সর্বশেষ আপডেট : ৫৩ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ষড়যন্ত্রের শিকার সেলিম ওসমান!

2016_05_19_13_19_22_MqbzEalNxAqUZOepLkpIYOJO6PfZkZ_originalনিউজ ডেস্ক:: বহুল আলোচিত নারায়নগঞ্জের পিআর সাত্তার লতিফ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কানধরে উঠ-বস করার ঘটনায় জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানকে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দিন উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরী করে সেলিম ওসমানকে ডাকা হয়। তারপর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না নিতে পেরে উপস্থিত জনতাকে সামাল দিতেই সেলিম উসমান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে চড় মারেন। আর কানধরে উঠবস করানো হয় বলে খবর প্রচার করা হচ্ছে স্থানিয় ও জাতীয় কিছু সংবাদ মাধ্যগুলোতে।

সংবাদ মাধ্যগুলো তাদের প্রতিনিধিদের বরাত দিয়ে বলছে, ঘটনার দিন, টেলিফোন করে এমপি সেলিম ওসমানকে বন্দরের পিআর সাত্তার লতিফ হাইস্কুলে ডেকে আনেন স্থানিয় দেলোয়ার চেয়ারম্যান। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, স্কুল কমিটি, এলাকার হেফাজত ভোট এই ৩ চক্রের চক্রান্তে পড়ে যান সেলিম ওসমান। ষড়যন্ত্রে পিআর সাত্তার লতিফ হাইস্কুল কমিটি সভাপতি ফারুকুল ইসলাম ও জেলা জাপা সভাপতি আবু জাহেরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সবচেয়ে বেশি।

আর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, জাতীয় পার্টির আরেক নেতার ভাতিজা টগর। যে মাইকে এলাকাবাসীকে ডেকে এনেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অনেক ব্যক্তি এসব কথা জানিয়েছেন। আর স্কুলে পৌঁছে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না নিতে পেরে উপস্থিত জনতাকে সামাল দিতেই সেলিম উসমান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে চড় মারেন। ধর্ম অবমাননার বিষয়টি একটি গুজব।

বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, এমপি সেলিম ওসমানকে বন্দর ঘটনাস্থলে ডেকে নেওয়ার মিশনে এ দুজনের সঙ্গে সম্প্রতি জাতীয় পার্টিতে যোগদানকারী কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন দেলু প্রধানও জড়িত। সংশিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সেদিন প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে পিটুনিরও মূল নায়ক কলাগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান। স্কুলের মিটিং চলার সময় সভাকক্ষের দরজা খুলে বাইরে থেকে কিছু লোক নিয়ে ঢুকে দেলোয়ার প্রধান।

তারাই তাকে পিটুনি দেয়। পরে তারাই বাইরে গিয়ে প্রচার করে শিক্ষক ধর্ম অবমাননা করেছেন। মাইকে এই ঘোষণা দেয়। দেলোয়ার প্রধান এবার কলাগাছিয়া ইউনিয়নে পুনরায় নির্বাচিত হতে লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী হয়েছেন। সেদিন ধর্মের নামে উন্মত্ত চার-পাঁচ হাজার লোক স্কুল মাঠে জড়ো করতে আবু জাহের ও ফারকুল ইসলামের সঙ্গে দেলোয়ার হোসেন ও এমপি সেলিম ওসমানকে বন্দরে ডেকে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে যোগ দেন।

একই ষড়যন্ত্রে এরা তিনজন একত্রিত হলেও তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন ভিন্ন। যেমন স্কুল কমিটি সভাপতি ফারুকের উদ্দেশ্য ছিল, তার ছোটবোন স্কুল শিক্ষক পারভিন আক্তারকে প্রধান শিক্ষক বানানো। এ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন বর্তমান প্রধান শিক্ষককে তাড়ানো। এ কারণে স্কুল সভাপতি ফারুক একটি অজুহাত খুঁজছিলেন। ৮ মে রিফাত নামের এক ছাত্রকে মারধর করায় ফারুক অজুহাত পেয়ে যান। এবার উদ্দেশ্য কার্যকর করতে সে আবু জাহেরের সঙ্গে হাত মেলান।

এতে জাপা নেতা আবু জাহেরের স্বার্থ পারভিন আক্তারকে প্রধান শিক্ষক করতে পারলে ভোটপ্রাপ্তি এবং এলাকায় নিরঙ্কুশ প্রভাব প্রতিষ্ঠা হয়। ওদিকে, চার-পাঁচ হাজার ভোটার স্কুল মাঠে উপস্থিত দেখে দেলোয়ার চেয়ারম্যান মনে করেন, এমপি সাহেবকে নদীর এ পারে এনে তাকে দিয়ে যদি হেড মাস্টারকে শায়েস্তা করা যায়।

এই লোকগুলো যেহেতু ধর্ম অবমাননার ঘোষণায় সমবেত হয়েছে। তাদের কাছে হেডমাস্টারকে শায়েস্তা করে ধর্ম রক্ষার নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় এবং এই নিয়ে যদি এমপি সাহেব সমবেত জনতাকে আসন্ন নির্বাচনে তাকে ভোট দিতে অনুরোধ করেন, তাহলে তিনি নির্বাচিত হতে পারবেন। মূলত, এ উদ্দেশ্যেই দেলোয়ার প্রধান ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মেলান।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: