সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাংলাদেশী যুবতীকে ভারতে শ্লীলতাহানী: অতঃপর

49961নিউজ ডেস্ক:
ভারতের নদীয়া জেলার মাজদিয়া কাস্টম অফিসের সুপারিনটেন্ড প্রণব রায় পাসপোর্টধারী বাংলাদেশী এক যুবতীকে তার অফিসে ৬ ঘন্টা আটক রেখে একাধিকবার শ্লীলতাহানী করেছে এবং তার কাছে থাকা ৬ হাজার ভারতীয় রুপী লুট করেছে। এ ব্যাপারে ওই বাংলাদেশী যুবতী গেদে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষ্ণনগর কাস্টম কমিশনার বরাবর অভিযুক্ত কাস্টম সুপারিনটেন্ডেন্ট এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার কাশীপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের স্ত্রী তানিয়া খাতুন (২৫) পাসপোর্ট নং এএফ৭৭৫৭৭২৬ চিকিৎসার জন্য তার দু’ চাচাতো ভাই বিসারত আলী (২৮) পাসপোর্ট নং বিকে০০৫৯৫৩ ও ঝনু (২৬) পাসপোর্ট নং বিএফ০৭৮৯২১৪ কে সাথে নিয়ে গেদে চেকপোস্ট দিয়ে ভারতের কলকাতায় যান। চিকিৎসা শেষে বাড়ী ফেরার জন্য তানিয়া ও তার দু’ ভাই বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টা ৩০ মিনিটের সময় কলকাতার শিয়ালদাহ রেলস্টেশন থেকে গেদে চেকপোস্টে আসার জন্য ট্রেনে ওঠেন।

বেলা সাড়ে ১০ টার সময় তারা মাজদিয়া রেল স্টেশনে পৌঁছালে সাদা পোশাকে ৪/৫ জন ব্যক্তি নিজেদেরকে কাস্টম কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তল্লাশির নাম করে বেআইনীভাবে তাদেরকে ট্রেন থেকে নামিয়ে নিজ অফিসে নিয়ে যায়। এর পর একটি কক্ষে তানিয়াকে এবং অপর একটি কক্ষে বিসারত আলী ও ঝনুকে রাখেন। এরপর কাস্টম সুপারেনটেন্ড প্রণব রায় তানিয়াকে তল্লাশির নাম করে একাধিকবার শ্লীলতাহানী করেন এবং তার কাছে থাকা ভারতীয় ৬ হাজার রুপি লুট করে নেন। এ সময় তার দু’ ভাইকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করে কাস্টম সুপারিনটেন্ডেন্ট প্রণব রায় তাদেরকে বলেন, এখান থেকে ছাড়া পেতে হলে আমাকে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। এক পর্যায়ে তারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ধ্যা ৬ টার সময় তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

কাস্টম কর্তৃক নিগৃহীত পাসপোর্টধারী বাংলাদেশী নাগরিক ঝনু জানান, সন্ধ্যা ৭ টার সময় তারা গেদে চেকপোস্টে পৌঁছানোর পর বিষয়টি জানাজানি হলে উপস্থিত সবাই ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এ সময় তানিয়া খাতুন কাস্টম সুপারিনটেন্ডেন্টের বিরুদ্ধে কাস্টম কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে অভিযোগের বিষয়টি লোকমুখে শুনে অভিযুক্ত কাস্টম সুপারিনটেন্ডেন্ট প্রণব রায় গেদে চেকপোস্টে ছুটে এসে তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ৫০ হাজার রুপি উৎকোচ দেবার প্রস্তাব দিয়ে বিষয়টি আর কাউকে না বলার জন্য অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা বিএসএফের সহযোগিতায় রাত ১০ টার সময় ওই ৩ বাংলাদেশীকে দর্শনা চেকপোস্টে পৌছে দেন।

নিগৃহীতের স্বীকার বিশারত আলী জানান, রোববার অভিযুক্ত কাস্টম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, ভারতীয় দুতাবাস ও ভারতীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হবে। শুক্রবার সকালে ভারতের গেদে চেকপোস্টে বাংলাদেশের একদল সাংবাদিক সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা বলেন, কোনো বিদেশীর সাথে কেউ এতো খারাপ আচরন করতে পারে এটা ভাবাই যায় না। শুধু একজন কাস্টমস কর্মকর্তার জন্য গোটা ভারতের দুর্নাম হচ্ছে। ওই কাস্টম কর্মকর্তার কঠোর শাস্তি দাবি করেন ঐ এলাকাবাসী।

এদিকে শুক্রবার বলা ২ টার সময় অভিযুক্ত কাস্টম কর্মকর্তার ৪/৫ জন সহযোগি সংবাদ সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সাংবাদিকদেরকে বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। এদিকে অভিযুক্ত কাস্টম কর্মকর্তা পণনব রায়-এর সাথে ল্যান্ড ফোনে (০ ।৩৪৭২-২৭৬১৭০) যোগাযোগ করার চেস্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাবার পর তিনি লাইনটি কেটে দেন।

এব্যাপারে বিজিবি’র দর্শনা কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার শফিউল আলম ও দর্শনা চেকপোষ্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ শেখ মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,ঘটনাটি সংশ্লিষ্ঠ বিভাগের কর্মকর্তাদেরকে অবহিত করা হয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: