সর্বশেষ আপডেট : ২৬ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে আ’লীগ-বিএনপি’র অস্থিত্বের লড়াই!

up nirbachon news daily sylhetশামিম আহমদ, বালাগঞ্জ::
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ালীগ ও বিএনপির মধ্যে চলছে অস্থিত্ব রক্ষা এবং মর্যাদার লড়াই। পাশাপাশি দু’দলের বিদ্রোহী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সমর্থিত ও খোদ নির্দলীয় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও এবার মরণকামড় দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। দুই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে-৬৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বালাগঞ্জে ২৯ ও ওসমানীনগরে ৩৪ জন রয়েছেন। বিশেষ করে দু’একটি ইউনিয়ন ব্যতিত প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা কেউ কাউকে টপকিয়ে যেতে পারছেন না বলে জনমত জরিপে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত-২০১১ সালে অনুষ্টিত ইউপি নির্বাচনে বালাগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের মধ্যে ৮জন বিএনপি, ১জন জমায়াত ৪জন আওয়ামীলীগ ও ১জন আওয়ামী ঘরানার স্বতস্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। বালাগঞ্জ উপজেলার মধ্য থেকে ৮টি ইউনিয়ন আলাদা করে ওসমানীনগর উপজেলা ঘোষনা হওয়ায় বিগত নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া চেয়ারম্যানদের অবস্থান এখন দুই উপজেলায়।

এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে-বালাগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউয়িনের বর্তমান চেয়ারম্যানদের মধ্যে ২টিতে আওয়ামীলীগ (বালাগঞ্জ সদর, পুর্ব পৈলনপুর) ৩টিতে বিএনপি (বোয়ালজুড়, দেওয়ান বাজার, পশ্চিম গৌরীপুর) ও পুর্ব গৌরীপুরে জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান রয়েছেন। তবে পুর্ব গৌরীপুর ও বোয়ালজুড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা এবারের নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়েছেন। বর্তমানদের মধ্যে অন্য চারজন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এর মধ্যে একজন বিদ্রোহী হিসেবে রয়েছেন। ওসমানীনগরের ৮টি ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যানদের মধ্যে ৫টিতে বিএনপি (সাদিপুর, পশ্চিম গৌরীপুর, গোয়ালা বাজার, তাজপুর, ওসমানপুর), ২টিতে আওয়ামীলীগ (বুরুঙ্গা, উমরপুর) ও দয়ামীরে আওয়ামীলীগ সমর্থনকারী চেয়ারম্যান রয়েছেন। এর মধ্যে উমরপুর, দয়ামীর, উসমানপুর ও পশ্চিম পৈলনপুরের চেয়ারম্যান (সাময়ীক বরখাস্থ) এবার নির্বাচন করছেন না। আবার তাদের মধ্যে এক জন মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। দুই উপজেলায় ১৪জন বর্তমান চেয়ারম্যানের মধ্যে ৮জন এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামীলীগের ৩জন ও বিএনপির ৫জন রয়েছেন। ইলিয়াস আলীর নির্বাচনী এলাকা হিসেবে দুই উপজেলায় বিগত নির্বাচনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় মরিয়া রয়েছে বিএনপি। আর আওয়ামীলীগও বিগত নির্বাচনের ভরাডুবি কাটিয়ে উঠে এবার ইউনিয়ন গুলোতে দলীয় চেয়ারম্যানদেরকে নির্বাচিত করে পাল্লা ভারী করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে।

দলীয় সুত্রে জানা গেছে-দুই উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের দলীয় ও বিদ্রোহীরা তিন চৌধুরীর আস্থাভাজন ও অনুসারী। তিনটি বলয়ের কান্ডারীরা হলেন-সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর ও সিলেট-৩ আসনের এমপি আলহাজ্ব মাহমুদ উস্ সামাদ চৌধুরী।

আ’লীগ বিএনপিতে বিদ্রোহী আতঙ্ক: বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলায় আওয়ামীলীগও বিএনপি’র দলীয় বিভক্তি দীর্ঘ দিনের। ঘরোয়া অন্তর্দ্বন্ধের কারনে ইউপি নির্বাচনে দুই দলের নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় প্রার্থীদেরকে ঘায়েল করতে পরস্পরকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে অনেকটাই প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠেছেন। পুরনো বিভেদকে কাজে লাগিয়ে তারা অত্যান্ত গোপনে এবং প্রকাশ্যে কৌশলী ভুমিকায় থেকে দলীয় প্রার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া দু’দলের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের অনুসারীরা বিদ্রোহী প্রার্থী এবং অন্য দলের প্রার্থীদের পক্ষে গোপনে ও প্রকাশ্যে কাজ করছেন। ফলে-দলীয় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা নির্বাচনে বিজয় নিয়ে টেনশনে ভুগছেন। তাছাড়া আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাথে সমঝোতা কিংবা তাদেরকে দমন করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন গুলোতে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা নৌকা ডুবাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ভোটারদের মুখে এমন মন্তব্যও শুনা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বিদ্রোহীরা এখন আওয়ামীলীগের গলার কাটায় পরিনত হয়েছে। দুই উপজেলায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির-১২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বালাগঞ্জের ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী-৭ ও বিএনপি’র ১জন বিদ্রোহী রয়েছেন। পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নে ৫জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী-১জন, পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নে-৫জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী-৩ জন। পুর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নে-৫জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী-১জন। বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ৮জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী-২জন ও বিএনপি বিদ্রোহী ১জন।
ওসমানীনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী-৩ ও বিএনপির একজন বিদ্রোহী রয়েছেন। ওসমানপুর ইউনিয়নে-চার জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী-১, পশ্চিম পৈলনপুরে-১জন, বুরুঙ্গা ইউনিয়নে-১, ও গোয়ালা বাজার ইউনিয়নে চারজন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী-১জন রয়েছেন।

বহিস্কার হলেন যারা: দুই উপজেলায় এ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের ৯জনকে বহিস্কার করা হলেও দুই উপজেলায় বিএনপির দু’জন প্রার্থী এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বালাগঞ্জ উপজেলায় দলীয় পদ থেকে বহিস্কৃত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন-পশ্চিম গৌরীপুরে নাসির উদ্দিন, আজমল আলী, আব্দুর রহমান মাখন, পূর্ব গৌরীপুরে আজমল বেগ ও পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নে সান উল্লা ও বালাগঞ্জ সদরে শেখ মনজুরুল ইসলাম। তবে বালাগঞ্জ সদরে চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামীগ নেতা বর্তমান মেম্বার আশিক মিয়াকে বহিস্কার করা হয়নী। তিনি অবশ্য নিজেকে স্বতন্ত্র পরিচয় দিচ্ছেন। ওসমানীনগরে বহিস্কৃতদের মধ্যে আব্দুল হাফিজ এ মতিন গেদাই, খালেক আহমদ লটই ও ময়নুল আজাদ ফারুক।

মাইকের শব্দে বিব্রত: ১৩ মে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের দিন থেকেই প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচরনার মাইকের শব্দে লোকজন অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা তিনটি করে মাইক ব্যবহার করছেন। ফলে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্টান ও মসজিদসহ ধর্মীয় উপাসনালয় গুলোতে অতিমাত্রায় শব্দ দুষনের কারনে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া পবিত্র সাবানের চান্দে ধর্মপ্রান মুসল্লীদের নামাজ আদায়কালে মাইকের শব্দে বিব্রত হয়েছেন। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও নারী-পুরুষের ধর্ম পালনেও ব্যাঘাত ঘটছে। আযান ও নামাজের সময় নির্বাচনী প্রচারের মাইক বন্ধ করা হচ্ছেনা বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উপজেলার বিভিন্ন বাজার গুলোতে বিকেল বেলা লোকজনের সমাগম ঘটে। ফলে বাজারের ব্যবসায়ী ও সদাই পাতি কিনতে আসা লোকজনকে দুই কানের মধ্যে হাত দিয়ে চেপে ধরে ক্রয়-বিক্রয়ের কাজ সারতে হচ্ছে।

আচরনবিধি লঙ্গনের ছড়াছড়ি: মনোনয়নপত্র দাখিল ও প্রতীক বরাদ্দের ঘোষনা আসা মাত্রই প্রার্থীসহ তাদের কর্মী-সমর্থকেরা যত ধরনের আচরনবিধি লংঙ্গনের নির্দেশনা রয়েছে তার সবগুলোই লঙ্গন করেই যাচ্ছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক স্থানে প্রার্থীদের পক্ষের লোকজন জড়ো হয়ে মিছিল ও মটর সাইকেল দিয়ে শো-ডাউন করছেন। বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দের আগ থেকেই গনসংযোগ করার সময় ‘মার্কা’ সম্বলিত পোষ্টার বিতরন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম গুলোতে প্রতিক সহ প্রচারনা চালিয়েছেন। তবে আচরনবিধি লংঙ্গনের ক্ষেত্রে সরকার দলীয় প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন বলে অভিযোগ উটেছে।

প্রচারনায় গান ও পাঞ্জাবী-পাজামা: এবার নির্বাচনী প্রচারনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সব প্রার্থীরাই পেশাদার শিল্পী দিয়ে নিজের নাম ও প্রতীকের উপমা দিয়ে গান রেকর্ড করিয়ে এনেছেন। মাইক দিয়ে প্রচারনাকালে সেই গানের রেকর্ড বাজিয়ে ভোটারদের শুনাচ্ছেন।
তাছাড়া নির্বাচনী প্রচারনাকালে প্রার্থীদের পছন্দের পোশাকের তালিকায় রয়েছে পাঞ্জাবী-পাজমা। ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা সফেদ পাঞ্জাবী-পাজামা আর টুপি পরে ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে গিয়ে ভোট ভিক্ষা চাইছেন আর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। নির্বাচনী আড্ডায় চায়ের দোকানে বসে ষাটোবর্ধ রহমত আলী বলেন-‘ফারতি হখলে যেলা পাঞ্জাবী ফিনদা শুরু খরছ্ইন, অখনতো দেখি পাঞ্জাবীর দাম বাড়িযাইব’।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: