সর্বশেষ আপডেট : ১২ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এমপি চড় মেরে বলে ‘শালা কান ধর’

14841_f3নিউজ ডেস্ক:

স্বেচ্ছায় কান ধরে উঠবস করার বিষয়ে এমপি সেলিম ওসমানের বক্তব্য নাকচ করে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত বলেছেন, সেলিম ওসমান তার কোনো বক্তব্য না শুনে প্রথমে চড় দেন এবং কান ধরে উঠবস করতে বলেন। গতকাল সেলিম ওসমান সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেয়ার পর এ প্রতিক্রিয়া জানান শ্যামল কান্তি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্যামল কান্তি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার দিন বিকালে এমপি সেলিম ওসমান আমার কক্ষে আসেন। তখন আমি চেয়ারের হাতলে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। উনি (এমপি সেলিম ওসমান) ভেতরে প্রবেশ করার পর আমি তাকে সালাম দিয়ে শুধু ‘স্যার’ বলতে পেরেছিলাম। উনি ভেতরে প্রবেশ করে আমার কোনো কথা না শুনে দুই হাত দিয়ে আমার দুই গালে চারটি থাপ্পড় মারেন। পরে আমাকে বাইরে এনে বলেন, ‘শালা কান ধর ১০ বার কান ধরে উঠবস করবি।’ আমি কয়েকবার কান ধরে উঠবস করার পরেই পড়ে যাই। পরে আমাকে হাত ধরে উঠানোর পর এমপি বলেন এই শালা মাপ চা। আমি মাপ চাইলে আমাকে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আমাকে পুলিশের ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শ্যামল কান্তি ভক্ত বলেন, আমি তার কাছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার কথা স্বীকার করিনি। এটি সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা কথা। যদি তার কাছে কোনো প্রমাণ থেকে থাকে তাহলে দেখাক। আমি জীবদ্দশায় কখনো ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করিনি। আর উনি পলিটিক্যাল লিডার। নিজেকে সেভ করার জন্য কত কিছুই বলতে পারেন। সাংবাদিকদের কাছে এমপি কর্তৃক থাপ্পড় মারার বিষয়টি আগে কেন বলা হয়নি? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তখন আমি ভয়ে বলিনি। তিনি আমাকে বলেছেন আপনি আমাকে সেভ করেন আমিও আপনাকে সেভ করবো। উনি নিজে আমাকে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, আমাকে এমপি সেলিম ওসমানের এক লোক প্রলোভন দেখায় বাইরে পাঠানোর জন্য। সে আমাকে বার বার কল করে বলেছে যত সুযোগ-সুবিধা চান আপনাকে দেয়া হবে। চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠানো হবে।

শিক্ষামন্ত্রীর স্বপদে পুনর্বহালের ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনসহ সবাইকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে শুধু সেলিম ওসমান ছাড়া।

শ্যামল কান্তি বলেন, এখন আমি সেলিম ওসমান আতঙ্কে আছি। বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার ওপর এখন হুমকি আসতে পারে। থানা প্রশাসন সবই এমপি’র হাতে। আমি সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীন বোধ করছি। এমপি সেলিম ওসমান বরখাস্ত হলেই আমি নিরাপদে থাকবো। আমি উনার বরখাস্ত কামনা করছি। তদন্ত কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় কমিটির বিষয়ে আমার অনাস্থা আছে। তবে সরকারের তদন্ত কমিটির বিষয়ে আমার আস্থা রয়েছে।

শিক্ষক লাঞ্ছনার তদন্তে পুলিশকে অনুমতি: এদিকে নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনা তদন্ত করতে পুলিশকে অনুমতি দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্ত এই অনুমতি দেন। এর আগে কান ধরে উঠবসের ঘটনাকে ‘মানহানিকর অপরাধ’ বিবেচনায় তদন্তের আবেদন করেন বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোখলেছুর রহমান।

নারায়ণগঞ্জের কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, গত ১৩ই মে বিকালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ রটিয়ে কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যাণদি এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে সবার সামনে কান ধরে উঠবস করিয়ে ক্ষমা চাওয়ান স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান। এ ঘটনাকে মানহানিকর অপরাধ সাব্যস্ত করে এর তদন্তের জন্য বন্দর থানার এসআই মোখলেছুর রহমান আদালতে আবেদন করেন। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দেন। হাবিবুর রহমান আরো বলেন, ‘মানহানিকর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে আসামিকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড এমনকি উভয় দণ্ড দেয়া হয়ে থাকে।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: