সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৫২ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্বপ দেখতেই ২১ বছর পার কাতার প্রবাসী সাহাজাহানের

shajahan20160519130305প্রবাস ডেস্ক:
স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার, পথ দেব পাড়ি তোমার, কাছে যাব ফিরে পাহাড়ে পাহাড়, সাঁঝ বেলায় সাজ সাজ রব, ছুটে যাব সেই হাসির টানে, চলে যাব স্মৃতির কোলে, আমার সব যেখানে… শিল্পী মিলন মাহমুদের এই গানের মত হয়তো এক দিন কাতার প্রবাসী মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ সাহাজাহান বাংলাদেশে বাড়ি ফিরে আসবেন। স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে তিনি গত ২১ বছর ধরে প্রবাসী জীবন কাটাচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরের গরম ও মরুভূমির দ্বীপরাষ্ট্র কাতারে।

কাতার প্রবাসী মাওলানা সাহাজাহানের (৬৫) বাড়ি বাগেরহাটের চিতলমারীর পাটেরপাড়া গ্রামে। পিতা মৌলভী সৈয়দ মুহাম্মদ জাফর আহমদ। মাদ্রাসা থেকে টাইটেল পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন।

কিন্তু পরিবারের অভাব অনটনের কারণে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি।

পরিবারের অভাব দূর করার স্বপ্ন নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কাতারে শ্রমিকের চাকরি নিয়ে গত ২১ বছর আগে প্রবাসী জীবন শুরু করেন সাহাজাহান। তবে কাতারে শ্রমিকের ভিসায় সাহাজাহানের স্বপ্ন সুখের হয়নি, সাহাজাহানের পক্ষে শ্রমিকের কাজ করা সম্ভব হয়নি। কোম্পানি থেকে পালিয়ে অবৈধ হয়ে ৫ বছর বাহিরে বিভিন্ন পেশায় কাজ করেছেন তিনি।

কাতার সরকারের সাধারণ ক্ষমার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আবারো বৈধ হয়ে ১৩ বছর একটা কোম্পানিতে করে স্বপ্ন পূরণের দিকে অনেকটাই এগিয়ে যান সাহাজাহান। তবে এখানেও বাধা আসে। স্বপ্ন পূরণের আগেই বয়সের কারণে কোম্পানি থেকে ছাটাই করা হয় তাকে।

৩ বছর আগে কোম্পানি থেকে তাকে রিলিজ দেয়া হয়। বর্তমানে কোনো কর্ম নেই সাহাজাহানের। প্রতিদিন নিয়মিত কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে আসা মানুষের বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন বা ফরম পূরণ করে দেন তিনি। বয়স বেশি হওয়ায় আগের মত শ্রমিকের কাজ করতে পাড়েন না। কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের বাহিরে ফরম পূরণের কাজ করতেও মাঝে মাঝে বাধা দেন দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।

দূতাবাস কর্তৃপক্ষ জানতে চাইলে বলেন, আমরা কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ভেতরে অ্যাপ্লিকেশন আর ফরম পূরণ না করতে বলেছি। দূতাবাসের বাহিরে বসে অ্যাপ্লিকেশন আর ফরম পূরণ করতে বাধা নেই।

এদিকে, স্বপ পূরণ না হওয়ায় দেশে ফিরছেন না সাহাজাহান। ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়া শেষ করতে আরো কিছুদিন কাতারে থাকতে চান সাহাজাহান। এক ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করলেও এখনো এক ছেলে আর এক মেয়ের পড়ালেখা চলছে।

তবে, ফরম পূরণ করে যা আয় হয় তা দিয়ে সাহাজাহানের সংসার এবং ছেলে-মেয়ের পড়ালেখার স্বপ্ন পূরণের আর কতো দিন লাগবে তা সাহাজাহান নিজেও জানেন না।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: