সর্বশেষ আপডেট : ২৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শাবি ছাত্রলীগের কমিটিতে ছাত্রদল-শিবিরকর্মী, বিবাহিত ও বহিস্কৃতরা

d-newspic-13বিশেষ প্রতিবেদক ::

দীর্ঘ ১৪ বছর পর কমিটি পেয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। কিন্তু কমিটি নিয়ে যেন অভিযোগের অন্ত নেই দলের মধ্যে। ছাত্রদল-শিবির কর্মী, বিবাহিত, বহিস্কৃতরাও কমিটিতে স্থান পেয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, গত ৮ মে ১৫১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এই কমিটিতে সহ-সভাপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তত পাঁচজন সাবেক ছাত্রদল-শিবিরকর্মী, নয় জন বহিস্কৃত, তিন জন বিবাহিত, এগার জন অছাত্র স্থান পেয়েছেন।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ঠিক আগ মুহুর্তে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের বিভিন্ন বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মসূচীতে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতে যাদের দেখা গেছে, তাদের অন্তত ৫ জন বর্তমান নবগঠিত ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। এর মধ্যে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষা বর্ষের খলিলুর রহমান নতুন কমিটিতে পরিবেশ সম্পাদক পদ পেয়েছেন। তিনি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের মিছিলে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেছেন।
বাংলা বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষা বর্ষের লোকমান আহমেদকে আপ্যায়ন সম্পাদক করা হয়েছে। তাকে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন মিছিল সমাবেশে দেখা গেছে। একই অভিযোগ লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী মোবাশ্বির হোসাইন রাফির রিরুদ্ধে। তিনি সহসম্পাদক পদ পেয়েছে। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোশারফ হোসেন রাজুকে (কমিটিতে তার নাম মোশারফ হোসেন) সহসম্পাদক এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষা বর্ষের শামীম বিশ্বাসকে সদস্য করা হয়েছে। তাদেরকে ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সরকার বিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।
২০১৫ সালের ৩০ আগস্ট উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষকদের উপর হামলা, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং চলতি বছর ২৮ জানুয়ারি বিকেলে ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে র‌্যাগিং ও এ ঘটনা নিয়ে হলে সংঘর্ষের ঘটনায় বহিষ্কৃত নয় জন সহসভাপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন।

বহিস্কৃতরা হলেন, পরিসংখ্যান বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষা বর্ষের ধনী রাম রায়( বর্তমান কমিটিতে সহসভাপতি), রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষা বর্ষের মোঃ আবদুল্লাহ আল মাসুম (বর্তমান কমিটিতে সহসভাপতি), বন ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষা বর্ষের আরিফুল ইসলাম (বর্তমান কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক) এবং একই বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ হোসেন নাঈম ( বর্তমান কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক)।
র‌্যাগিংয়ের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৩১ জানুয়ারি ৫ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। তাদের মধ্যে সমাজকর্ম বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষা বর্ষের অসীম বিশ্বাসকে স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক, গনিত বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষা বর্ষের নজরুল ইসলাম রাকিব, একই বিভাগ ও একই সেমিস্টারের মোশারফ হোসেন (সবনীল) ও একই সেমিস্টারের মাহমুদুল হাসানকে সদস্য করা হয়েছে।

শাবি ছাত্রলীগের কমিটিতে তিন জন বিবাহিত স্থান পেয়েছেন। তারা হলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০০৮-০৯ বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তাক আহমেদ (মিয়াজী), পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষা বর্ষের তরিকুল ইসলাম এবং সমাজকর্ম বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের মো. মনিরুজ্জামান মনির।

জানা যায়, মোস্তাক আহমেদ (মিয়াজী) ২০১১ সালের শেষের দিকে বিয়ে করেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়। তার স্ত্রী নিগার সুলতানা কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ে ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী। তাকে কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। তরিকুল ইসলাম ২০১৩ সালের জুন মাসে সিলেটের রুবিকে বিয়ে করেন। ২০১৫ সালে তার বিবাহবার্ষিকীতে শাবি ছাত্রলীগ নেতাদের দাওয়াত দেওয়া হয়। কমিটিতে তাকে সহসভাপতি করা হয়েছে। মো. মনিরুজ্জামান মনির ২০১২ সালে সিলেটের জালালাবাদ থানার টুকের বাজার এলাকার ফয়েজী বেগম মায়াকে বিয়ে করেন। পরে ২০১৬ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে মায়াকে মনিরের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় নেয়া হয়। মায়া এখন মনিরের বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাকেও কমিটিতে সহসভাপতি করা হয়েছে।

ছাত্রত্ব নেই এমন ১১ জনকেও কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের তুহিনুর রহমান, একই বিভাগের ২০০৭-০৮ বর্ষের আলী আকবর, ইংরেজী বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষা বর্ষের মো. রুহুল আমিন, লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষা বর্ষের কামরুল ইসলাম, একই শিক্ষা বর্ষের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুহিবুল ইসলাম মিছবা, একই বর্ষের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল কাদির রেদোয়ান, একই বর্ষের সমাজকর্ম বিভাগের ইয়াসিনুল হায়দার (রুপক), লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষা বর্ষের শরিফুল ইসলাম বুলবুলকে সহসভাপতি, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী আবীর হাসানকে ছাত্রবৃত্তি সম্পাদক, সমাজকর্ম বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষা বর্ষে শিক্ষার্থী আব্দুস সালাম মঞ্জুকে সহ-সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়াও শাহপরাণ হল থেকে নথি চুরির দায়ে বহিস্কৃত হওয়া ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষা বর্ষের তৌকির আহমেদ তালুকদারকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।

শাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ বলেন, কমিটি গঠনের সময় প্রত্যেকের বিষয়ে সুক্ষভাবে খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে। বহিস্কৃতরা সাময়িক বহিস্কৃত। যদি কেউ দোষি হয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিটিতে বিবাহিত কেউ আছে এমন তথ্য আমার কাছে নাই। যাদের কোর্স শেষ তাদের অনেকে এমফিল করার জন্য ভর্তি হচ্ছে। তারপরও যদি কেউ থেকে থাকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, আপনাদের কাছে যে সকল অভিযোগ আসছে কিংবা আরোও যেসব অভিযোগ আসবে আমরা সেগুলো খতিয়ে দেখবো। অভিযোগ সত্য হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: