সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ১৭ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শবে বরাত: যা যা করণীয় ও বর্জনীয়

full_231561051_1463918856নিউজ ডেস্ক :: মুসলিম সমাজে শবে বরাত একটি পুণ্যময় রজনী হিসেবে পালিত হয়ে আসছে সেই আদিকাল থেকে। হিজরি বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস শাবানের ১৫তম রাত শবে বরাত নামে আমাদের সমাজে পরিচিত। ‘শব’ আর ‘বরাত’ দুটি শব্দ যোগে রাতটির নামকরণ। ‘শব’ শব্দটি ফার্সি আর ‘বরাত’ শব্দটি আরবি ও ফার্সি উভয় ভাষাতেই ব্যবহৃত হয়। ফার্সিতে বরাত অর্থ ভাগ্য। শবে বরাত বললে ফার্সি নামকরণকেই ধর্তব্যে নিতে হয়। আর তখন শবে বরাতের অর্থ দাঁড়ায় ভাগ্যরজনী। রাতটির আরবি নামকরণে বলা হয় লাইলাতুল বরআত।

তবে এই নাম কোনো আরবি পণ্ডিতের দেওয়া নয়, বরং ভারত উপমহাদেশীয় শবে বরাতেরই আরবি অনুবাদ। লাইলাতুল অর্থ রাত। আর ‘বরআত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ সম্পর্কচ্ছেদ করা। এ অর্থেই পবিত্র কোরআনে সূরা আত্-তাওবাতে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। ‘বরআত’ শব্দটির পরোক্ষ অর্থ মুক্তি। অতএব, লাইলাতুল বরআত অর্থ মুক্তির রাত। সুতরাং ধরে নেওয়া যায়, এই রাতের ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে মহান আল্লাহর বিশেষ সান্নিধ্য ও মুক্তি অর্জন করা যায়, এমন বিশ্বাস থেকেই এর নামকরণ শবে বরাত বা লাইলাতুল বরআত করা হয়েছে।

শবে বরাত বা লাইলাতুল বরআত পরিভাষাটি পবিত্র কোরআন বা হাদিসের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ বর্ণনা দ্বারা সমর্থিত নয়। তবে শাবান মাসের মধ্য রজনী তথা ১৫ শাবানের রাতের ফজিলত সম্পর্কে কয়েকটি হাদিস পাওয়া যায়। ১. হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বিছানায় পেলাম না। সুতরাং আমি তাকে খুঁজতে বের হলাম। বাকি নামক কবরস্থানে তাকে পেলাম। তিনি (সা.) বললেন: তুমি কি আশঙ্কা করছ যে আল্লাহ ও তার রাসূল তোমার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করবেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা.), আমি ভেবেছিলাম, আপনি আপনার অন্য কোনো স্ত্রীর নিকট গিয়েছেন!

তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, নিশ্চয়ই মধ্য শাবানের রাত্রিতে আল্লাহ দুনিয়ার নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন এবং কালব গোত্রের পালিত বকরির পশমের পরিমাণের চেয়ে অধিক সংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করে দেন। (তিরমিজি) ইমাম তিরমিজি (রহ.) হাদিসটির সনদ সম্পর্কে আপত্তি করেছেন। ২. আলা ইবনে হারিস থেকে বর্ণিত, হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন : এক রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছিলেন। তিনি সেজদা এত দীর্ঘ করলেন যে আমার আশঙ্কা হচ্ছিল যে, তিনি ইন্তেকাল করেছেন কি না! এমতাবস্থায় আমি উঠে তার নিকট গেলাম এবং তার বৃদ্ধাঙ্গুল ধরে নাড়া দিলাম, আঙুলটি নড়ে উঠল। তারপর আমি চলে এলাম। অতঃপর তিনি যখন সেজদা থেকে মাথা ওঠালেন এবং নামাজ শেষ করলেন, তিনি বললেন : হে আয়েশা অথবা হে হুমায়রা!

তুমি কি ধারণা করেছ যে, আল্লাহর নবী তোমার সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম, আমি সে ধারণা করিনি, বরং আমার ধারণা হচ্ছিল, না জানি আপনি ইন্তেকাল করেছেন! অতঃপর তিনি বললেন: তুমি কি জানো এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল ভালো জানেন।

তিনি বললেন: এটা হলো মধ্য শাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহ বান্দার প্রতি মনোনিবেশ করেন। ক্ষমা প্রার্থনাকারীকে ক্ষমা করে দেন, রহমতপ্রার্থীকে রহমত দান করেন আর হিংশুককে তার অবস্থার ওপর ছেড়ে দেন। (বায়হাকি শুআবুল ইমান)

শবে বরাতের আমল
১৫ শাবানের রাতে নফল নামাজ আদায় করা এবং দিনের বেলায় নফল রোজা রাখার বিষয়ে হজরত আলী (রা.) থেকে একটি প্রসিদ্ধ হাদিস রয়েছে। হজরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যখন মধ্য শাবানের রাত আসবে, তোমরা তার রাতে নফল নামাজ আদায় করবে আর দিনের বেলায় রোজা পালন করবে। কেননা, এ রাতে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহতায়ালা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, আছে কি কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব, আছে কি কোনো রিজিক প্রার্থনাকারী, আমি তাকে রিজিক দান করব, আছে কি কোনো বিপদাপন্ন, আমি তাকে বিপদ থেকে মুক্তি দান করব।

এভাবে তিনি সূর্যোদয় পর্যন্ত আহ্বান করতে থাকেন। (ইবনে মাযা, বায়হাকি) হাদিসটি সনদের দিক দিয়ে দুর্বল হলেও আকিদা এবং কোরআন ও বিশুদ্ধ হাদিসের বিরোধী না হওয়ায় এর ওপর আমল করা শরিয়তসম্মত বলে বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের অভিমত।

ভ্রান্ত বিশ্বাস
শবে বরাতের রাতে প্রথম কোরআন নাজিল হয়েছিল এবং এ রাতে আগামী এক বছরের ভাগ্য লেখা হয় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। এটা সম্পূর্ণভাবে পবিত্র কোরআনের ও বিশুদ্ধতম হাদিসের বিরোধী। তাই এমন বিশ্বাস অবশ্যই বর্জনীয়। পবিত্র কোরআন সর্বপ্রথম নাজিল হয়েছিল কদরের রাতে আর মহান আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টি ভাগ্য লিপিবদ্ধ করেছেন জগৎ সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে।

বর্জনীয়
আমাদের দেশে শবে বরাত এলে পটকা ফোটানো, কবর ও মাজারে মোমবাতি/আগরবাতি জ্বালানো, আলোকসজ্জা করা ইত্যাদি রেওয়াজ বেশ পুরোনো। শব্দদূষণ, পরিবেশদূষণ এবং অপচয় ইত্যাদি কারণে এগুলো সম্পূর্ণ হারাম। অনেকে দল বেঁধে সারা রাত ঘুরে বেড়ান, গল্প করে আড্ডা মেরে রাত পার করে দেন। একটি পুণ্যময় রাতকে এভাবে অবহেলায় নষ্ট করা মোটেও উচিত নয়। অনেকে আবার সারা রাত নফল নামাজ পড়ে, ইবাদত-বন্দেগি করে ঘুমিয়ে যান।

ফজরের ফরজ নামাজ তাদের কাজা হয়ে যায়। স্মরণে রাখা প্রয়োজন, মহান আল্লাহর দরবারে লক্ষ বা কোটি রাকাত নফল নামাজও এক রাকাত ফরজ নামাজের সমান বিবেচিত হবে না। আর ফরজ নামাজ না পড়ার ক্ষতি পৃথিবীর কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা যাবে না। সুতরাং নফল ইবাদত ততটুকুই করা উচিত। যদি নফলকে ফরজের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়, তাহলে সব আমলই বরবাদ হয়ে যাবে।

সূত্র: এনটিভি

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: