সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এক ছেলে নিয়ে দুই দম্পতির লড়াই

bishal ne_127016অলাইন ডেস্ক:
বিশাল দাস (১৫)কে নিয়ে দু’ দম্পতির মধ্যে শুরু হয়েছে লড়াই। দু’পক্ষই দাবি করছেন বিশাল তাদের সন্তান। এ নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। সেই মামলায় ছেলে কার তা নির্ধারণের জন্য করা হয়েছে ডিএনএ পরীক্ষা। এখন পরীক্ষার ফলের আশায় আছেন দু’পক্ষই। এ ঘটনা ঘটেছে আসামের কোকড়াঝাড়ে। ২০১২ সালে যখন কোকড়াঝাড় ও চিড়াং জেলায় বোড়ো ও বাংলাভাষীদের মধ্যে তীব্র সহিংসতা শুরু হয় তখন বিশাল দাসের বয়স ছিল ১১ বছর। সে তার এক ফুফু সাবিত্রী দাসের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে বেড়ানোর পরে সাবিত্রীর ১৬ বছর বয়সী ছেলে বিপুলের সঙ্গে বিশাল বাড়ির পথে পা বাড়ায়। কিন্তু সে আর বাড়ি ফিরে আসে নি। এ সময় তাকে ঠাঁই দেন কামরূপ জেলার সোনাতালি গ্রামের বিধবা মালেকা খাতুন। তিনি এখন দাবি করছেন বিশাল তার ছেলে। এ নিয়ে ভারতীয় পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের দুটি জেলা কোকড়াঝাড় ও কামরূপ।

কোকড়াঝাড়ের মনোরঞ্জন ও উমা দাস দাবি করছেন বিশাল তাদের সন্তান। সে ২০১২ সালের সহিংসতার সময় নিখোঁজ হয়। অন্যদিকে কামরূপ জেলার সোনাতলি গ্রামের মালেকা খাতুনেরও দাবি ছেলে তার। দু’পক্ষের মধ্যে এমন লড়াইয়ের মধ্যে বিশালকে সরকারি কর্মকর্তারা নিয়ে গেছেন গোয়াহাটিতে শিশু-কিশোরদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে। মালেকা খাতুন তাদের হাতে বিশালকে ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু আইনের সঙ্গে তিনি পারেন নি। বিশাল এখন অবস্থান করছে ওই আশ্রয়কেন্দ্রে। উল্লেখ্য, কোকড়াঝাড়ে ২০১২ সালে যে সহিংসতা হয়েছিল তাতে চার লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এখনও বাড়ি ফেরেন নি তাদের হাজার হাজার মানুষ। মনোরঞ্জন ও উমার বসবাস কোকড়াঝাড়ের ফকিরাগ্রামে।

তারা বলেন, নিখোঁজ হওয়ার সময় বিশালের বয়স ছিল ১১ বছর। সে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর পরই সাবিত্রী দাসের বাড়ি বেড়াতে যায়। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর সে সাবিত্রীর ১৬ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাড়ির পথে পা রাখে। কিন্তু তারা আর ফকিরাগ্রামে ফিরে যায় নি। এরপর এক মাসের মতো অপেক্ষা করেন সাবিত্রী দাস। এরপর তিনি গুরুকাবাড়ি পুলিশ স্টেশনে গিয়ে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দেন। বনগাইগাঁওয়ের এসপি কুমার সঞ্জিত কৃষ্ণ বলেন, আমরা একটি ছেলের নিখোঁজ সংক্রান্ত এফআরআই নিবন্ধিত করি। তাতে এক নারী দাবি করেন, তার ছেলে বিপুল ও ভাতিজা নিখোঁজ হয়েছে। ওই বছরের শেষের দিকে এর মধ্যে বিশালকে কামরূপ জেলায় দেখা গেছে। বিশালের পিতামাতা সেই গ্রামে গিয়ে তাদের ছেলেকে চিনতে পারেন। ছেলেও পিতামাতাকে চিনতে পারে। কিন্তু মালেকা খাতুন দাবি করেন বিশাল তার ছেলে। তাকে মনোরঞ্জন ও উমা খাতুনের সঙ্গে তিনি যেতে দিতে পারেন না।

মালেকা তাদেরকে ফিরিয়ে দেন। ফলে বোকো এলাকায় পুলিশ স্টেশনে একটি মামলা করেন মনোরঞ্জন ও উমা। তাতে তারা বলেন, তাদের ছেলেকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর পুলিশ শিশু সুরক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন। তারা গিয়ে বিশালকে তাদের হেফাজতে নিয়েছে। এসপি কৃষ্ণ বলেন, এখন দু’পক্ষই যেহেতু বিশালকে তাদের ছেলে দাবি করছে তাই আমাদের ডিএনএ পরীক্ষা করাতে হয়েছে। এ পরীক্ষা করাতে বনগাইগাঁও সিভিল হাসপাতালে রক্তের নমুনা দিতে হাজির হয়েছিলেন মনোরঞ্জন ও উমা। কিন্তু মালেকা খাতুন হাজির হন নি। ওদিকে সোনাতলি পুলিশের ইনচার্জ বিকে দাস বলেন, মালেকা খাতুনকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে কিনা তা তিনি জানেন না। হাসপাতালে রক্ত দিতে হাজির করা হয়েছিল বিশালকে। এ সময় অল্প সময়ের জন্য মনোরঞ্জন ও উমার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। এসপি কৃষ্ণ বলেছেন, এখন অপেক্ষা ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য। তা হাতে পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে কে বিশালের পিতামাতা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: