সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ২১ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রিকশাও চালাতে হয়েছে জবির নিহত ছাত্র ওবায়দুল্লাহকে

obaidullah20160519162114ডেইলি সিলেট ডেস্ক::
ওবায়দুল্লাহ। পুরো নাম ওবায়দুল্লাহ আল আজাদ। যশোরের শার্শার গোগা গ্রামের এই ছেলে স্কুল-কলেজের পাঠ চুকিয়ে ভর্তি হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অর্থনীতি বিভাগে। লেখাপড়ার পাশাপাশি ওবায়দুল্লাহর শখ ছিল কবিতা লেখার। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া লাখো শিক্ষার্থীর মতো ওবায়দুল্লাহর চোখেও ছিল স্বপ্ন, তাকে নিয়েও কাছের মানুষগুলো বুনেছিলেন স্বপ্ন।

গেল বুধবার দুপুরে আচমকা থেমে গেল সেই স্বপ্নের কারখানা। ট্রেনের চাকায় কেটে গেল ওবায়দুল্লাহর জীবন-সূতা।

সেই ওবায়দুল্লাহর স্মরণে আজ একটি অনুষ্ঠান করে জবির অর্থনীতি বিভাগ; চলতি সপ্তাহের শুরুতেও যে বিভাগ ছিল ওবায়দুল্লাহর।
এই অনুষ্ঠানে ওবায়দুল্লাহর কাছের মানুষরা বললেন, ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে তাদের স্মৃতির কথা। আর এই স্মৃতিকথার একটি অংশে পাওয়া গেল ওবায়দুল্লাহর জীবনের ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতার কথা।

ওবায়দুল্লাহর এক বন্ধু শাকিল বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর তিনমাস তাকে রাত কাটাতে হয় মসজিদে। ভর্তির টাকাটাও ছিল না, তাই রিকশা চালিয়ে টাকা জোগাড় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয় তাকে।

শাকিল আরো জানালেন, ওবায়দুল্লাহর লেখা প্রায় ১৫০টির মতো কবিতা রয়েছে। তার স্বপ্ন ছিল একটি কবিতার বই বের করার।

ওবায়দুল্লাহ যে মারাত্মক আর্থিক অনটনের মধ্যে ছিলেন সে বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে শাকিলের কথায়। তিনি জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগের রাতে একটি মাত্র শসা খেয়ে ঘুমিয়েছিলেন ওবায়দুল্লাহ। কারণ, তখন তার কাছে মাত্র ৩০ টাকা ছিল; যে টাকা দিয়ে তাকে চলতো হতো আরো দুইদিন।

আবেগঘন এই অনুষ্ঠান থেকে জানা গেছে, ওবায়দুল্লাহর বাবা ভ্যান চালিয়ে জীবিকা উপার্জন করতেন। ৪০-৫০ হাজার টাকা ঋণও রয়েছে তার।

শেষ সেমিস্টারে ভর্তির সময় ওবায়দুল্লাহকে রিকশা চালাতে হয়েছে ও পান-বিড়ি বিক্রি করতে হয়েছে বলেও তার এক বন্ধু অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক প্রভাষক রাজেশ কুমার দেবকে জানিয়েছেন।

ওবায়দুল্লাহ যে স্কুলে লেখাপড়া করেছেন সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, সে ক্লাসে সবসময় প্রথম হতো।

ওবায়দুল্লাহ স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তার লেখা ‘ঐতিহ্য’ নামে একটি কবিতা আবৃত্তি করে শোনান বন্ধু শাহীন।

জবি অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান ড. আজম খান বলেন, তার মৃত্যুতে একজন মহানায়কের মৃত্যু হলো। সে একসময় অনেক বড় হতো।

ওবায়দুল্লাহর জীবনকে কবি নজরুলের জীবনের সঙ্গে তুলনা করেন ড. আজম।

এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ওবায়দুল্লাহ ছবিও আঁকতেন খুব ভালো। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় তিনি হয়েছিলেন ৬৪তম।

অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. প্রিয়ব্রত পাল স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: