সর্বশেষ আপডেট : ৫০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্বপ্নে পাঁচ বছরে লোকসান ৪৬২ কোটি টাকা

143114_1নিউজ ডেস্ক:: ঝামেলামুক্ত পরিবেশে স্বাস্থ্যসম্মত পণ্য— এ প্রতিশ্রুতিতে ২০০১ সালে দেশে সুপারশপের যাত্রা। অল্প সময়ে মধ্যবিত্তদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তাও পায় সুপারশপগুলো। এ সম্ভাবনা থেকেই ২০০৮ সালে এ খাতে বিনিয়োগ আগ্রহী হয় দেশের অন্যতম শীর্ষ করপোরেট গ্রুপ এসিআই লিমিটেড। ‘স্বপ্ন’ নামে সুপারশপ ব্যবসা শুরু করে তারা। স্বপ্ন’র পণ্য বিক্রি প্রায় চার গুণ বাড়লেও মুনাফায় ফিরতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। স্বপ্নে গত পাঁচ বছরে প্রায় ৪৬২ কোটি টাকা কর-পূর্ববর্তী লোকসান দিতে হয়েছে এসিআই লিমিটেডকে।

গত পাঁচ বছরের নিরীক্ষিত ও অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এসিআইয়ের ১৩টি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির অধিকাংশই লাভজনক অবস্থায় রয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম এসিআই লজিস্টিকের রিটেইল চেইন শপ ‘স্বপ্ন’। পাঁচ বছরের ব্যবধানে স্বপ্নর পণ্য বিক্রি প্রায় চার গুণ বেড়েছে। তবে বিক্রির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোকসানও।

২০১১ সালে স্বপ্ন থেকে এসিআই লিমিটেডের আয় হয় ১৮৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ২০১৪ সালে তা ৩৯৮ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। ২০১৫ সালেও রেভিনিউয়ের প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা যায়। আর চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) স্বপ্নর বিক্রি দাঁড়িয়েছে ১৪৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকায়, ২০১১ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় যা চার গুণের বেশি। তবে এ সময়ে কর-পূর্ববর্তী লোকসানের পরিমাণও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১১ সালের প্রথম প্রান্তিকে স্বপ্নর বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ সালে স্বপ্নে এসিআইয়ের লোকসান ছিল ৬১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। পরের বছর লোকসান বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে ৮৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা লোকসান হলেও ২০১৪ সালে তা আরো বেড়ে দাঁড়ায় ১০১ কোটি ১৮ লাখ টাকায়। ২০১৫ সালে স্বপ্নে ১০৭ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয় এসিআই লিমিটেডকে। আর চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে স্বপ্নর কর-পূর্ববর্তী লোকসান দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ২০১১ থেকে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত স্বপ্নে এসিআইয়ের লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪৬২ কোটি টাকা। যদিও কর পরিশোধের পর প্রথম প্রান্তিকে এসিআই লিমিটেডের মুনাফার পরিমাণ সাড়ে ৭ কোটি টাকার বেশি।

সুদবাবদ ব্যয় স্বপ্নর লোকসান বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এসিআই লিমিটেডের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) প্রদীপ কর চৌধুরী। তিনি বলেন, স্বপ্নর আউটলেট বাড়াতে নতুন করে বিনিয়োগ করতে হচ্ছে, যা সুদবাবদ ব্যয় বাড়াচ্ছে। তবে ঋণের সুদহার কমে আসায় আগামীতে এ বাবদ খরচ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

টানা লোকসানের কারণে স্বপ্নর দায়ের পরিমাণও বাড়ছে। ২০১১ সালে স্বপ্নর মোট দায় ছিল ২৬০ কোটি টাকা। পাঁচ বছর পর ২০১৬ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৬ কোটি টাকায়। এতে কোম্পানির সুদ বাবদ খরচও বাড়ছে, যা স্বপ্নর লোকসান বাড়িয়ে তুলছে। চলতি প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকঋণের সুদ বাবদ ১৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন খরচ দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা ২০১১ সালের প্রথম প্রান্তিকে ছিল ১৩ কোটি ২১ লাখ টাকা।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এসিআইয়ের কর-পূর্ববর্তী মুনাফায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে স্বপ্ন। প্রতিষ্ঠানটির ১০টি সেগমেন্টের আটটিই মুনাফায় রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুনাফা আসে ফার্মাসিউটিক্যালস খাত থেকে। চলতি প্রথম প্রান্তিকে এ খাত থেকে ৪৪ কোটি ১২ লাখ টাকা কর-পূর্ববর্তী মুনাফা এসেছে। এছাড়া অ্যানিমেল হেলথ, এসিআই মোটর, ক্রপ কেয়ার অ্যান্ড পাবলিক হেলথসহ অন্য সাতটি খাত থেকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা আসে। শুধু স্বপ্নর লোকসান এসিআই লিমিটেডের মুনাফা ব্যাপক হারে কমিয়ে দিচ্ছে।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আটটি সেগমেন্ট থেকে এসিআইয়ের কর-পূর্ববর্তী মুনাফা এসেছে ৮২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আর স্বপ্ন ও এসিআই ফুডসের লোকসান সমন্বয় করতে গিয়ে এসিআই লিমিটেডের কর-পূর্ববর্তী মুনাফা কমে এসেছে ৪৮ কোটি ১৮ লাখ টাকায়। অন্যান্য খরচ বাদ দেয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির কর-পূর্ববর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা। কর পরিশোধের পর প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফা দাঁড়ায় ৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকায়।

স্বপ্নর নির্বাহী পরিচালক সাব্বির নেওয়াজের দাবি, কর-পূর্ববর্তী লোকসান বাড়লেও পরিচালন লোকসান কমছে। তবে আউটলেটের সংখ্যা যত বাড়বে, লোকসানের পরিমাণও তত কমবে। আমরা এখনো বিনিয়োগে রয়েছি। নিয়মিতভাবে আউটলেট বাড়াচ্ছি। বর্তমানে স্বপ্নর ৫০টি আউটলেট রয়েছে। এটি যখন ২০০-২৫০তে উন্নীত হবে, তখন স্বপ্ন থেকে ভালো মুনাফা পাওয়া যাবে।

শুরুর দিকে সুপারশপগুলো দেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেললেও পরের দিকে স্থবিরতা নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি সংস্থার (ইউএসডিএ) এক প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আয়বৃদ্ধির কারণে প্রায় তিন কোটি লোক সুপারশপ থেকে বাজার করতে পারে। কিন্তু সে হিসাবে দেশে সুপারশপের পরিসর বাড়ছে না। প্রতিবেশী ভারত ও শ্রীলংকায় যেভাবে সুপারশপ গড়ে উঠেছে, বাংলাদেশে খাতটির সেভাবে বিকাশ ঘটছে না। ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশ শ্রীলংকায় ২৪০টি সুপারশপ থাকলেও দেড় কোটি মানুষের শহর ঢাকায় সংখ্যাটি ১০০-এর নিচে।

দেশের খুচরা বিক্রিতে সুপারশপের হিস্যাও খুব নগণ্য। দেশের মোট খুচরা ব্যবসায় এর অংশ মাত্র ২ শতাংশ।
সূত্র: বণিক বার্তা

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: