সর্বশেষ আপডেট : ৫৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নিখাদ এক ভালোবাসার টানে মন্ত্রী…

Obidul0120160520231140নিউজ ডেস্ক: নোয়াখালী থেকে আসতে যেতে মন্ত্রী এখানেই যাত্রাবিরতি নিতেন। শুধু কি যাত্রা বিরতি? তা নয় আসলে। কারও এক মধুর মায়াজাল আর ভক্তির আবেশে বিদ্ধ হয়ে মন্ত্রী আটকে যেতেন পানাম নগরের পাশের এক বাড়িতে। যে বাড়ির লোকটির সঙ্গে তার কুঁড়ি বছরের সম্পর্ক।

তারপর সময়ে-অসময়ে, দুঃসময়ে জেলে বা জেলের বাইরে এই রাড়ির আতিথেয়তায় মোটেও হেরফের ঘটেনি। যে লোকটি এই বন্ধনের মায়াজালে বন্দি করে রেখেছিলেন তার নাম আওয়াল গাজী।

মন্ত্রী যখন রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে আদালতের কাঠগড়ার ভেতরে দাঁড়াতেন তখনও চেয়ে দেখতেন একটি লোক উঁকি মারছেন। সেই উঁকি মারা লোকটি সোনরাগাঁওয়ের সেই আওয়াল গাজী। উদ্দেশ্য ওবায়দুল কাদেরকে এক নজর দেখা। কেমন আছেন তিনি!

এতো ভক্তি আর ভালোবাসা ছিল ওবায়দুল কাদেরকে ঘিরে। কিন্তু কেন আর কীভাবে শুরুটা হয়েছিল, এবার তা শোনা যাক স্বয়ং আওয়াল গাজীর মুখ থেকে। সোনারগাঁওয়ে ’৭৫ সালের দিকে মন্ত্রী যখন আসতেন লেখালেখির কাজে, সেই সূত্রে পরিচয় ঘটে। পরিচয় থেকে যে সম্পর্ক গড়ায় তা পরে পেরিয়ে যায় ২০ বছর। সময়ের পরিবর্তনে ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সংস্কৃতি মন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী, এখন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

এতো ভক্তি-ভালোবাসায় বেঁধে রাখা লোকটি একদিনও মন্ত্রীর কাছে কোনো তদবির নিয়ে যাননি। একবারও কোনো কিছু চাননি। কারো সুপারিশ নিয়ে আসেননি। মন্ত্রী যখন নিজেই তার কাছে অনেক ঋণ, সেই ঋণ শোধের পথ খুঁজতেন তিনি মাঝে মধ্যে।

একবার আওয়াল গাজী তার মেয়ের বিয়েতে দাওয়াত দিলেন মন্ত্রীকে। বিয়ের দিন মন্ত্রী আসলে মুখটা বড় হবে আওয়াল গাজীর। মন্ত্রীও ভাবলেন ঋণ শোধের এই একটু সুযোগ হয়ত মিললো! এরপর বিয়ের দিন মন্ত্রীর মিটিংয়ের পর মিটিং। শেষ পর্যন্ত যাওয়া হলো না বিয়েতে। মন্ত্রী আসবেন বলে সেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন আওয়াল গাজী। এরপর আরেকদিন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আওয়ালের মেয়ে। মন্ত্রী খবর পেলেও দেখতে যেতে পারলেন না। অবশ্য ফোনে-ফোনে খবর রেখেছেন নিয়মিত।

কিন্তু যে লোকটি ২০ বছর ধরে তাকে বিপদে-আপদে এতো ভক্তি ভালোবাসা দিয়েছেন সেই লোকটির কোনো আপদে-বিপদে দাঁড়াতে পারছেন না মন্ত্রী।

স্ত্রী আর মেয়েদের কাছে ভীষণ লজ্জা পেলেন আওয়াল গাজী। মুখটা বেশ ছোট হয়ে গেলো। আওয়াল গাজীর পরিবারের লোকজন বললেন, ‘কোথায় তোমার মন্ত্রী যাকে এতো ভালোবাসে চিতই পিঠা নিয়ে যাও। বিয়েতেও এলো না, হাসপাতালেও দেখতে গেলো না’।

মন্ত্রী ভাবলেন, হয়ত লোকটি আর খোঁজই নেবেন না তার। ২০ বছরের সুসময়ে-দুঃসময়ে যে ভক্তি ও ভালোবাসা দিয়েছিলেন তা হয়ত হারাবেন তিনি। কিন্তু তা হলো না। লোকটির ভক্তিতে কমতি ঘটলো না খানিকও।

এবার তিনি মন্ত্রীকে সোনারগাঁওয়ে বাস চালু-উদ্বোধনের এক অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে বসলেন। বাস মালিকরা তার মাধ্যমেই দাওয়াত দিলেন মন্ত্রীকে। মন্ত্রী না চিনেন বাস মালিকদের, না চিনেন আর কাউকে। শুধু আউয়াল গাজীর আমন্ত্রণে ছুটে এলেন সোনারগাঁও।

শুক্রবার (২০ মে) ছুটির দিনে আওয়াল গাজীকে সঙ্গে নিয়ে চালু করলেন ৩০টি এসি বাস। এরপর গেলেন তার বাড়িতেও।

মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানালেন, যখন তিনি বাংলার বাণীর সাংবাদিক তখন লেখালেখির কাজে আসতে গিয়ে পরিচয় হয় এই আওয়াল গাজীর সঙ্গে। পরে মন্ত্রী হলেও আওয়াল সম্পর্কের খাতিরে কোনো তদবির নিয়ে যাননি। আসলে তিনি অনেক ভক্তি আর ভালোবাসেন, এটাই সত্যি।

আওয়াল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন হাসপাতালে।

মন্ত্রী জানান, তিনি যখন সংস্কৃতিমন্ত্রী তখন প্রায়ই বৃহস্পতিবার চলে যেতেন নোয়াখলীতে নিজ এলাকায়। শনিবার রাতে যখন ঢাকার পথ ধরতেন তখন এখানে এসে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) রেস্ট হাউসে থাকতেন। আওয়ামী লীগের স্থানীয় একজন নেতা রাতে খাবার নিয়ে আসতেন আর আওয়াল নিয়ে আসতেন সকালের নাস্তা। সেই যে চিতই পিঠার নাস্তা এখনও মনে পড়ে।

শুক্রবারও মন্ত্রী আওয়াল গাজীর ঘর থেকে যখন বের হচ্ছেন তখন পিঠার কথা বলায় আরেকটু বসলেন। হাতে পিঠা নিয়েই বের হলেন। তার আগে লিচু আর চা বিস্কিট খেলেন।

এখন আওয়াল গাজীর ছেলে মাস্টার্স পাস করেছে। এ খবর শুনে দ্রুত জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) সংগ্রহ করতে তাগিদ দিলেন নিজের একান্ত কর্মীদের।

নিঃস্বার্থ যে ২০ বছরের ভালোবাসা তার হয়ত কিছু প্রতিদান দিতে পেরে ঢাকার পথে ফিরেছেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মনে এই তৃপ্তি যখন- তখন আবার বললেন, ‘সে আমায় এতো ভালোবাসতো-ভক্তি করতো যে আমার কাছে কোনো কিছু চাওয়া তার যেকোনো সময়ের ব্যাপার ছিল। কিন্তু কোনো দিন চাওয়া তো দূরে থাক, কারো ব্যাপারে কোনো অনুরোধও নিয়ে আসেননি। নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসে গেছেন। কাশিমপুর কারাগারে দেখতে গেছেন। আদালতে আসলে কাঠগড়ায়ও এক নজর দেখতে যেতেন। আমার একটা কষ্ট ছিল- তার মেয়ের বিয়েতে গেলাম না আবার হাসপাতালে দেখতেও যেতে পারলাম না। এখন বাড়িতে এসে তাকে যে খুশি করতে পেরেছি এতেই ভালো লাগছে। এটি আমার ব্যক্তিগত আবেগ আর ভালোবাসা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: