সর্বশেষ আপডেট : ২১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জন্মদিনে মায়ের দোয়ার প্রতীকী উপহার নিয়ে যা করলেন শামা ওবায়েদ

25নিউজ ডেস্ক ::
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর শাহেদা। শিক্ষাবিদ ও সামাজিক নেতা হিসাবে তিনি দেশে আদৃত। তাঁর এবং বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমান একমাত্র কন্যা হিসাবে শামা ওবায়েদও একজন আলোচিত সমালোচিত নাম। কিন্তু হালে ৮ মে মা দিবসে প্রফেসর শাহেদার হৃদয় বিদারক একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। মানুষ বলছে, এও সম্ভব? কি করে মা’কে একমাত্র কন্যা এতটা কষ্ট দিতে পারে! ঠিক এমন অবস্থায় গেল ১৪ মে ছিল কন্যা শামা ওবায়েদের জন্মদিন। এদিনেও মা শাহেদা কন্যার আশায় সারাদিন পার করেছেন। কিন্তু না, শামা আসে নি। মাকে সালাম করতে শামা না এলেও সান্ধ্যকালীন সময়ে মা শাহেদা দোয়া স্বরূপ কন্যাকে পাঠান জন্মদিনের গিফট। কিন্তু মানবিকতাকে জয়ী না করে শামা বাড়ির চাকর দিয়ে তা ফেরত দিয়েছেন। এমন অবস্থায় মা শাহেদার জন্য ১৫ মে ছিল আরেকটি শোকাবহ দিন। যাকে(শামা) ছেলেবেলায় বড় করেছিল- শামার নানা ভাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকী। না, কোনো খবর নেই শামা ওবায়েদের।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই বিষয়েই স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রফেসর শাহেদাকে মাম(মা) বলা ‘পুত্র’ মিডিয়ার ভাষায় আসল বিএনপির নেতা কামরুল হাসান নাসিম। তিনি এই প্রথম শামা কে বোন বলে যা লিখেছেন তা পাঠক বর্গের জন্য তুলে ধরা হলোঃ
‘মন’ বড়ই বিচিত্র ও রহস্যময়। জীবনে চলার পথে এই ‘মন’ চাপ সামলাতেও পারে আবার নাও পারে। সামলাতে না পারলে দুটো কাজ হয়। এক, সে পাপাচার, অনাচার, ব্যভিচারে পর্যন্ত চলে যায়। দুই, মনটা অসুস্থ হয়ে পড়ে- তখন ক্ষনে ক্ষনে পানি পান করা, গলা শুকিয়ে আসা আর খুব কষ্ট হয় বুকের ভেতর। কয়েকদিন আগেই মা দিবসে আমি আমার গর্ভধারিণী ‘মা ও মানবিক সম্পর্কের আরেক মা- ‘মাম’( প্রফেসর ডক্টর শাহেদা) কে নিয়ে কয়েক লাইন লিখেছিলাম। আজ লিখছি মুলত মামের মন ও কষ্টকে ধারণ করা প্রসঙ্গে। কিন্তু কেন? যৌক্তিক কারণেই একজন মায়ের জন্য আজ যে আমাকে লিখতেই হবে।ring
ফেসবুক যেদিন থেকে ব্যবহার করছি- আমি চেষ্টা করে থাকি মানুষের জন্য দিক নির্দেশনামূলক কিছু সাধারন লেখায় থাকতে বা কখনো মত কিংবা দর্শন রাখতে। অনেক সময় ব্যক্তিগত পর্যায়ে কাউকে কটাক্ষ করে নয়- বড়জোর রাজনৈতিক ভাবে গোষ্ঠীগত সমালোচনায় থাকতে। কিন্তু আজ খানিকটা ব্যক্তিগত কিছুতেই যেতে হচ্ছে। আর সেটি আমার মামের জন্যই।
শামা আপুর ডাক নাম রিংকু। গেল তারিখ অর্থাৎ ১৪ মে ছিল তাঁর জন্মদিন। এরমধ্যে মা দিবসে আমার মামের ফেসবুক স্ট্যাটাস যখন সারাদেশ ও বিদেশে আলোচনার খোরাকে ছিল- তখন থেকে একজন মেয়ে তাঁর মায়ের কষ্টকে ধারন করতে পারেন নি- এমন খবর আমার কানে আসে। অথচ মনে প্রাণে আমার খুব ইচ্ছে হয়- মা, মেয়ের এক মানবিক পুনর্মিলনে চুকে যাক সবকিছু। আমি কারোর ভাই কিংবা পুত্র হিসাবে বিষয়টা আবেগী ধারায় উপভোগ করি!
একজন মাম ঠিকই গেলদিনে নিজের মেয়ের জন্য দোয়া চেয়ে উপহার পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু হায়! রক্ত সম্পর্কের একমাত্র কন্যা সেই শামা তাঁর চাকর দিয়ে তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। কোথায় যাচ্ছে পৃথিবী! মা যখন তাঁর সন্তানকে কার্যত তাঁর কোল জুড়ে আবার ফেরত আসার জন্যই তাগিদ রেখেছিলেন, যারাই তাঁর মায়ের ওই মর্মস্পর্শী লেখাটি পাঠ করেছিলেন- তাদের সবারই চোখে অশ্রু ঠেকানো সম্ভবপর হয় নাই- সেই কন্যা কি একটিবারের জন্য বলতে পারে নাই- মা মনি তুমি আমাকে ক্ষমা করো!
কোথায় যাচ্ছে মনুষ্যত্ব। গলায় জড়িয়ে ধরে কেন এবং কি কারণে সে তাঁর মা মণি কে(এই নামেই ডাকতো) বলতে পারেনা, তুমি আর কষ্ট নিও না। আমি তো আছি…
আমি খুব অবাক হই। আজ ১৫ মে। শামা আপুর নানা ভাই এর মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৯ সালের এই দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নানা ভাই মারা যান। মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের কবরে শুয়ে আছেন তিনি। সমসাময়িককালে ওই কবরাটাতে মামের সাথে যাওয়া হয়। এবারেও তা হবে।কিন্তু কোথায় সেই মেয়েটি? যে নানা ভাই তাঁকে কখনোই ‘রিংকু’ নামে ডাকে নাই- ‘নানাভাই’ বলে বুকের মধ্যে জড়িয়ে রাখতো! শামা আপুর বয়স যখন ছয়, নানা ভাই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। আশি কিংবা নব্বই দশকেও এই আপু তাঁর নানাভাই, নানু, মামা, খালাদের জন্য পাগল ছিল, মা মনি ছাড়া কাউকে আপন করে নিতে পারতো না- কিভাবে আজ সবকিছু বদলে গেল! বাবা কে এম ওবায়দুর রহমানের রাজনীতি, মা মণির শিক্ষকতার পেশা- ছেলেবেলায় তো অবসর জীবনের এই নানা ভাই-ই তাঁকে সারাক্ষন আগলিয়ে রাখতো। শামা আপু আজ জানে কিনা বলতে পারবো না, আমেরিকাতে তাঁর নানু এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা রেখে লড়ছে। কিন্তু রিংকু কে কেও ভুলে নাই। আদরের ‘রিংকু’ তাদের কারোর খবর না নিলেও প্রত্যেকটি মানুষ তাঁকে অনুভব করে! মামকেই আজ তাঁরা স্বান্তনা দেয়, ফিরে আসবে সে একদিন! কিন্তু কবে, কখন? মামের কি বয়স হয় নাই? একটা মানুষ একা থাকবে- আর কিসের নেশায় একাকীত্বের জীবনে একজন মাকে ফেলে রাখতে হবে! আমারতো মনে হয়, শামা আপু তাঁর মা মণির কাছে ফিরে গেলে তাঁদের মধ্যকার চিরন্তন সম্পর্ক প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হবে মানবিকতা। যেখানে সন্তান ও তাঁর মায়ের কাছে পৃথিবীর তাবৎ কিছু তুচ্ছ হয়ে পড়াটাই হবে অনুকরণীয় এক মাহাত্ম্য।
পরের মন কে কষ্ট দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে নিজেও ভাল থাকা যায় না। আর গর্ভধারিণী ‘মা’ হলে তো কথায় নেই। এই সেদিন এটিএন নিউজ থেকে এক সংবাদকর্মী সাক্ষাতকার নিতে এসে আমাকে বলছেন, আপনারা বেগম জিয়ার কিংবা তাঁদের নেতাকর্মীদের মতো জিয়ার মাজারে কেন যান না? আমি বললাম, যাই যে! আমি একা যাই। আমি যদি সত্যিই তাঁকে ভালবাসি তাহলে কবরে যাবো একা। কেও জানবে না। প্রশ্ন করলেন, তাই উত্তর দিলাম। কিন্তু শামা আপু কি সত্যি আজ কবরে গিয়েছিলেন? নাকি কৃত্রিম এক নাটকীয় আয়োজনে দলের পবিত্র ও অপবিত্র মানুষগুলোর সাথে গা ঢলাঢলি করে শহীদ জিয়ার কবরে যেতেই সে স্বস্তিতে থাকে? আপু, তুমি কি অস্বীকার করতে পারবে- রাতের পর রাত গুলশান কার্যালয়ে আমাদের দলের নষ্ট নেতাদের সাথে কথিত রাজনীতির নামে বিতর্কিত আড্ডায় তুমি থাকোনি! এসব আপু, কে এম ওবায়দুর রহমানের কন্যা হিসাবে যায় না! তুমি তো বড় স্বপ্ন কখনোই দেখোনি। তোমাকে যখনই দেখি আমার লজ্জা হয়। আমার বাবা যদি ওবায়দুর রহমান হতেন- আজ বলে দিচ্ছি, দলের সবার মন জয় করে বিএনপি পুনর্গঠন করা আমার জন্য সহজ হতো। তবু তোমার এই ভাই হাল ছাড়িনি।ইনশাল্লাহ আমিই বিজয়ী হবো।
শুনেছি কাল তোমার জন্মদিনে নিজের মাকে সালাম না করে ছুটেছিলে বেগম জিয়ার কাছে! কি চাও শামা আপু? লেখার শুরুতে ছিলাম মন না সামলানোর দুটি ধারাভাষ্যে। তোমার মনকে দুনিয়ার কোন অস্ত্র তোমায় দিকভ্রান্ত করছে? একবার বলতে পারো আপু? কেন তুমি পথভ্রষ্ট হলে? নিজের মাকে ভুলে গেলে! আপু কি জানে- তাঁর মা গেল কয়েকবছরে এইদিনে তাঁর জন্য অপেক্ষা করে সারাটা দিন। বারান্দায় যাওয়ার অভ্যাস না থাকলেও মনটা পড়ে থাকে একমাত্র কন্যাকে একবার দেখার অভিলাষে। ইন্টারকম বেজে উঠলেই- তিনি মনে করে, সিকিউরিটি বলবে, ছোট ম্যাডাম উপরে উঠছেন! রিংকু কে বুকের মধ্যে জড়িয়ে রাখার আজো এক নীরব ডাকের অপেক্ষায় তিনি রয়েছেন। হ্যাঁ, আমার মাম- আর তুমি রিংকুর ‘মা মণি’ তিনি। তোমার দেয়া আঘাতে তাঁর গলা শুকিয়ে আসে। ঘন ঘন পানি পান করতে হয়! আর কষ্ট দিও না তাঁকে। নানা ভাই কে একবার দেখতে যাও। তিনি যে তোমাকে কোলের মধ্যে সারাক্ষন রাখতো! মা মণির কাছে ফিরো। মনে আছে- তোমার স্কুলে নিজে ড্রাইভিং করে সে নিয়ে যেত! কিসের আশায়! কোন কিছু প্রাপ্তির জন্য নয়- সন্তান বড় হবে, মা-বাবা কে দেখবে বলেই তো! মুঠোফোনে আজই বলে ওঠো, মা মণি আমি আসছি! সেই আগের মতো। একজন ভাই হিসাবে হয়তো আর কখনো এমন করে বলবো না! ভাল থাকো, অনেক ভাল থাকো শামা আপু…

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: