সর্বশেষ আপডেট : ১৫ মিনিট ৩১ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যে বিষে ব্যথা ক্ষয় হয়

142642_1নিউজ ডেস্ক: সাগরের পানির নীচে এক ধরনের শামুক থাকে, যার বিষ নাকি মুহূর্তের মধ্যে একটা মাছকে কাবু করে ফেলতে পারে। কিন্তু সেই বিষ থেকে আবার এমন ব্যথা সারানোর ওষুধ তৈরি করা যায়, যা মর্ফিনের চেয়ে হাজার গুণ শক্তিশালী।

টর্স্টেন নিকেল্স টানা চার বছর পিঠের ব্যথায় ভুগেছেন৷ স্পাইনাল ডিস্কে ছ’বার অপারেশন হয়েছে; এমনকি মর্ফিন নিয়েও ব্যথা কমেনি।

টর্স্টেন জানালেন, ‘বার বার অপারেশন করা হয়েছে, কিন্তু ব্যথা যা ছিলো, তাই থেকে গেছে। আমি যে আর কখনো ব্যথা ছাড়া বাঁচতে পারব, এ আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম।’

টর্স্টেন নিকেল্স শেষমেষ এক ডাক্তার খুঁজে পান, যিনি তাকে একটি বিশেষ কার্যকরি পেইনকিলার প্রেস্ক্রাইব করেন। এই ব্যথার ওষুধটি তৈরি হয়েছে একটি সামুদ্রিক শামুকের বিষ থেকে।

পেটের অ্যাবডোমিনাল ওয়ালের তলায় রাখা একটি পাম্প দিয়ে ওষুধটা ছোট ছোট ডোজে স্পাইনাল ম্যারো বা মেরুদণ্ডের মজ্জায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ডোজটা ঠিক হওয়া চাই, সেটাই হলো ডাক্তারদের পক্ষে আসল চ্যালেঞ্জ। সুবিধা হলো, মর্ফিনের মতো এ ওষুধে আসক্ত হয়ে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

পেইন থেরাপিস্ট ডক্টর বার্বারা ক্লাইনমান জানালেন, ‘এই ওষুধটা তৈরি করতে পারাই একটা চমকে যাওয়ার মতো ব্যাপার। ওষুধটা মর্ফিনের চেয়ে এক হাজার গুণ শক্তিশালী। আমার মতো বহু ব্যথার ডাক্তার এ ধরনের একটা ওষুধের খোঁজে ছিলেন।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বালদোমেরা অলিভেরা-র সংগ্রহে এই হিংস্র সামুদ্রিক শামুকটির কিছু বিরল ভিডিও ছবি আছে। বিষযুক্ত বাণ ছুঁড়ে এই শঙ্খ জাতীয় প্রাণীটি মুহূর্তের মধ্যে শিকারের প্রাণ নিতে পারে।

সারা বিশ্বের গবেষকরা চেষ্টা করছেন, সামুদ্রিক শামুকের বিষের রহস্য ভেদ করার। নিউরোফিজিওলজিস্ট প্রফেসর হাইনরিশ টের্লাউ জানালেন, ‘শামুকরা শ্লথগতি, তাদের শিকারের পিছনে ধাওয়া করা সম্ভব নয়। শুধুমাত্র যে সব শামুকের বিশেষভাবে কার্যকরি বিষ আছে, একমাত্র তারাই বিবর্তনের প্রক্রিয়ায় বেঁচে থাকতে পেরেছে। এভাবেই এই ‘কোন শেল’ বা ‘কোন স্নেইল’, অর্থাৎ শঙ্খাকৃতির শামুক তার বিষ সৃষ্টি করতে পেরেছে, যা যেমন শক্তিশালী, তেমনই দ্রুত কাজ করে।’

এ ধরনের প্রায় পাঁচ’শ শামুক আছে। তাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব ধরনের বিষ আছে– সে বিষও আবার নানা পদার্থের সংমিশ্রণ। বিজ্ঞানীরা এক একটি করে সেই সব পদার্থের প্রকৃতি ও পরিচয় বোঝার চেষ্টা করছেন। সাফল্যও পাচ্ছেন; যেমন একটি পদার্থ বহুমূত্র রোগীদের রক্তে শর্করা কমাতে সক্ষম, কেননা তা থেকে শরীরে ইনসুলিনের উৎপাদন বাড়ে।

টের্লাউ জানালেন, ‘প্রত্যেক প্রজাতির শামুক একশো থেকে দু’শো ধরনের পদার্থ সৃষ্টি করেছে। তাদের বিষে লক্ষ লক্ষ পদার্থ পাওয়া যাবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। তার মধ্যে মাত্র কয়েকটিকে আমরা চিনি।’

টর্স্টেন নিকেল্স-এর ক্ষেত্রে সাগরের শামুকের কাছ থেকে পাওয়া ওষুধ ইতোমধ্যেই কাজ দিয়েছে। টর্স্টেন বললেন, ‘এই ওষুধটা পাবার পর আমি খুব ভালো আছি। আমি আবার সাধারণ মানুষের মতো বাঁচতে পারছি, কাজ করতে যেতে পারছি। আমার ব্যথা ৮০ ভাগ কমে গেছে।’

সাগর থেকে পাওয়া ওষুধ হয়ত ভবিষ্যতে আরো অনেক রোগীর মুশকিল দূর করার কাজ করবে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: