সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ২৩ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জুড়ীতে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে ১৬ গ্রাম প্লাবিত, টিলা ধ্বসে মাটিচাপায় আহত ৬

e02c2ee9-4813-47bd-bd06-4e6466d9afdaকুলাউড়া অফিস:
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন নদী ও পাহাড়ি ছড়ার প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে সাগরনাল, গোয়ালবাড়ী এবং ফুলতলা ইউনিয়নের ১৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে গেছে। এসব এলাকার অন্তত ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে ওই তিনটি ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের মনতৈল ও গুচ্ছগ্রাম এলাকায় টিলা ধসে ৫০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাটিচাপায় শিশুসহ ছয় ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

6eb26f42-4f61-4387-8d90-73d98ac7543aএলাকাবাসী জানায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে ১৮ মে বুধবার সকাল পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জুড়ী নদী, রাঘনা ছড়া ও ধলাই ছড়ার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এতে সাগরনাল ইউনিয়নের উত্তর সাগরনাল, উত্তর বড়ডহর, দক্ষিণ বড়ডহর, বরইতলি, কাশিনগর, হোসেনাবাদ, কাপনা পাহাড় চা-বাগান ও জাঙ্গালিয়া, গোয়ালবাড়ীর মন্ত্রীগাও, পূর্ব শিলুয়া, যোগীমোড়া ও পশ্চিম শিলুয়া এবং ফুলতলার কোনাগাও, ফুলতলা বস্তি, বটুলি ও ধলাইর হাওর এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সাগরনালের বরইতলি গ্রামে জুড়ী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের দুটি স্থানের ভাঙন দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। দক্ষিণ সাগরনাল গ্রামের বাসিন্দা সামেলা বেগম বলেন, সকালে ঘুম থেকে জেগে বাড়ির উঠানে পানি দেখেন।

be482bff-6c9e-4e61-aaa9-9a14cfa4f16eদুপুর গড়ানোর আগেই উঠান ছাড়িয়ে বসতঘরে উঠতে থাকে। সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পাশের শুকনো পাকার সড়কে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন। একই এলাকার তানজির আহমদ বলেন, ঢলের পানিতে তাঁর পোলট্রি খামার তলিয়ে যাওয়ায় চার হাজার মোরগের বাচ্চা মরে গেছে। কোনাগাও গ্রামের আক্কেল আলী বলেন, ‘ঘরো কোমর পানি। পরিবারর লোকজনরে আত্মীয় বাড়িত পাঠাই দিছি। গরু-ছাগল ফুলতলা বাজারের রাস্তায় নিয়া রাখছি।’ সাগরনাল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তাঁর এলাকার কমপক্ষে ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দী। বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। অন্তত শতাধিক খামারের মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে ত্রাণসামগ্রী চাওয়া হয়েছে। ফুলতলা ইউপির চেয়ারম্যান ফয়াজ আলী বলেন, ঢলের তোড়ে তাঁর এলাকার দুই হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। ১১টি কাঁচা ঘর ভেসে গেছে। গোয়ালবাড়ী ইউপির চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, তাঁর এলাকার বিভিন্ন গ্রামের দুই শতাধিক বাড়িঘর ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত এক হাজার মানুষ পানিবন্দী।

এলাকাবাসী জানায়, মঙ্গলবার রাতে জায়ফরনগর ইউনিয়নের মনতৈল ও গুচ্ছগ্রামে টিলা ধসে কয়েকটি কাঁচা ঘর ভেঙে পড়ে। এতে মনতৈল গ্রামের আক্কেল আলী (৫৫), তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪০), ছেলে আল ইসলাম (১২) ও মেয়ে সাহিদা বেগম (১০), সিরাজ মিয়া (৬০), তাঁর ছেলে মন্নান মিয়া (১২) আহত হন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। জায়ফরনগর ইউপির চেয়ারম্যান মাছুম রেজা বলেন, গুচ্ছগ্রাম ও মনতৈল গ্রামে টিলা ধসে ৫০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ইউএনও মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য তাৎক্ষণিক ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী চাওয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: