সর্বশেষ আপডেট : ২৯ মিনিট ১৬ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জেমস আসছেন পলিটিক্সে?

24বিনোদন ডেস্ক ::
পুরো নাম ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস। অতি সম্প্রতি নিজের করে নিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেই নিয়েছেন সেটি। যখন জেমসের নাম ঘোষণা করা হয়- আর কি বসে থাকে সবাই! করতালি আর করতালি! পপ গায়ক থেকে দেশের মুল ধারার সম্পূর্ণ সঙ্গীত শিল্পী। অনেকেই বলে থাকেন, দেশের একমাত্র পুরুষ সিঙ্গার। বাংলাদেশের লেজেন্ড এন্ডু কিশোর একদিন বললেন, আমরা যা পারি নাই, জেমস তা করে দেখিয়েছে। জেমস ট্রেন চলছেই। ভালবাসার চিঠি নিয়ে সে যেন সবার ঘরে ঘরে প্রিয় এক সত্তা।
এমন যদি হয়, পাশ্চাত্য কিংবা পশ্চিমা দেশ হতে একসময় জেমসের কারণে বাংলাদেশ সফরে আসছে তাঁরা! যদি বাংলাদেশের পর্যটন খাত চাহিদার খাতে পৌঁছে তবে সে রকম দিনে ট্যুরিস্টদের প্রধান আকর্ষণ এই জেমস হতে পারে বলে অনেকেই মত রাখেন। হয়তো সে সময় জেমস পৃথিবীতে থাকবেন না- কিন্তু তিনি রয়ে যাবেন ভক্তুকুলে আজীবন।
ঠিক সে রকম উদ্যোগ আজকাল তাঁর ভক্ত থেকেও হচ্ছে। একনিষ্ঠ ভক্ত-আশেকানদের ভালোবাসা-পাগলামি কিংবা বাড়াবাড়ির ক্ষেত্রেও রেকর্ড কিংবা ইতিহাস গড়েছেন জেমস। এক্ষেত্রে চিরদিনের জেমস ভক্ত কিশোরগঞ্জের প্রিন্স মোহাম্মদও অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রিন্স গত বছর প্রিয় তারকার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে ১০টি বিলবোর্ড টাঙিয়ে সবাইকে আচানক চমকে দেন। ২০০০ সাল থেকেই প্রতি বছর এদিনে প্রিন্স কোনো না কোনো আয়োজন করে চলছেনই। জেমসকে নিয়ে তাঁর এই পাগলামিকে মাত্রা ছাড়িয়ে যায় ২০০২ সালে। এ বছর প্রিন্স কিশোরগঞ্জে হোসেনপুর উপজেলা সদরের একটি রাস্তার নামকরণ করেন ‘জেমস রোড’।
একটা সময় আরো নতুন কিছু দেখা যেতে পারে জেমস কে ঘিরে। এমন হতে পারে, জেমস্ কে নিয়ে স্ট্যাচু নির্মাণ থেকে শুরু করে দেখা যাচ্ছে ‘নগর বাউল’ কেন্দ্রিক নানা ব্যাঞ্জনা- ব্যজুস্তিতি!
ইতিহাস গড়া নগর বাউল জেমসের জন্য নিত্য নৈমিত্যিক একটা ব্যাপার মাত্র। ক্যারিয়ারের সব ক্ষেত্রেই তিনি আর সবার সব রেকর্ডই ভেঙে চুরমার করে রীতিমতো চক্ষুশূল হয়ে আছেন।
এক কথায় তিন প্রজন্মের ভক্তদের সবচেয়ে আপন আর সমকালে সহকর্মীদের কাছে সবচেয়ে ঈর্ষণীয় একজনই- তিনি জেমস। ভক্তদের বিশাল সীমারেখা পেরিয়ে এখন তারকাদেরও তারকা জেমস। সাম্প্রতিককালে দু’একটা যুতসই উদহারণ না দিলে লেখা শুরুর এই অংশটুকু অতিব বাহুল্যই মনে হতে পারে।
নগর বাউলকে নিয়ে এই লেখার উপলক্ষটাও অন্যরকম। প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে বাংলাদেশের ব্যান্ডসঙ্গীতে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করলেন বিশ্বখ্যাত এই রকতারকা। ইতিহাস এ জন্য যে, তাঁর আগে দেশের আর কোনো ব্যান্ডসঙ্গীত শিল্পী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সলো গায়ক হতে পারনেনি।
‘দেশা দ্য লিডার’ ছবিতে অসাধারণ গানটি গাওয়ার জন্য ২০১৪ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন জেমস। আসছে ১১ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে নগর বাউল এ পুরস্কার গ্রহণ করবেন। প্লেব্যাকে ঢাকাই ছবি জয় করার আগেই হিন্দি ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘ভিগি ভিগি’, ‘চাল চালে’, ‘আলভিদা’, ‘রিসতে’ এবং সর্বশেষ ‘বেবাসী’সহ গানগুলো উপমহাদেশে একটা ভিন্ন ঘটানাই সৃষ্টি করেছে। এ জন্য মুম্বাইয়ের খ্যাতনামা পরিচালক মহেশ ভাট জেমসকে ‘এশিয়ার জিম মরিশন’ উপাধিতে ভুষিত করেছিলেন। ভবিষ্যতে তাঁর মতো বাংলাদেশের আর কোনো শিল্পীর পক্ষে প্লেব্যাকে মুম্বাই ছবি শাষণ করা সম্ভব হবে কি-না তা একমাত্র মহাপ্রভুই বলতে পারেন।
পাশাপাশি ‘স্টেশন রোড’, ‘অনন্যা’, ‘জেল থেকে বলছি’, ‘পালাবে কোথায়’, ‘নগর বাউল’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করো না,’ ‘লেইস ফিতা লেইস’, ‘ঠিক আছে বন্ধু’, ‘দুষ্ট ছেলের দল’, ‘আমি তোমাদেরই লোক’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘তুফান’, ‘কালযমুনা’ অ্যালবামগুলোর গানে গানে ৮০’র দশকের শেষ প্রান্ত থেকে আজ অবধি সব বয়সীদের জেমস উন্মাদনা চলছেই। হিসাব করলে তিন দশক, কিন্তু কণ্ঠের যাদুতে সম্মোহন আকাশ ছুঁয়ে গেছে। আরও তেজোদীপ্ত, ক্ষিপ্রতা, অভিনব বহিঃপ্রকাশ আর তারণ্যে ভরপুর নগর বাউলের প্রতিপক্ষ কেবল তিনি নিজেই। কনসার্টে এই চিত্র সবচেয়ে স্পষ্ট। কনসার্ট জমানোর ক্ষেত্রে গুরু জেমস ৯০ পেলে বাকি সবাই মিলে ১০ নম্বও পেতেও কষ্ট হবে। সবমিলিয়ে প্রতিযোগিতা ভুলে নগর বাউল বন্দনাতেই এখন তাঁর সহকর্মীদের দিন-রাত একাকার। এইতো এবার ১লা বৈশাখে এক দিনে ৬ কনসার্টে গেয়েছেন নগরবাউল। সকাল ৮টায় বনানী মাঠে একটি কনসার্টের মাধ্যমে দিন শুরু, সেখান থেকে রমনা, এরপর ডিএমপির মঞ্চ, তারপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হয়ে টিএসসি এবং সবশেষে ধানমন্ডির শেখ জামাল মাঠে গাইলেন নগর বাউল। অতিমানব না হলে দিনভর কনসার্টে সব মঞ্চ সমানে সমানে কাঁপানো কেমন করে সম্ভব! নগর বাউলের বর্তমান লাইনআপে রয়েছেন জিমি (ড্রামস), সাব্বির (বেইজ), জামান (গিটার, সেকেন্ড লাইভ), তমাল (কিবোর্ড) ও রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন (ম্যানেজার)।
সর্বশেষ ফটোগ্রাফির শখ থেকে এখন এক পাকা আলোকচিত্রী জেমস। দেশ-বিদেশে গিটারের মতো এখন সমানতালে তাঁর হাতে চলে ক্যামেরাও। ক্যানন ওয়ান ডিএক্স ও পেনটাক্স ৬৪৫ জেড রীতিমতো গর্জে উঠছে। প্রকৃতরি ছবি, ল্যান্ডস্কেপ কিংবা ফ্যাশন/মডেল ফটোগ্রাফিতেও রেকর্ড গড়ছেন তিনি। তাঁর ফেসবুক ঘাঁটলে দেখা যায়, কোনো এক শ্যামল নারী, ফুকেটের সমুদ্র সৈকতে আছড়ে পড়া ঢেউ, নিউইয়র্কে সূর্য্যাস্ত, ভ্যানকুভারের পাহাড়-ফুল, বরফঘেরা পোখারায় এক পর্বতের ছবিসহ আরও অসংখ্য স্থিরচিত্র।
ইনস্টাগ্রামেও James_nagar_baul নামে খুঁজলেই পাওয়া যাবে জেমসকে। মোটের ওপর বলা চলে, ক্যারিয়ারে যেখানেই হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলেছে। শিল্পী সন্মানীর ক্ষেত্রেও দেশে-বিদেশে জেমসের ধারে-কাছে ঘেঁষতে পারেন না সহকর্মীরা। আর বাংলাদেশের অন্য কোনো শিল্পীর পক্ষে তা কল্পনারও অতীত। মোটকথা ষোলকলা পূর্ণ করেই ইতিহাসের পাতায় জেমসের নাম সোনার হরফে লেখা হয়ে গেছে। এমন একটা অনুভূতিপ্রবন বিষয়ে জানতে চাইলে চটজলদি জেমসের উত্তর, ‘ভেবেচিন্তে কিছু করি না। যাঁরা আমার গান শোনে আর ভালোবাসে তাঁরাই আমার আসল বন্ধু। তাঁদের সঙ্গে আমি গানে গানে শেয়ার করি আমার সুখ, আমার দুঃখ। ব্যস, এইটুকুই।’j
জেমসের ‘বাংলাদেশ’ গানটিও রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষিতকে কাছে টানে। অনেকেই আশা করে, এমন আরো কয়েকটি গানে জেমসের কন্ঠ ভাসুক। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজকের বাংলাদেশ। এর জন্য হয়তো অপেক্ষা করতে হবে। এই জেমসের ‘এপিটাফ’ গান টি একসময় ব্যবহার করেছিল দেশের জনপ্রিয় দল বিএনপি। পিছে ফিরে তাকাতে হয় নাই। বি চৌধুরীর উপস্থাপনায় এটিএন বাংলায় প্রচারিত ওই ‘সাবাশ বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের বদৌলতেই ২০০১ সালের মেয়াদে বিএনপির ক্ষমতায় আসার নেপথ্যে দারুণ কাজ করে গানটি। অনেক ক্ষেত্রে জেমসের রাজনীতিতেই ভুমিকা আছে। হালে পুরষ্কার নিয়েছেন শেখ হাসিনার কাছ হতে। সেদিন কি কোনো কথা হয়েছিল জেমসের সাথে হাসিনার! হলেও কিন্তু আরেকটি খবর হতেই পারে! যদি তাঁর কন্ঠে আরেকটি দেশের গান মুখরিত হয়, তবে কিন্তু শেখ হাসিনারও আরেকটি জয়ের হাতছানি দেখা দিতে পারে। এমন আরেকটি গান রয়েছে জেমসের। লিডার আসছে শীর্ষক এই গানটি। এই প্রসঙ্গেই বহু বছর আগে জেমস বলেছিলেন, এটি কারো জন্য নয়, গানটি নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা আছে তাঁর। তবে কি জেমস রাজনীতিতে আসবেন?

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: