঠিয়ে দিয়েছে। আমাদের মেয়েরা গাল্ফ কান্ট্রিগুলোতে, এমন কী আমেরিকাতে কাজে গিয়েও শোষণের শিকার হচ্ছে – অথচ তাদের সাহায্য করার জন্য সরকারের বিভাগটাই উঠে গেছে!’
এই সব অত্যাচারের অভিযোগগুলো নিয়ে অবিলম্বে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের কথা বলা উচিত বলেও মিস কারাট অভিমত প্রকাশ করছেন।
উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ভারতীয় শ্রমিকরা আর একটা অভিযোগ করেন – তাদের দু:খ-দুর্দশা বা অত্যাচারের অভিযোগে স্থানীয় ভারতীয় দূতাবাসকে কখনওই পাশে পাওয়া যায় না।

তিনি মনে করেন, এর পেছনেও আছে ভারত সরকারের একচোখো দৃষ্টিভঙ্গী। কারণ, ‘সরকার এনআরআই বলতে শ্রমিক এনআরআইদের বোঝে না, বোঝে কেবল মোটা মাইনের পেশাদার এনআরআইদের’!

‘যদিও শ্রমিকরাই ভারতে পেশাদারদের তুলনায় অনেক বেশি রেমিট্যান্স পাঠান – তারপরেও একটা শ্রেণীগত দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে সরকার কখনও তাদের অধিকার রক্ষা করার জন্য চেষ্টা চালায় না’, বলছিলেন মিস কারাট।

দোকানের পণ্যের মতো কোথায় কীভাবে ভারতীয় মেয়েদের বেচাকেনা চলছে, অন্ধ্রের মন্ত্রী চিঠিতে তার বিশদ কোনও বিবরণ দেননি।
কিন্তু সংশ্লিষ্টজনদের বর্ণনায় তাদের দুর্দশার যে করুণ ছবি উঠে আসছে – তা দোকানে বিক্রি হওয়ার চেয়ে কোনও অংশে কম নয়।
সূত্র: বিবিসি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: