সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ২৬ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘ট্যাকা দেন নইলে ভুরি কাটমু’

Rakib20160518125211নিউজ ডেস্ক::
রাজধানীর ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রোডের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যালনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসাদ গেইট হয়ে জাতীয় সংসদে ঢুকছিলেন পাবনা অ্যাডওয়ার্ড কলেজের অধ্যাপক আবদুর রকিব। আড়ং এর সামনে আসার পর এক যুবক তার পায়ে পারা দিয়ে ধমক দিয়ে উঠেন-‘আমার পায়ে পারা দিলেন ক্যান?

হঠাৎ এ ঘটনায় ভড়কে যান অধ্যাপক। ছেলের বয়সী ওই যুবককে বিনয়ের সঙ্গে বলেন, ‘আমি তো পারা দেয়নি। আপনিই তো ইচ্ছা করে পায়ে পা লাগালেন।’

এ কথা বলেই আবার হাঁটা শুরু করেন তিনি। কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে পথ আটকে অধ্যাপককে ওই যুবক জেরা করেন. ‘আপনি পথে-ঘাটে এই রকম কইরে চলাফেরা করেন ক্যান?’

এবার বিরক্ত হন অধ্যাপক। গলা চড়িয়ে বলেন, ‘বাজে কথা বলবেন না। আমার তাড়া থাকায় দ্রুত হাঁটছি ঠিকই কিন্তু আপনাকে পারা দেয়নি।’

ইতোমধ্যে আরো দুই যুবক এসে ঘিরে ধরেন তাকে। প্রথম যুবকটি বলেন- ‘এত গলা উচা করে কতা কন ক্যান? আপনে কি আমারে চিনেন? আমারে এই এলাকার সবাই চিনে। আমার নামের আগে পেটকাটা আছে। কারণ আমি মানুষের ভুরি কাটি।’

এবার আবার ভড়কে যান অধ্যাপক। আশপাশ দিয়ে অনেকেই হেঁটে যাচ্ছেন। কিন্তু কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। নিজেকে যথাসম্ভব শান্ত রেখে বলেন, ‘আমি যদি আপনার পায়ে পারা দিয়েও থাকি, তাহলে সরি বলছি। বিনয়ের সঙ্গে সরি বলছি।’

ভিতু অধ্যাপককে পেয়ে বসেন ওই তিন যুবক। এবার বলেন, ‘ওই মিয়া আপনি থাকেন কই? আমাদের মিষ্টি খাওয়ার ট্যাকা দেন, নইলে ভুড়ি কাটমু।’

ভয় পেয়ে নিজের পরিচয় দেন তিনি। কিন্তু দমে যান না তারা। তাই মানিব্যাগ বের করেন অধ্যাপক। কিন্তু বের করার পরই মানিব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায় ওই তিন যুবক। ভয় আর বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকেন অধ্যাপক।

বুধবার সকালের ঘটনা এটি। দুপুরে জাতীয় সংসদের গ্রন্থাগারে ওই অধ্যাপকের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। পাবনার অ্যাডওয়ার্ড কলেজের এই অধ্যাপক ছুটি কাটাতে ঢাকায় এসেছেন। আর জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফেলোশিপ নিয়ে জাতীয় সংসদের উপর গবেষণা করছেন। ওই গবেষণার কাজেই টিআইবির কার্যালয় ও সংসদের গ্রন্থাগারে যাওয়া।

সকালের ওই ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত আছেন বলে জানান। সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির প্রতিটি ধারা তার মুখস্ত হলেও এখন কিছুই মনে করতে পারছেন তিনি।

অধ্যাপক রকিব আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাকে দেখতে নিরীহ, গোবেচারা আর হাতে ব্যাগ থাকায় তারা আমার উপর এ ধরনের আক্রমন করেছে। বুঝতে পেরেছে আমি গ্রাম থেকে এসেছি।’

এই ঘটনার পর ওই স্থান পরিদর্শনে গেলে ওইসব যুবকদের পাওয়া যায়নি। ছিল না কোনো পুলিশও। তবে আসাদ গেইটে কয়েকজন পুলিশ দায়িত্বে ছিলেন।

এই ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তাদের কাছেও আছে। বিশেষ করে রাজধানীর রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং গুলিস্তানে এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। পুলিশ এই সব অপরাধ দমনে তৎপর রয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: