সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভূমির অধিকার চায় নিজ দেশে পরবাসী চা শ্রমিকেরা

daily sylhetবিশেষ প্রতিনিধি:
আজ ২০ মে, ঐতিহাসিক চা শ্রমিক দিবস। ১৯২১ সালের এই দিনে ব্রিটিশদের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা শ্রমিক নিজেদের জন্মস্থানে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। তখন চাঁদপুরের মেঘনাঘাটে ব্রিটিশরা গুলি চালিয়ে কয়েকশ’ চা শ্রমিককে হত্যা করে। এরপর থেকেই তারা এ দিনটি ‘চা শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন। ৯৫ বছরেও তাদের এ দিবসটি জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পায়নি। অবসান হয়নি তাদের বঞ্চনার। এদেশের নাগরিক হলেও তাদের নিজস্ব কোনো ভূমি নেই। দৈনিক মজুরিও তাদের একেবারেই নগণ্য। দৈন্যতা যেন তাদের নিত্যসঙ্গী।

পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে চীন ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোথাও চায়ের প্রচলন ছিল না। ১৮৫৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে সিলেটের মালিনীছড়া চা বাগানে চা চাষ শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। সে সময় বৃহত্তর সিলেটে চা বাগান তৈরির জন্য ভারতের আসাম, উড়িষ্যা, বিহার, উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়।

‘গাছ হিলেগা, রুপিয়া মিলেগা’ এমন প্রলোভনে শ্রমিকরা বাংলাদেশে এলেও তাদের ভুল ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি। বিশাল পাহাড় পরিষ্কার করে চা বাগান করতে গিয়ে হিংস্র পশুর কবলে পড়ে কত শ্রমিকের জীবন গেছে তার কোনো হিসেব নেই। এছাড়া ব্রিটিশদের অত্যাচার তো ছিলই। তাদের অব্যাহত নির্যাতনের প্রতিবাদে তৎকালীন চা শ্রমিক নেতা পণ্ডিত গঙ্গাচরণ দীক্ষিত ও দেওসরণ ‘মুল্লুকে চল’ (দেশে চল) আন্দোলনের ডাক দেন।

১৯২১ সালের ২০ মে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা শ্রমিক সিলেট থেকে হেঁটে চাঁদপুর মেঘনা ঘাটে পৌঁছান। তারা জাহাজে চড়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইলে ব্রিটিশরা গুলি চালিয়ে কয়েকশ’ শ্রমিককে হত্যা করে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। যারা পালিয়ে এসেছিলেন তাদেরকেও আন্দোলন করার অপরাধে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

এরপর থেকেই প্রতি বছর ২০ মে চা শ্রমিক দিবস হিসেবে দিনটি পালন করছেন চা শ্রমিকরা। চা শ্রমিকদের শ্রমে-ঘামে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরলেও তাদের ভাগ্যের চাকা আগের মতোই স্থির। ৮৫ টাকা দৈনিক মজুরিতে সংসার চালাতে হয় তাদেরকে। সংসারের ঘানি টানতে গিয়ে তাদের লেখাপড়া খুব বেশি হয়ে ওঠে না।

চা শ্রমিক নেতা ও আদীবাসী ফোরাম হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি স্বপন সাওতাল জানান, মেঘনা ঘাটে আসাম রাইফেলসের গোর্খা সৈনিকরা নির্মমভাবে চা শ্রমিকদের হত্যা করে। এরপর যারা বেঁচেছিলেন তারা নিরুপায় হয়ে আবারো বাগানে চলে আসেন। তবে শ্রমিকরা যাতে ট্রেনে না চলতে পারেন তার জন্য সহজ-সরল শ্রমিকদেরকে বাগানের নামাঙ্কিত একটি করে ট্যাগ দেয়া হয়। সেই ট্যাগ দেখলেই শ্রমিকদেরকে নামিয়ে দেয়া হতো। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর ডাকে চা শ্রমিকরা তীর-ধনুক নিয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়। কিন্তু দেশে এখনো চা শ্রমিকরা ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত।

শ্রমিক নেতা কাঞ্চন পাত্র জানান, এখনো চা শ্রমিকদের জীবনমানের কোনো উন্নয়ন ঘটেনি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়নি। অবিলম্বে শ্রমিকদের চুক্তি নবায়ন, দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা, রেশন হিসেবে সাপ্তাহিক ৫ কেজি চালসহ ৭ দফা দাবি মানতে হবে। তিনি ২০ মে রাষ্ট্রীয়ভাবে চা শ্রমিক দিবস ঘোষণা এবং ওইদিন বেতনে প্রদানপূর্বক ছুটি বাস্তবায়নেরও দাবি জানান।

কেন্দ্রীয় চা শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল জানান, দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ১৫ লাখ আদিবাসী চা শ্রমিক আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা কোটা সুবিধা পেলেও চা শ্রমিকরা তা পায় না। নিজেদের ভাগ্য ফেরাতে লেখাপড়া ও চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সুবিধা চায় চা শ্রমিকরা।

চা শ্রমিক দিবস উপলক্ষে হবিগঞ্জের বাগানগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। চা শ্রমিক জনগোষ্ঠী ভূমি অধিকার ও ছাত্র-যুব আন্দোলনের উদ্যোগে বেগমখান চা বাগান নাচঘরে দিনব্যাপি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, র‌্যালি, আলোচনা সভা, নাটক ও গণসংগীত, আলোকচিত্র ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: