সর্বশেষ আপডেট : ৫১ মিনিট ৭ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ইরানে যেমন করে উদযাপন হয় শবেবরাত

15061_sssডেইলি সিলেট ডেস্ক::
নিরাপত্তা গেট পেরিয়ে অফিস কমপ্লেক্সে ঢুকে খানিকটা পথ গাড়িতে যাওয়ার পর আমাদের রেডিও তেহরানের ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের অফিস। পাহাড়ি পথ, গাছপালায় ঘেরা অফিস কমপ্লেক্স। দেখতে চমৎকার, পুরো এলাকা খুবই সাজানো গোছানো। যখন ওয়ার্ল্ড সার্ভিস বিল্ডিংয়ের একদম কাছাকাছি পৌঁছে গেছি তখন হঠাৎ করে গাড়িটি থামলো। গাড়িতে আমি আর সহকর্মী আশরাফুর রহমান। গল্পে মশগুল ছিলাম। হঠাৎ গাড়ি থামতে দেখে বাইরে খেয়াল করলাম। গাড়ির গ্লাসের ফাঁক দিয়ে একজন ট্রে-ভর্তি মিষ্টি এগিয়ে দিলেন সামনে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বললেন, “ঈদে শোমা মোবারাকে”। আমরা বাংলাদেশে যাকে বলি “ঈদ মুবারক”। বুঝলাম আজই শবেবরাত।

ইরানে শবেবরাতের রাতকে মূলত ইমাম মাহদি (আ.)’র জন্মদিন হিসেবে উদযাপন করা হয়। সে কারণে এ দিনটি ইরানের শিয়া মুসলমানদের কাছে বিশেষ খুশির দিন। ইরানের লোকজন যেকোনো খুশির দিনকে ‘ঈদ’ বলে থাকে। আর ইমাম মাহদির জন্মদিনকে তো বিশেষ খুশির দিন বলে বিবেচনা করা হয়। শিয়া মুসলমানরা মনে করেন ইমাম মাহদির জন্ম হয়েছিল এবং আবার পৃথিবীতে তার আবির্ভাব ঘটবে। যাই হোক, ট্রে থেকে একটি মিষ্টি তুলে নিলাম। সঙ্গে সঙ্গেই এক গ্লাস শরবত এগিয়ে দিলেন ইরানি ভদ্রলোক। বললেন, ‘বোখোর’ -মানে খান এবং পান করুন।

ইরানে বিশেষ করে রাজধানী তেহরানে শবেবরাত উপলক্ষে দিনের শুরুতে সবখানে এভাবেই মিষ্টি আর শরবত খাওয়ানো হয়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে তরুণ-কিশোর কিংবা বয়সী লোকজন নানা ধরনের মিষ্টি কিংবা কেক আর ঠাণ্ডা শরবত বিতরণ করেন। গাড়ি থামিয়ে লোকজন সে মিষ্টি নিচ্ছে, শরবত পান করছে। কারো ভেতরে কোনো লাজ-লজ্জার প্রশ্ন নেই। খেলেই যেন সবাই খুশি। অনেক সময় দেখা যাবে, সিগন্যালে গাড়ি থেমেছে তো সেখানে গিয়ে তরুণেরা শরবত আর মিষ্টি নিয়ে উপস্থিত। নিতে হবে, খেতে হবে। সে এক আলাদা রকমের আন্তরিকতা। মিষ্টি আর শরবত দিতে দেশি নেই বিদেশি নেই; সবার মাঝে নির্বিশেষে বিতরণ করছে। ভিনদেশি মনে হলে বড় জোর জিজ্ঞেস করেন- কোন দেশের নাগরিক আপনি? শুনে খুশি হন তারা, ধন্যবাদ দিয়ে খুশি মনে শরবত আর মিষ্টি খাওয়ান। ফার্সি ভাষায় ধন্যবাদ দেয়া হয় ‘‘খেইলি মামনুন”।

শবেবরাত উপলক্ষে বিকাল থেকে তরুণ-কিশোর-কিশোরীরা পটকা আর আতশবাজি ফোটাতে শুরু করে। কারণ এ যে খুশির দিন! সরকারিভাবে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আতশবাজি পোড়ানো হয়। চলে খুশির উৎসব। রাস্তায় রাস্তায় শিশুদের খুশির সে কী হিল্লোল! কোথাও কোথাও খাবার দাবারের ব্যবস্থা হয়। ইসলামী আলোচনা হয়, খাবার বিতরণ হয়। অনেকে এ দিনে দুম্বা অথবা গরু জবাইয়ের পর সে গোশত রান্না করে খাবারের সঙ্গে বিতরণ করেন। পাড়া- মহল্লার নারী-পুরুষ সবাই সে খাবার খান। শবেবরাতের পরের দিন ইরানে বাংলাদেশের মতোই সরকারি ছুটি থাকে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: