সর্বশেষ আপডেট : ৩২ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তনু হত্যাকান্ড: ফেঁসে যাচ্ছে ডা. শারমিন

Untitled-1 copyডেইলি সিলেট ডেস্ক::
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্য কর্মী সোহাগী জাহান তনুর লাশ আদালতের নির্দেশে কবর থেকে উত্তোলন করে লাশের দ্বিতীয় ময়না তদন্ত করা হয়। ৫০ দিনেও দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়নি। দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ ও সিআইডি কুমিল্লা অফিসে ঘুরে বের করা হয়েছে এর নেপথ্যে তথ্য। ময়নাতদন্তকারী ও মামলা তদন্তকারী দুই কর্মকর্তার ডাক বাক্সে আটকে আছে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। একই সাথে কিছুটা হলেও এবার অভিযোগের তীর উঠছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি কুমিল্লার পরিদর্শক গাজী মো. ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে স্পর্শকাতর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ময়নাতদন্তে ডা. শারমিনের কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে ফৌজদারি অপরাধে তাকে আসামি করা হতে পারে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বিষয়ে চিকিৎসক কমিটির প্রধান ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা.কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার ২ দিনের মধ্যেই দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জমা দেয়া হবে। ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়া কেন দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দিচ্ছেন না জানতে চাইলে বিশিষ্ট এই চিকিৎসক জানান,যেহেতু প্রথম ময়নাতদন্তে ধর্ষনের আলামত পাওয়া যায় নি আর এখন বলা হচেছ ধর্ষনের আলামত ডিএনএ রিপোর্টে আছে তাই এই রিপোর্টটিও আমাদের বিবেচনায় নেয়া দরকার।

মেডিকেল বোর্ড প্রধান ডা.কামদা জানিয়েছেন, ডিএনএ রিপোর্ট পেলে ২ দিনের মধ্যে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেয়া হবে। অপর দিকে, সিআইডি কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান বলেছেন, ডিএনএ রিপোর্ট চাওয়ার কারণে চিকিৎসক বোর্ড প্রধানকে আদালত থেকে শোকজ করা হবে। অন্যদিকে কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ঘটনায় প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. শারমিন সুলতানা শাম্মী ফেঁসে যাচ্ছেন। কেন, কী কারণে প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনু হত্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা যায়নি তা নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এর পেছনে কোনো চাপ, প্রলোভন বা দায়িত্বে অবহেলার বিষয় ছিল কি-না তাও খুঁজে বের করবে সিআইডি। স্পর্শকাতর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ময়নাতদন্তে ডা. শারমিনের কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে ফৌজদারি অপরাধে তাকে আসামি করা হতে পারে।

সিআইডি তাকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এরই মধ্যে তনুর জামাকাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজনের বীর্যের আলামত পাওয়া গেছে। এরপর থেকে সিআইডি নিশ্চিত হয়, তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল; প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সঠিক ছিল না। তাহলে কেন তাড়াহুড়া করে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল সে বিষয়টি এখন গুরুত্বসহকারে দেখছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা। কোথায়, কীভাবে তনুকে খুন করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রথম থেকে নানা গুঞ্জন ছিল। তদন্তের এই পর্যায়ে সিআইডি নিশ্চিত হয়েছে, তনুকে সেনানিবাসের ভেতরেই ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে। বাইরে কোথাও হত্যার পর লাশ সেনানিবাসের ভেতরে ফেলে যাওয়ার কোনো সন্দেহাতীত আলামত তারা এখনও পাননি। হত্যার সম্ভাব্য কারণও জানা গেছে। দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে তনুর মরদেহের প্রথম ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি জানিয়ে তনুর বাবা এয়ার হোসেন। তিনি বলেন ডা. শারমিন সুলতানাকে আইনের আওতায় আনা উচিত। তিনি বলেন, কি কারণে সে আমার মেয়ে ধর্ষিত হয়নি উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিন তা খতিয়ে দেখা উচিত। সেই সাথে দ্বিতীয় ময়না তদন্ত কর্মকর্তারা কেন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিতে দেরি করছে তা খতিয়ে দেখতে তাদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত। বুধবার রাতে তিনি এ প্রতিবেদককে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন।

এয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বলেন, তনু মরদেহ ২১ মার্চ সকাল ১১ টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়। সে লাশ ফেরত দেয়া হয় বিকাল সাড়ে ৪টায়। এতো দেরি করে তারা কি করছিল। ময়নাতদন্তের সময় চিকিৎসকের মোবাইলে কাদের ফোন এসেছে তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছি। তারা আরো জানান, কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ ইঞ্জিনিয়ার্স ব্যাটালিয়নের সার্জেন্ট জাহিদ, ষষ্ঠ বীরের সিপাহি জাহিদ এবং সার্জেন্ট জাহিদের বাসার সামনের বাসার সার্জেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। সাজেন্ট জাহিদের স্ত্রী ও বড় মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। তারা অনেক কিছু জানে।

জানা যায়, কুমিল্লার ১নং আমলী আদালত, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ ও সিআইডি কুমিল্লা অফিসে ঘুরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী ৩ সদস্য বিশিষ্ট চিকিৎসক কমিটির প্রধান ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা.কামদা প্রসাদ সাহা গত ১৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক ভাবে ডিএনএ এনালিষ্ট ল্যাবরেটরী সিআইডি ঢাকার প্রধানকে একটি চিঠি দেন ডিএনএ রিপোর্ট দেয়ার জন্য। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে এ রিপোর্ট প্রয়োজন বলে তারা মনে করেছেন। এর অনুলিপি কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের ১নং আমলী আদালতও অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ কে দেয়া হয়।

সিআইডি ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নাসিমা আক্তার ২১ এপ্রিল এক পত্রে জানান যে, মামলা সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট লোক ছাড়া কোন তথ্য আর কাউকে দেয়া যাবে না। পরে, চলতি মাসের ২ মে সোমবার মেডিকেল বোর্ড প্রধান ডা.কামদা প্রসাদ সাহা আরেকটি চিঠি দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার পরিদর্শক গাজী মো. ইব্রাহিমকে। ৪ মে বুধবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজী মো. ইব্রাহিম চিঠি দিয়ে মেডিকেল বোর্ড কে জানান যে, তারা এখনো ডিএনএ’র রিপোর্ট পাননি আর পেলেও আদালতের নির্দেশ ছাড়া মেডিকেল বোর্ডকে দেয়া যাবে না। সর্বশেষ গত ১৪ মে আবার মেডিকেল বোর্ড আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজী মো. ইব্রাহিমকে আরেকটি চিঠি দিয়ে জানান, হয় আপনারা ডিএনএ রিপোর্ট আমাদের সরবরাহ করুন নতুবা আমাদেরকে জানিয়ে দিন ডিএনএ’র রিপোর্ট সরবরাহ করা যাবে না । আপনারা ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়াই দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দিয়ে দিন। এর অনুলিপিও আদালতে পাঠানা হয়। তবে জানা গেছে, সিআইডি থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন উত্তর দেয়া হয়নি।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহের প্রথম ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি জানিয়ে তনুর বাবা এয়ার হোসেন বলেছেন, ডা. শারমিন সুলতানাকে আইনের আওতায় আনা উচিত। তিনি বলেন, কি কারণে সে আমার মেয়ে ধর্ষিত হয় নি উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিন তা খতিয়ে দেখা উচিত। সেই সাথে দ্বিতীয় ময়না তদন্ত কর্মকর্তারা কেন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিতে দেরি করছে তা খতিয়ে দেখতে তাদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত। বুধবার রাতে তিনি এ প্রতিবেদককে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন।

এয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বলেন, তনু মরদেহ ২১ মার্চ সকাল ১১ টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়। সে লাশ ফেরত দেয়া হয় বিকাল সাড়ে ৪টায়। এতো দেরি করে তারা কি করছিল। ময়নাতদন্তের সময় চিকিৎসকের মোবাইলে কাদের ফোন এসেছে তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছি। তারা আরো জানান, কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ ইঞ্জিনিয়ার্স ব্যাটালিয়নের সার্জেন্ট জাহিদ, ষষ্ঠ বীরের সিপাহি জাহিদ এবং সার্জেন্ট জাহিদের বাসার সামনের বাসার সার্জেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। সাজেন্ট জাহিদের স্ত্রী ও বড় মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। তারা অনেক কিছু জানে। এদিকে বুধবারও তনু হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে কোন পক্ষই কোন আবেদন জানায় নি। অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ময়নাতদন্ত দলের পাঠানো চিঠির অনুলিপির বিষয়টিতেও কোন কার্যক্রম নেই।

উল্লেখ্য-২০ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসার নিকট থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করেন তার বাবা ইয়ার হোসেন। পরদিন ২১মার্চ দুপুরে কুমিল্ল­া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। ২১মার্চ তনুর বাবা কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতদের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলা পুলিশ,ডিবি হয়ে সিআইডির হাতে যায়। ছায়া তদন্ত করে র‌্যাব ও পিবিআই। প্রথম ময়নাতদন্তে তনুকে ধর্ষণের আলামত এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। ২য় ময়নাতদন্তের জন্য ৩০মার্চ তনুর লাশ কবর থেকে তোলা হয়। তনুর মৃত্যুর ৬০ দিনেও হত্যাকারী শনাক্ত হয়নি। এদিকে ২য় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ৫১দিনেও পাওয়া যায়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: