সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ৩২ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘তনুর প্রথম ময়নাতদন্তে বিভ্রান্তি ও ভুল তথ্য ছিল’

tonu khunডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
কুমিল্লার আলোচিত ছাত্রী জাহান তনু হত্যা মামলার প্রথম ময়নাতদন্তে কিছুটা বিভ্রান্তি ও ভুল তথ্য থাকার কারণেই মামলা নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা হয়েছে। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষায় সিআইডি ধর্ষণের আলামত পেয়েছে। এতে তিনজনের জড়িত থাকার আলামত পাওয়া গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এ কথা জানিয়েছেন। রোববার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম পোস্টমর্টেমে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ রিপোর্ট নিয়ে বিভ্রান্তি এবং ভুল ইনফরমেশন থাকার কারণে এটার (মামলা) দীর্ঘসূত্রতা হয়েছে। কিন্তু, দ্বিতীয় পোস্টমর্টেমে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ডিএনএ টেস্টে তিনজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এটা নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

প্রথম ময়নাতদন্তে চিকিৎসকেরা তনুকে ধর্ষণের কোনো আলামত পাননি। এ ছাড়া কোনো রাসায়নিক ক্রিয়ায় তনুর মৃত্যু হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষা করে সিআইডি বলেছে, খুন হওয়ার আগে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন তনু। দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন শিগগিরই দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক, পুলিশের আইজিপি শহিদুল হকসহ বিভিন্ন সংস্থা প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের পাশে বাসার অদূরে একটি জঙ্গলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশ পাওয়া যায়।

খুন করার আগে হত্যাকারীরা সোহাগীর মাথার হিজাব টেনে খুলে ফেলে, মাথার লম্বা চুল কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলে। এ ঘটনায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন পরের দিন কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। প্রথমে কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম এর তদন্ত করেন। পরে তদন্তভার দেয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মনজুর আলমকে। ১ এপ্রিল তদন্ত দেয়া হয় সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীমকে। এ ছাড়া তনুর লাশের প্রথম ময়নাতদন্ত হয় ২১ মার্চ। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশনায় দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হয় ৩০ মার্চ। এরপর ৪ এপ্রিল প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেয়া হয়। এতে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য না করায় এ নিয়ে নানা মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে।

দেশব্যাপী বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে সারা দেশে।

প্রথম ময়নাতদন্তে তনুকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর দ্বিতীয়বার তনুর লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ডিএনএ টেস্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায় এবং এতে তিনজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। বর্তমানে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেয়া হয়নি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: