সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তদন্ত প্রতিবেদনে যা উঠে এলো

38নিউজ ডেস্ক :: নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মের প্রতি কটূক্তির যে অভিযোগ করা হয়েছিল তার সত্যতা পায়নি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তদন্ত কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীল সেগুনবাগিচাস্থ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

একই সঙ্গে ওই শিক্ষককে বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে আইন বহির্ভূত আখ্যায়িত করে স্বপদে বহাল রাখার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

শ্যামল কান্তি ভক্তের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির দেয়া প্রতিবেদনকে ঘিরে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার মতো কিছু আমরা পাইনি। ভিন্ন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা সাজানো হয়েছিল। যে সভায় পরিচালনা পর্ষদ বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়, সে সভার এজেন্ডাতেই এ বিষয়টি ছিল না।’

তদন্ত কমিটির দেয়া প্রতিবেদনটি প্রাথমিক পর্যালোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে—

১. অযোগ্যতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল

২. নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নতুন পর্ষদ গঠন করে বিদ্যালয় পরিচালন

৩. আইন বহির্ভূতভাবে বরখাস্ত করায় শিক্ষক তার স্বপদে বহাল থাকবেন

৪. আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা মানতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যতটুকু দায়িত্ব বর্তায়, তা পালন করা হবে

শিক্ষক লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে ‘চরম নিদর্শন’ আখ্যায়িত করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কোনো সভ্য সমাজে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে না। পৃথিবীর কোথাও তা পাওয়া যাবে না। এ ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ, ঘৃণা, প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কমিটি রাত-দিন খেটে প্রতিবেদন নিয়ে এসেছেন। গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনটি প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করে আমরা সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি। সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে একটু সময় লাগবে। পর্যালোচনা করে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর সঙ্গে জড়িত দলীয় বিষয়গুলো দলের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করবেন।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকের মর্যাদাহানি মানে পুরো জাতির মর্যাদাহানি। আমরা শিক্ষকের অমর্যাদা কোনোভাবেই বরদাশত করব না। শিক্ষকের সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। কারণ শিক্ষকরাই জাতি গড়ার কারিগর।’

গত ১৩ মে সকালে স্কুলের সামনের একটি মসজিদ থেকে হঠাৎ করেই মাইকে ঘোষণা করা হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইসলামের বিরুদ্ধে কটূক্তি করেছেন এবং সেখান থেকে এলাকাবাসীকে স্কুল মাঠে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দলে দলে স্কুলে ঢোকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠবস এবং হাতজোড় করে ক্ষমা চাওয়ার আদেশ দেন।

এর পরই শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করানোর প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুক। ‘সরি স্যার’, ‘উই আর সরি স্যার’, ‘কান ধরে হোক প্রতিবাদ’ লেখা হ্যাশট্যাগ দিয়ে এই ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী।

প্রতিবাদ জানাতে কানে ধরা অবস্থায় তোলা নিজেদের ছবিও পোস্ট করেছেন অনেকে। বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাঙালিরাও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের ঝড় তোলেন।

#sorrysir হ্যাশট্যাগে দেখা যায়, শ্যামল কান্তি ভক্তকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় অনেকেই ক্ষমা চাচ্ছেন। একজন শিক্ষককে এমন ‘ঘৃণ্য’ উপায়ে অপদস্থ করার বিষয়ে পুরো জাতির দায় স্বীকার করেছেন কেউ কেউ। অনেকে লিখেছেন, স্যার শ্যামল কান্তি ভক্ত কান ধরেননি, কান ধরেছে বাংলাদেশ।

এ নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে বুধবার (১৮ মে) রুল জারি করেন আদালত। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার তদন্তে নামে মাউশি। তদন্ত শেষ করে গতকাল বুধবার শিক্ষামন্ত্রী বরাবর প্রতিবেদন জমা দেয় তারা।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষা সচিব মো. সোহবার হোসেন, মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুনসহ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: