সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কমলগঞ্জে জমে উঠেছে প্রার্থীদের প্রচারণা: ৫টিতে আ’লীগ-বিএনপি ও ৪টিতে স্বতন্ত্র-আ’লীগ-বিএনপি লড়াই

up nirbachon kamalganj daily sylhetমো. মোস্তাফিজুর রহমান::
মৌলবীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীদো প্রচার-প্রচারনায় শেষ মুহুুর্তে জমে উঠেছে নির্বাচন। দলীয় প্রতিক হওয়ায় প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলের মর্যাদার লড়াই নেমে পড়েছেন। সকাল থেকে রাত, বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। চলছে গণসংযোগ, পথ সভা ও উঠান বৈঠক। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে গোটা এলাকা। চলছে মাইকিং। নানা রঙ আর ঢঙে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা প্রার্থীদের সম্পর্কে নানা বয়ান তুলে ধরছেন ভোটারদের সামনে। আর ভোটাররাও প্রার্থীদের অতীত আর বর্তমান নিয়ে চুলচেরা বিচার-বিশ্লেষণ করছেন। তাদের মূল্যবান রায় দেয়ার ক্ষেত্রে তারা এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সন্ত্রাস, কালোটাকা, পেশীশক্তির ব্যবহার, রাজনীতির মাঠে দুর্দিনের সাথী, চোরাচালানি, মাদক ব্যবসা ইত্যাদি নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সঙ্গে প্রার্থীদের যোগসূত্র আছে কিনা, নির্বাচনের পর প্রার্থীরা নিজের ভাগ্যোন্নয়নে কে কি করতে পারেন ইত্যাদি বিষয়গুলোও আলোচনা হচ্ছে ভোটের মাঠে।

উঠে আসছে তাদের আচার-আচরণ থেকে শুরু করে চরিত্রের নানা দিক। সব কিছু মিলে ইউপি নির্বাচনের চুল-চেরা বিচার-বিশ্লেষণ করছেন ভোটার, প্রার্থী ও তাদের কর্মী- সমর্থকরা। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান,সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্ধিতাকারী প্রাথীরা কোমর বেধেঁ মাঠে নেমে পড়েছেন। দিন রাত বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাড়ি বাড়ি ছুটে চলেছেন ভোটারদের মন জয় করতে। তারা নানা কৌশলে ও কথা মাধ্যমে ভোটারদেও দৃষ্টি কাঁড়ার চেষ্টা করছেন। দলীয় প্রতিক থাকায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা প্রেষ্টিজ ইস্যূ মনে করছেন্। দলীয় নেতাকর্মীরা মাঠ দখলের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। মাইকের প্রচারপ্রচারনায় ভোটাররা অতিষ্ট। অনেকইে আচরণ বিধি না মেনে প্রচারনা চালাচ্ছেন।
কমলগ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭শত ৮৮জন ভোটার আগামী ২৮ মে তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে ৯জন চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন। কিন্তু মাঠে লড়াই করছেন ৩৭ জন প্রার্থী। ৫ টিতে আ’লীগ-বিএনপি ও ৪ টিতে স্বতন্ত্র- আ’লীগ-বিএনপি লড়াই মধ্যে জোর লড়াই হবে বলে ভোটাররা অভিমত ব্যক্ত করেন।

 
১ নং রহিমপুর ইউনিয়নঃ
উপজেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এ ইউনিযনে ২৩ হাজার ১৯৬। চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। তারা হলেন তিন বারের বর্তমান চেয়ারম্যান সাবেক চীফ হইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপির ছোট ভাই আওয়ামী লীগ উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার আহমেদ বদরুল ও রহিমপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতা সাজিস আহমেদ তরফদার। সময় যত ঘনিয়ে আসতে ততই প্রার্থীদের প্রচারনা জোরালো হচ্ছে। গোটা ইউনিয়নের আনাচেকানাচে পোস্টার আর লিফলেটে ছেয়ে গেছে। মাইকিং আর মিছিল মিটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জনসংযোগ নিয়ে। দমফেলার সময় নেই প্রার্থীদের। নৌকার প্রার্থী আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়ন এর ফিরিস্তী তুলে ধওে পুনরায় ভোট দেয়ার আহবান জানাচ্ছেন। আর বিএনপির প্রার্থী বিগত সময়ের ভুলত্র“টি তুলে ধওে একটিবার ধানের শীর্ষ প্রতিকে ভোট দেয়ার দাবী জানাচ্ছেন। রহিমপুর ইউনিয়নটি ৩টি চা বাগান অধুষ্যিত হওয়ায় নির্বাচনী লড়াইয়ে নৌকার প্রার্থী সুবিধা জনক অবস্থানে রয়েছেন। অপর দিকে ধানের শীর্ষ জয়ী করতে বিএনপি- জামায়াত একাট্টা হয়ে কাজ করছেন।

 
২ নং পতন উষার ইউনিয়নঃ
এই ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ৪০৬জন। এখানে চেযারম্যান পদে লড়ছেন ৭জন। বিএনপির দলীয় প্রার্থী চেয়ে আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায়। আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী বিগত নির্বাচনে অল্প ভোটে পরাজয়কারী তওফিক আহমেদ বাবু। তিনি বিগত সময় চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। তওফিক আহমেদেও পক্ষে প্রতিদিন মোটর সাইকেল,সভা সমাবেশ চলছে। তার দিকে পাল্লাটা কিছুটা ভারী বলে শোনা যাচ্ছে। অপর দিকে বিএনপি প্রার্থী নতুন। বর্তমান চেয়ারম্যান প্রার্থী না হওয়ায় পতনউষার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিী অলি আহমেদ খান কে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে। এলাকায় অপরিচিত থাকলেও ধানের শীর্ষ প্রতিক হওয়ায়ই বিএনপি অধ্যুষিত এই ইউনিয়নে তিনি নৌকার সাথে সমানতালে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া অপর প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির জরিফ হোসেন জাহিদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদুর রহমান বাদশা, বদরুজ্জামান চৌধুরী (চশমা), শেখ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ও আজিজ চৌধুরী।

 
৩ নং মুন্সিবাজার ইউনিয়নঃ
মুন্সিবাজার ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মাজেদা কোরেশি। কিন্তু তাকে না দিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব তরফদারকে মনোনয়ন দিলে দেখা দেয় মত বিরোধ। স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে মাঠের নেতাকর্মীরা। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ইকবাল হোসেনসহ নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র একমাত্র মহিলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাজেদা কোরেশির পক্ষে প্রচার- প্রচারণা চালাচ্ছেন। অপরপক্ষে আওয়মীলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাকর্মীরা রয়েছেন নৌকার পক্ষে। গত ৫ বছরের নানা কর্মকাণ্ডের বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের নেতা আব্দুল মোতালিব। নৌকা নিয়ে তিনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এই ক্ষেত্রে বেশ খানিকটা সুবিধাজনক অবস্থানে বিএনপি দলীয় প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান সফিকুর রহমান চৌধুরী। এখানে দল ও জোটের একক প্রার্থী হিসেবে সফিকুর রহমানের পাশের সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করে দেখছেন সাধারণ ভোটাররা। আবার আব্দুল মোতালিব পক্ষীয়দের দাবি আওয়ামী লীগর কর্মী-সমর্থকরা শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামলে লড়াই জমে যাবে। সে ক্ষেত্রে উভয় জোটের প্রার্থীদের জয় লাভের সম্ভাবনা হবে ফিফটি ফিফটি। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন মো: রফিকুল হক। মোট ভোটার ১১ হাজার ৩৪জন।

 
৪নং শমসেরনগর ইউনিয়নঃ
এখানে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির একক প্রার্থী দিলেও বিদ্রোহী হিসাবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামীলীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। বিদ্রোহীরা নৌকা ও ধানের শীর্ষে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এখানে চেয়ারম্যান পদে ৫জন জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এরা হচ্ছেন- আওয়ামী লীগ সমর্থিত বর্তমান চেয়ারম্যান জুয়েল আহমেদ, আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর, বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল মোহিত, বিএনপি বিদ্রোহী আহমদুর রহমান খোকন ও মো. শামীম আহমেদ। নির্বাচনকে সমানে রেখে এসব প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিএনপি ও আওয়ামাীলীগের লড়াইয়ে ভাগ বসিয়েছেন বিদ্রোহী আওয়ামীলীগ প্রার্থী আব্দুল গফুর। এছাড়াও বিএনপির বিদ্রোহীরাও পথের কাঁটা। উভয প্রার্থীরা দিনরাত ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। মুলত লড়াই জমে উঠেছে ত্রিমুখী। সকল প্রার্থীরা চা শ্রমিকদের ভোট নিজেদের পক্ষে নিতে নানা কায়দায় ভোট প্রার্থনা করছেন। ভোটারা বলেন, চা বাগান আগে মতো নৌকার ভোট একচেটিয়া নেই। চা শ্রমিকরা বিভক্ত। যে প্রার্থী চা শ্রমিকদের ভোট বেশি নিতে পারবেন তিনিই হবেন আগামী চেয়ারম্যান। এখানে ভোটার রয়েছে ২১ হাজার ৫শত ৭৭জন।

 
৫নং কমলগঞ্জ ইউনিয়নঃ
এই ইউনিয়নে বিএনপির একক প্রার্থী আর আওয়ামীলীগের রয়েছেন দুইজন প্রার্থী। একজন দলীয় মনোনীত আরেকজন বিদ্রোহী। এছাড়া জাতীয় পাটি ও স্বতন্ত্র দাঁড়িয়েছেন আরো দুইজন প্রার্থী। ইউনিয়নটি বিএনপির দখলে। বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া শফি দুইবারের চেয়ারম্যান। তাকে বিএনপি দলীয় প্রতিক ধানের শীর্ষ প্রদান করেছে। আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী হলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান। আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন রহিম উদ্দিন। জাতীয় পাটির প্রার্থী আব্দুল আজিজুর রহমান। স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রহমান শুফি। মুলত লড়াই নৌকা ও ধানের শীর্ষে। আওয়ামীরীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা দিন রাত কোমর বেঁেধ প্রচারনা চালাচ্ছেণ। নেতাকর্মীরাও ঘরে ঘরে প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। এই ইউনিয়নে মহিলা- পুরুষ ভোটর সমান থাকায় মহিলাদের ভোট নিজ নিজ পক্ষে নিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা। এছাড়ার স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রহমান সুফি শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে ঘরে ঘরে ভোট প্রার্থনা করছেন। এখানে সমান সমান লড়াই হবে। নৌকা আর ধানের জয়ের সম্ভাবনা সমান সমান বলে কয়েকজন ভোটার জানান। মোট ভোটার ১৩ হাজার ২শত ২৫।

 
৬নং আলীনগর ইউনিয়নঃ
আলীনগর ইউনিয়নের বর্তমান ফজলুল হক বাদশা চেয়ারম্যান দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এবারও তিনি প্রার্থী। তিনি আওয়ামীলীগ দলীয় নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করছেন। কিন্তু এবার তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্বীতায় পড়েছেন। এখানে ৪জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। একজন বিএনপি দলীয় প্রার্থী এডভোকেট আব্দুল আহাদ আরেক জন স্বতন্ত্রী তরুন ছাত্র নেতা ও সংবাদকর্মী মো. শাহিন মিয়া। ৪ জনের প্রচারনায় জমে উঠেছে নির্বাচন। বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী ফজলুল হকের অবস্থা নড়েবড়ে। তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একটানা জমিদারী ষ্টাইলে চেযারম্যানী করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ ভোটাররা। বিগত সময়গুলোতে ইউনিয়নবাসী তাকে সুখে দুঃখে পেত না বলে এবার তারা পরির্বতন চাচ্ছেন। যার কারনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আহাদ ও স্বতন্ত প্রার্থী সংবাদিক শাহীন মিয়া ভোটারদের কাছে সহজেই মন জয় করতে শুরু করেছেন।্ একে বাওে নতুন প্রার্থী হয়ে চমক সৃষ্টি করছেন শাহীন মিয়া। বিএনপির নতুন প্রার্থী দেয়ায় নেতাকর্মীরা মাঠে জোরে সোরে নেমে কাজ করছেন। চা বাগানগুলোতে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্র্থর্াী সমর্থন আদায় করে নিচ্ছেন বলে কয়েকজন চা শ্রমিক জানান। এই অবস্থায় নৌকার প্রার্থী পক্ষে নেতাকর্মীরা মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এখানে মুলত ত্রিমুখী লড়াই হবার সম্ভাবনা উজ্জ্ল। জাতীয় পার্টিও প্রার্থী আব্দুস সালাম প্রচারণা চালাচ্ছেন। ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৯ হাজার ৫৮।

 
৭নং আদমপুর ইউনিয়নঃ
আদমপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। এখানে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী, বিদ্রোহী আওয়ামীলীগ ও বিএনপি দলীয় চেয়ারম্যান প্রাথী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৩৫৫। দলীয় সিদ্ধান্তে বর্তমান চেয়ারম্যান সাব্বির আহমেদ ভুইয়াকে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ঘোষণা দিলেও তা অমান্য করে আদমপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজির বকস বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। আওয়ামীলীগ ও বিদ্রোহী আওয়ামীলীগ প্রাথী মাঠে থাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন আওয়ামীলীগের কোন্দল সমস্যা দেখা দিতে পারে।অপর দিকে এবার বিএনপি একক প্রার্থী দিয়েছে। ২ বারের অল্প ভোটে পরাজিত প্রার্থী আব্দাল হোসেনকে নিয়ে মাঠে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মুসলিম মনিপুরী সম্প্রদায়ের কোন প্রার্থী না থাকায় এবার তারা জয়পরাজয়ে ভুমিকা রাখবে। সাধারণ কেয়কজন ভোটাররা জানান, এখানে বিএনপির প্রার্থী কিছুটা এগিয়ে আছেন দলীয় কোন কোন্দল না থাকার সুবাদে। মুলত লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষের। স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন আব্দুল হাই।

 
৮নং মাধবপুর ইউনিয়নঃ
মাধবপুর ইউনিয়নে মোট প্রার্থী ৩জন। এখানে ভোটার সংখ্যা ১৯ হাজার ৫৮। মুলত ইউনিয়নটি চা বাগান অধ্যুষিত। এখানে বর্তমান চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানু চা শ্রমিক সন্তান। তিনি বিগত নির্বাচনে বিএনপির সমর্থনে নির্বাচন করলেও এবার দলীয় প্রতিক থাকায় পরাজয়ের ভয়ে ধানের শীষ নেননি। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপি মুখ রক্ষার জন্য একজন যুবনেতাকে দলীয় প্রতিক দিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী করেছে। তার নাম এম এম হারুনুর রশীদ। আর আওয়ামাীলীগ নৌকা দিয়েছে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আসিদ আলীকে। নৌকা থাকায় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা মহাখুশি। তারা বাগানগুলোতে নৌকার পক্ষে জোর প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। নৌকার প্রতি চা শ্রমিকরা কিছুটা দুর্বল থাকায় আওয়ামীলীগ প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন। অপর দিকে চা সন্তান স্বতন্ত্র প্রার্থী পুস্প কুমার কানু ও সমান তালে প্রচারণা করছেন। এছাড়া মনিপুরী সম্প্রদায়ের একজন দাঁড়িয়েছেন তিনি হলেন মনিপুরী নেতা কমলা বাবু। মনিপুরী সম্প্রদায়ের ভোট তার পক্ষে যাবে। বাগানে চা শ্রমিকরা বলেন, লড়াই হবে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী পুস্প কুমার কানুর মধ্যে। বিএনপির প্রার্থী নবাগত থাকায় নির্বাচনে তেমন প্রভাব ফেলতে পাচ্ছেন না।

 
৯নং ইসলামপুর ইউনিয়নঃ
এই ইউনিয়নটি কমলগঞ্জে আলোচিত ইউনিয়ন। কারন ইউনিয়নবাসী দুই ভাইয়ের কাছে বন্দী। ছোট ভাই বড় ভাই চেয়ারম্যান পদে লড়াই করেন। গত নির্বাচনের মতো এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। একজন হলেন বড় ভাই বিএনপি নেতা সাবকে চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হান্নান, আরেক জন হলেন ছোট ভাই উপজেলা আওয়ামীলীগ এর অর্থ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান সুলেমান হোসেন। এখানে বিএনপি দলীয় প্রার্থী সুন্দর আলীকে দিলেও সুন্দও আলী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন নেন। তাই বর্তমানে বিএনপির কোন প্রার্থী নেই ইউনিয়নে। মুলত লড়াই আওয়ামীলীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীও মধ্যে। দুই ভাই এলাকায় প্রভাবশীলী হওয়ায় নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির কোন প্রার্থী না থাকলের স্বতন্ত্র প্রাথী বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নান এর পক্ষে বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছেন। অপর দিকে চেয়ারম্যান পদটি দখল রাখতে জোর প্রচারনা চালাচ্ছেন নৌকার প্রার্থী সুলেমান মিয়া। মুলত এই ইউনিয়নটি বিপুল চা শ্রমিক রয়েছেন। চা বাগানে আধিপত্য বিস্তার করতে শক্তি প্রদর্শন করছেন উভয় প্রার্থী। সাধারণ ভোটাররা জানান, দুই ভাই বিপুল সমর্থন আছে। কিন্তু চা বাগানের শ্রমিকরা নৌকার পক্ষে থাকেন তাহলে নৌকার প্রার্থী জয় সম্ভাবনা রয়েছে।এখানে মোট ভোটার ১৭ হাজার ৯শত ৪৬। সবকিছু মিলে জমে উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনী জ্বরে কাঁপছে ৯টি ইউনিয়ন।

5fe31824-afbb-4c60-941e-b427890c1a9c

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: