সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৯ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছাতকে লিচুর বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

Lichu news daily sylhetসুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতকে স্থানীয় জাতের মানিকপুরি লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। চাষীদের মুখে ফুটিয়েটিছে মানিকপুরের লিচু। দেশের অন্যতম শিল্পনগরী ছাতকের মানিকপুরী লিচুর সুনাম এখন দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। লালমাটির পাহাড় অধ্যুষিত ছাতক উপজেলার নোয়ারই ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের লিচু চাষীরা এখন লিচু বিপনননে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। কিন্তু অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য তাদের বাজারজাত করন কার্যক্রম কিছুটা বাঁধা গ্রস্থ হচ্ছে। মানিকপুর গ্রামের লিচুচাষী আব্দুল খালেক বলেন, গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সড়কটি কাঁচা থাকায় রিক্সাভ্যান ঠেলাগাড়ি করে লিচু বাজারে নিতে হয়।
উপজেলার ১০ টি গ্রামে বাণিজ্যিক ভাবে লিচু চাষ করা হয়। প্রতিদিন ৬ লাখ টাকার লিচু কেনাবেচা করে থাকেন মানিকপুর গ্রামের চাষীরা। মানিকপুরী লিচু খেতে খুবই সুস্বাদু আকারেও বড়ো। লাল মাটির গুণে এখান লিচুর এমন সুস্বাদু হয় বলে জানান লিচুচাষী ফজলু মিয়া। অনুকুল আবহওয়া ও নিবির পরিচর্যার জন্য চলতি বছর এক কোটি টাকার লিচু উৎপাদন হয়েছে বলে জানান,চাষী জামাল উদ্দিন বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার কারণে এবারও ছাতকে বাম্পার ফলন হয়েছে। দূর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বাইরের লিচু পাইকারগন এখানে আসতে পারেন না ফলে দামের দিক থেকে তাদের কিছুটা লস হয়ে যায় বলে জানান চাষী শুকুর আলী।

বর্তমানে নোয়ারাই ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রতি হাজার লিচু ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকায় দামে বিক্রি হচ্ছে। চাষীরা অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই অনুন্নত। এছাড়াও বিদ্যুৎ না থাকায় পাহাড়ী পাখি, বাদুর ও চামচিকার উপদ্রপ থেকে রক্ষা পেতে রাত জেগে পাহারা, কেউ কেউ গাছে জাল দিয়ে ফাঁদ পেতে, আবার কেউ হারিকেন জ্বালিয়ে বা গাছের ডালে টিন বাজিয়েপাখি তাড়ান। ফরমালিন মুক্ত তরতাজা, সুস্বাদু ছাতকের লিচু সিলেট,সুনামগঞ্জ,জগান্নাথপুর,বিশ্বনাথ ও কোম্পানীগঞ্জ সহ আশপাশ এলাকার বিভিন্ন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
sunamgonj-lichu_10738নোয়ারাই ইউনিয়নের মানিকপুর, গোদাবাড়ী, চাঁনপুর, কচুদাইড়, বড়গলা, রাজারগাঁও গ্রামের শতাধিক চাষী লিচু চাষ করে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন। এসব গ্রামের প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় কম করেন হলেও ১০ থেকে ১২ লিচু গাছ রয়েছে। লিচু চাষী শুকুর আলী, আবু বক্কর ছিদ্দিক, আব্দুর রহিম, জামাল উদ্দিন, সিদ্দিক মিয়া, বাদল মিয়া, দোলন মিয়া, আমির আলী, রোস্তম আলী, ফরিদ মিয়া সহ অসংখ্য চাষী লিচু চাষে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন। অভিজ্ঞ মহলের মতে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ, যথাযথ সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও স্কীম থাকলে এ এলাকার লিচু চাষে বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হত। মেটানো যেত সারা দেশের লিচুর চাহিদা।তবে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে এখানে উৎপাদিত লিচু স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে দেশের অন্যান্য এলাকায়ও সরবরাহ করা সম্ভব বলে মনে করে স্থানীয়রা। সেই বৃটিশ আমলে গৌরীপুরের জমিদার হরিপদ রায় চৌধুরী ও তার ভাই শান্তিপদ রায় চৌধুরীর শখের লিচু বাগান থেকে এলাকায় লিচু চাষ সম্প্রসারিত হয়। জানা যায়, জমিদারের লোকজন পরীক্ষামূলক ভাবে ২০/৩০ টি লিচু গাছ রোপন করেন এখানে।

sunamgonj-lichu-pic-1_10738_0বর্তমানে শতবর্ষী এসব লিচু গাছ এখনোও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নোয়ারাই ইউনিয়নের মানিকপুর সহ ৮টি গ্রাম ও ইসলামপুর ইউনিয়নের হাদা-চানপুর ও কুমারদানী গ্রামে নওসাদ মিয়ার বাগান বাড়ীতে এবং দোয়ারা উপজেলার টেংরাটিলা, লামাসানিয়া, লাস্তবের বেরগাঁও গ্রামে লিচু চাষ সম্প্রসারিত হয়। প্রতিটি ছোট বাগানে গড়ে ৩০/৪০ হাজার ও বড় বাগানে দুইলাখ টাকার বিক্রী আসবে বলে জানান চাষী আরব আলী। সুনামগঞ্জ কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক জাহেদুল হক বলেন, মানিকপুরী লিচু উন্নত মানের। খেতে সুস্বাদু। অবস্থানগত কারণ ও লিচুর নিজস্ব গুণাবলীর কারণে রোগ বালাই তেমন হয়না। জেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর লিচু চাষ সম্প্রসারণে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহন করেছে। এছাড়া চলতি বছর মাঠ পর্যায়ের সহকারীরা তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন তাই বাম্পার ফলন হয়েছে। আগামীতে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: