সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ১২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘চুমকি আমাকে ৪টি চড় মারে, রাগে আমি ওড়না গলায় পেঁচিয়ে চুমকিকে মেরে ফেলি’

chumki hotta daily sylhetসুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আবাসিক হোটেলে খুন হওয়া নাট্যকর্মী চুমকির স্বামী খুনী মঈনুল ইসলাম মহিম আদালতে আত্মসমর্পন করেছে। সোমবার দুপুর ১২ টায় সুনামগঞ্জ সদর জোন আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহীদুল আমিনের আদালতে আত্মসমর্পন করে সে। মহিমের আইনজীবী আদালতের কাছে স্বেচ্ছায় আবেদন করার কথা জানিয়ে তার জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।

গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় পৌর শহরের পুরাতন বাসস্টেশনের আল হেলাল হোটেলে ওঠে মহিম ও চুমকি। শুক্রবার সকালে নাস্তা আনার কথা বলে হোটেল থেকে বেরিয়ে যায় মহিম। বেলা ১১ টা পর্যন্ত না ফেরায় এবং কক্ষের বাইরে থেকে তালা দেওয়া থাকায় সন্দেহ হয় হোটেল কর্মীদের। দরজায় অনেকবার কড়া নাড়লেও কোন শব্দ না হওয়ায় পুলিশে খবর দেয় তারা। পুলিশ এসে বিকল্প চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখে গলায় ওড়না পেঁচানো চুমকির লাশ মেঝেতে পড়ে আছে।

এ ঘটনায় নিহতের মা শাহেদা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা করলেও পুলিশ মহিমকে খুঁজে পাচ্ছিল না।

সোমবার দুপুরে আদালত থেকে পুলিশ হেফাজতে যাওয়ার সময় মহিম চুমকিকে খুন করার কথা স্বীকার করে বলে,‘আমি বিয়ে করেছি, আমার কন্যা শিশু রয়েছে, এরপরও সদর উপজেলা সৈনিক লীগের সভাপতি নোমান হাসান ও চুমকির চাপাচাপিতে আমি চুমকিকে বিয়ে করতে বাধ্য হই। চুমকিকে বিয়ে করায় আমার পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। আমার স্ত্রী ও শিশু কন্যা আমাকে ছেড়ে চলে যায়। চুমকিকে নিয়ে আমি প্রথমে বড়পাড়ায় পরে ওয়েজখালিতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতাম। এক পর্যায়ে চুমকির চলাফেরায় কষ্ট পেয়ে আমি সিলেটে চলে যাই।

বৃহস্পতিবার চুমকি আমাকে ফোন দিয়ে সুনামগঞ্জে আনে। রাতে আমরা হোটেলে অবস্থান করি, দুজনের মধ্যে আন্তরিক কথা বার্তাও হয়। এক পর্যায়ে চুমকির চলাফেরা নিয়ে কথা ওঠলে আমাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। চুমকি আমাকে ৪ টি চড় মারে, রাগে আমি ওড়না গলায় পেঁচিয়ে চুমকিকে মেরে ফেলি। এরপর আর আমার মাথায় কাজ করছিল না। আমি হোটেল কক্ষের দরজায় বাইরের দিকে তালা ঝুলিয়ে গাড়ীতে ওঠে সিলেটে চলে যাই। সেখানে ওসমানী মেডিকেল কলেজের হাসপাতালের পেছনে আমার এক আত্মীয়ের বাসায় ৩ দিন অবস্থান করি। রবিবার থেকে আত্মীয়-স্বজনরা বুঝাচ্ছিলেন, আমি যেন আদালতে আত্মসমর্পণ করি।’ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মহিম মানসিকভাবে স্বাভাবিক ছিল। তাকে এ ঘটনায় বিচলিত বা চিন্তিত মনে হয়নি।

মহিম’র দেওয়া এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে সদর উপজেলা সৈনিক লীগের সভাপতি নোমান হাসান বলেন,‘মহিম আমাকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছে, তা অসত্য, এই বক্তব্য তাকে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে, মহিম-চুমকি প্রেম করে বিয়ে করেছে, আমি কেবল পরিচিত হওয়ায় আদালতে বিয়ের স্বাক্ষী হিসাবে স্বাক্ষর করেছি, বিয়ের ৭ মাস পরও মহিমের আগের স্ত্রী তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে করার কারণে কোন মামলা বা অভিযোগ করেননি, এতেও রহস্য রয়েছে’।

মহিমের আইনজীবী অ্যাড. মাসুক আহমদ বলেন, ‘মহিমকে সোমবার সুনামগঞ্জ আদালতে হাজির করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন’।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: