সর্বশেষ আপডেট : ১৬ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে যেভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ কোকাকোলা, স্প্রাইট, ফান্টা বাজারে বিক্রি হচ্ছে

rab daily sylhetনিজস্ব প্রতিবেদক::
বাচ্চা থেকে পূর্ণ বয়স্ক লোক গরমের দিনের নিত্যপণ্য কোমল পানীয় কোকাকোলা, স্প্রাইট অথবা ফান্টা। কিন্তু, জানি না- কী খাচ্ছি আমরা, কিভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ এসব পণ্য বাজারজাত করে আমাদের প্রতারিত করা হচ্ছে?

কোমল পাণীয় ধরণের পণ্যের উৎপাদনের পর ৩ থেকে ৪ মাস সময় মেয়াদ পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণে সময় থাকে। অথচ, প্রায় ৫ থেকে ৭ মাস আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর শুধুমাত্র সিল পাল্টিয়ে বিষে পরিণত হওয়া এসব পানীয় বাজারজাত করছে কোম্পানীগুলোর সাথে জড়িত প্রতারক ব্যবসায়ীরা। যার ফলে মারাত্মক জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুরা এর মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পড়বে।
আসুন জেনে নেবো কিভাবে প্রতারিত হচ্ছে সিলেটের সাধারণ ক্রেতারা।

আপনার চোখ বিশ্বাসই করবে না! কারণ, কোকাকোলা, স্প্রাইট কিংবা ফান্টা প্লাস্টিকের বোতল বলেন কিংবা কেন; হাতে নিয়ে দেখতে পাবেন মেয়াদ আছে এখনও ৩ মাস। আছে উৎপাদনের তারিখও। তাহলে আপনি ঠিকই আছেন। মেয়াদ আছে, খাওয়া যায়।

কিন্তু, আপনি জানেন কি- সিলেটে মেয়াদোত্তীর্ণ কোমল পানীয় এর বোতলে নতুন মেয়াদ বসিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। যার মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে ৪ মাস, ৬মাস কিংবা ৮ মাস আগে? পুরনো মেয়াদের সিল মুছিয়ে নতুন মেয়াদ বসাতে যেখানে একমিনিট সময় লাগে!

সিলেটের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, কোম্পানীর কর্মকর্তারা এমন প্রতারণা করছে। যার ফলে আমাদের ছেলেমেয়েরা মারাত্মক জীবন হুমকির মুখে পড়ছে।
শুক্রবার দিবাগত রাতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থেকে এমন প্রতারক তিনজনকে হাতেনাতে আটক করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বোতল, কাঁচের বোতল, রিমোভার ও স্পিরিট, সিল এবং কালি উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে র‌্যাব-৯ এর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার রাতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন নাভানা সিএনজি স্টেশনের পাশর্^বর্তী আল-নূর কমিউনিটি সেন্টারের নীচতলার ভগবতী এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। সেখানে তারা স্প্রাইট, কোকাকোলা ও ফান্টা ব্রান্ডের বোতলে পুরনো তারিখ মুছে নতুন তারিখ বসানোর কাজ করছিল।

যাদের মধ্যে রয়েছেন, কোকাকোলার সেলস অফিসার মো. আলতাফ হোসেন বিপ্লব (৩১)। তার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের দক্ষিণ শাহাবাজ এলাকায়। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে বসবাস করছেন। অপর দু’জনের মধ্যে সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ দেবাশীষ পাল (২১) ও ডিলার রাজু রায় (৩০)। দেবাশীষের বাড়ি দক্ষিণ সুরমার চাঁদনিঘাটে আর রাজুর বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মাদনা বাজার এলাকায়।

র‌্যাব-৯ এর পরিচালক লে. কর্ণেল মো. মাহবুব হাসান সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া বোতলে নতুন তারিখ বসিয়ে সেগুলো বাজার করা হচ্ছে। এরকম অসংখ্য কোকাকোলা, স্প্রাইট ও ফান্টার ১ লিটার, আধা লিটারের বোতল তারা উদ্ধার করেছেন। যা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ এবং জনস্বাস্থ্যগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

র‌্যাব-৯ এর উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মেজর এসএএম ফখরুল ইসলাম খান, বীর জানান, বাজারজাত কোম্পানীগুলোর কোমল পানীয়তে সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস সময় দেওয়া থাকে। সেগুলো মেশিনের সাহায্যে কালো কালিতে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ বসানো থাকে। কিন্তু কিছু কোম্পানীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ইন্ধনে ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এরা এই অন্যায় কাজ করছে। অধিক মুনাফা লাভের আশায় মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ রিমোভার দিয়ে মুছে নতুন সিল বসিয়ে সেগুলো বাজারে পুণরায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

ফখরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাতে অভিযানের সময় দুজন বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলার স্বয়ং গুদামজাত নতুন পণ্যের কক্ষে বসে পুরনো মেয়াদোত্তীর্ণ বোতলগুলো পরিস্কার কাছ করছিলো। সেখানে তারা রিমুভার ও স্পিরিট লাগিয়ে পুরনো তারিখ মুছে ফেলছে এবং সিল ব্যবহার করে নতুন মেয়াদের তারিখ লাগাচ্ছে।

সিলেটের গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বিয়ানীবাজারসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় একইভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বাজারজাত হচ্ছে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।
এটি বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর (গ) ধারা, নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ২৯ ধারা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪১, ৫০, ৫১ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই, র‌্যাব এ বিষয়ে আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফখরুল ইসলাম।

সতর্কতা : অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব বেভারেজ কোম্পানীর সিল আর প্রতারক শ্রেণির ব্যবসায়ীদের লাগানো সিলের মধ্যে ভিন্নতা আছে। মূল সিল দেওয়া মেশিনের সাহায্যে, তাই সেগুলোর সিলের লেখাগুলো কিছুটা ভিন্ন এবং প্রতারকদের সিলগুলো হচ্ছে একেবারে সাধারণ। তাই, একটু খেলা করলেই মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের বাজারজাতকরণ ধরা পড়বে। অনেক ব্যবসায়ীও যেটা অনুধাবন করেননি এখনও।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: