সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৫০ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নবীগঞ্জে ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে চায়ের কাপে ভোটের ঝড় দিনে রাতে নানা কৌশলে ভোট চাইছেন প্রার্থীরা

2e312aa3-c704-47dd-b558-f8a1bfcd981fমতিউর রহমান মুন্না::আগামী ২৮ শে মে নবীগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে সকল ইউনিয়নের জনপদ। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাপা, স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং সংরতি আসনের মহিলা মেম্বার প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণ লঙ্ঘন করে দিনে রাতে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন অবাধে। তাদের প্রচারনায় গ্রাম গঞ্জে চারই দিকে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। পোষ্টার আর ব্যানারে ছেয়ে গেছে নির্বাচনী এলাকার হাট বাজার। দুপুর ২ টা থেকে রাত ৮ পর্যন্ত মাইকিংয়ে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন স্ব স্ব এলাকার নাগরিকবৃন্দ। বিশেষ করে এই দলীয় প্রতীক নির্বাচনকে নিয়ে চায়ের কাপে উটে গেছে ভোটের ঝড়। প্রতিটি এলাকার সর্বত্র একটাই আলোচনা কে হচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের কান্ডারী?

বাঙালি উৎসব প্রিয় জাতি। যেকোনো একটা উপল পেলেই মেতে উঠি আনন্দ-উল্লাসে। এই আনন্দের কারণেই হয়তো শত অভাব অনটনের মধ্যে থেকেও গ্যালারিতে বসে বলে উঠতে পারি ‘হাইজ দ্যাট’। আবার প্রতিহিংসার বিপরীতে দাঁড়িয়ে গর্জে উঠে বলতে পারি, মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি। বাঙালির সেই উৎসব এখন শুরু হয়ে গেছে উপজেলার সকল এলাকার বিভিন্ন গ্রামের আনাচে কানাচে। এই উৎসবের নাম ‘ভোট’ উৎসব। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতি দোকানে দোকানে চলছে ভোটের আলাপ।

এবার নবীগঞ্জের ১৩ টি ইউনিয়নে মোট ৭৬ জন চেয়ারম্যান, ১৫৯ জন সংরতি মহিলা মেম্বার ও ৫৫৭ জন সাধারন সদস্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ১৩টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মনোননীত প্রার্থী রয়েছেন ১৩ জন। এছাড়াও সদ্য বহিস্কৃত আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী আছেন ৭ জন, বিএনপির বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন ১২ জন। আওয়ামীলীগ ১৩টি ইউনিয়নে প্রার্থী দিলেও বিএনপি ১২ টি ও জাপা ৯টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী দিয়েছে।

১৩টি ইউনিয়নে মোট মোটার ২ লাখ ৯ হাজার ৭শত ১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২ হাজার ৬শত ৭১ জন এবং মহিলা ১লাখ ৭ হাজার ৪৭ জন। ভোটাররা ১শত ৩২ টি ভোট কেন্দ্রে ৫শ ২৫ টি বুথে ভোট প্রদান করবে।
এদিকে, ভোটারদের কাছে বিভিন্ন উন্নয়নের কথা বলে মন জয় করার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনী মাঠে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। প্রার্থীরা এলাকার উন্নয়নের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ, লিফলেট বিতরন, উঠান বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের দিচ্ছেন ডজন ডজন প্রতিশ্রুতি।

প্রতীক পাওয়ার পর থেকে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাপা, স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা অবাধে আচারণবিধি লঙ্ঘন করে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন। নিয়মের বাহিরে পোস্টার ব্যানার, লাগিয়ে আচারণবিধি লঙ্ঘন করছেন। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে এখনও আচারণবিধি লঙ্ঘনের কোন অভিযোগ পায়নি।

নির্বাচন কর্মকর্তা আবু সাঈম জানান, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্নের পথে। নির্বাচন আচারণবিধি লঙ্ঘনের কোন অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ্এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ন পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারনা চলছে। কোথাও নির্বাচনী সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে, গত কদিনে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন সরজমিন গুরে দেখা যায় প্রতি ইউনিয়নেই জমজমাট লড়াই শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর বিপরীতে তুমুল প্রতিযোগিতায় মাঠে রয়েছেন ৯ বিদ্রোহী প্রার্থী। ১নং পশ্চিম বড় ভাকৈর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান চেয়ারম্যান সমর চন্দ্র দাশের সাথে অনেকটা কঠিন চ্যালেঞ্জের মতোই মাঠে রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান সত্যজিৎ দাশ।

নৌকার ঘাঁটিতে তুমুল প্রতিযোগিতার আবহ তৈরি হয়েছে। ২নং পূর্ব বড় ভাকৈর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান চেয়ারম্যান মেহেরআলী মালদারকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান মো. আশিক মিয়া। ৩নং ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মো. জামাল হোসেন এর বিপরীতে (আনারস প্রতীক) নিয়ে মাঠে রয়েছেন শ্রমিক নেতা বজলুর রশীদ। তাদের অবস্থাও কেউ থেকে কেউর কম নেই। ৪নং দীঘলবাঁক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু সাঈদ এওলা মিয়ার বিপরীতে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ছালিক মিয়া।

সমানতালে চলছে দুই প্রার্থীর গণসংযোগ। ৫ নং আউশকান্দি ইউনিয়নের রয়েছেন আওয়ামীলীগ মনোনিত বর্তমান চেয়ারম্যান দিলাওর হোসেন তার রয়েছেন শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিবুর রহমান হারুন। ৬ নং কুর্শি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাবেক চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা আলী আহমদ মুসার সাথে বড় চ্যালেঞ্জে মাঠে রয়েছেন স্থানীয় জাপার এমপি এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু সহোদর যুবলীগ নেতা আবদুল বাছিত চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী যুবলীগ নেতা আব্দুল মুকিত।

বিএনপি প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেদুর রহমান খালেদের বিপরীতে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মীর্জা আলী আজম রায়হান খাদিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (ঘোড়া প্রতীক) নিয়ে মাঠে রয়েছেন। ৭নং করগাঁও ইউনিয়নের রয়েছেন আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নির্মেলেন্দু দাশ রানা। তার সাথে লড়ছেন শৈলেন দাশ ও বিএনপির প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ছাইম উদ্দিন। ৮নং সদর ইউনিয়নে রয়েছেন আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী জাবেদুল আলম চৌধূরী সাজু। তার সাথে লড়ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপির মনোনিত প্রার্থী আব্দুল মুক্তাদির। এছাড়াও রয়েছেন একাধীক স্বতন্ত্র প্রার্থী। ৯ নং বাউশা ইউনিয়নে রয়েছেন আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী আবু সিদ্দিক। তার সাথে লড়ছেন স্বতন্ত্র মহিলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ডেইজি সিদ্দিকা ও বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মজিদ। এছাড়াও শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে মাঠে আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ারুর রহমান। ১০ নং দেবপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ মনোনীত আব্দুল মুহিত চৌধুরীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন স¦তন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান এড. জাবেদ আলী এবং (আনারস প্রতীক) নিয়ে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম কালাম। ১১ নং গজনাইপুর ইউনিয়নে নৌকা নিয়ে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল। বিপরীতে লড়ছেন নৌকা বঞ্চিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি (সদ্য বহিষ্কৃত) ও বিগত দু’বার বিপুল ভোটে বিজয়ী চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপ।

শতাধিক নির্বাচনী গ্রুপ নিয়ে (আনারস) প্রতীকে সাড়া জাগানো গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এছাড়াও শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন ৩ বারের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ। তিনি লড়ছেন চশমা প্রতীক নিয়ে। তার অবস্থায় কোন অংশে কম নেই। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন (সদ্য বহিষ্কৃত) যুবলীগ নেতা মো. সেলিম। ১২ নং কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সভাপতি ইমদাদুল হক চৌধুরীর নৌকার বিপরীতে মনোনয়নবঞ্চিত ৫ গ্রাম মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কঠিন চ্যালেঞ্জ দিয়ে গণসংযোগে ব্যস্ত বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা (সদ্য বহিষ্কৃত) মো. নজরুল ইসলাম। ১৩ নং পানিউমদায় আওয়ামলীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান রয়েছেন সুবিধাজনক অবস্থানে কারন সেকানে তার সাথে লড়ার মতো তেমন শক্তিশালী প্রার্থী নেই। তবুই থেকে নেই ভোট ভিক্ষা। সব প্রার্থী ভোট ময়দানে লড়ার জন্য দিনে রাতে মাঠে কাজ করছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: