সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ক্ষমা করবেন শ্যামল কান্তি ভক্ত, আমিও আপনার সমগোত্রীয়

7ec17ff9-4cc0-4d84-87e2-54332be6676fঅহী আলম রেজা::
আমাদের ক্ষমা করবেন শ্যামল কান্তি ভক্ত। আমিও আপনার সমগোত্রীয়। এ গোত্রের দেশের কোটি মানুষ। আমরা শিক্ষক হয়েছি বলে আমাদের করার কিছু নেই। আমরা অসহায়। আমাদের স্বল্প পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শুধু জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে হয়। আমরা মানুষ গড়ার কারিগর। আপনি যখন কান ধরে ওঠবস করছেন, তখন আমরা এককোটিরও বেশি শিক্ষক কান ধরে ওঠবস করছি।

এই দৃশ্য যখন দেখি তখন ঘৃণায়, লজ্জায়, অপমানে মরে যেতে ইচ্ছে হয়। মনে হয় এ দেশে শিক্ষক হয়ে পাপ করেছি। এই অর্থে পাপ করেছেন আমার বাবা। আমার শিক্ষক, আমার শিক্ষককের শিক্ষকও এ্কই পাপ করেছেন।

ধর্মীয় অবমাননার গুজবের অভিযোগে নারায়নগঞ্জে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়েছে। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার সময় হাজার হাজার জণতার মাঝে উপস্থিত ছিলেন একজন সাংসদ। একজন আইনপ্রণেতার নির্দেশে যখন একজন শিক্ষককে এ ভাবে চরম অপমাণিত হতে হয় তখন বুঝতে হয় কোথায় দাড়িয়ে আমরা। কতটুকু বর্বর , অসভ্য, অমানবিক, অন্ধ, অসহিষ্ণু হলে একজন ‘মাননীয়’ সাংসদ এ কাজটি করতে পারেন।

এর আগেও গুজবের উপর ভর করে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্ঠা করা হয়েছে। রামুতে হয়েছে, সাতক্ষীরায় হয়েছে, সিলেটে হয়েছে।
গণমাধ্যমের খবরে যতটুকু জানা গেছে তা হলো, এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কান ধরে ওঠ-বস করিয়ে সাজা দেওয়া হয়েছে। যদিও নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীরা মা বলেছেন মারধরের সময় ওই শিক্ষক ধর্ম নিয়ে কোন কথা বলেননি।

মারধরের ব্যাপারে ওই ছাত্রের মা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করলে এ বিষয়ে স্কুলে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকের সময় ধর্ম নিয়ে কটূক্তির বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই শিক্ষকের ওপর চড়াও হয়। তারা শিক্ষককে মারধর করে অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে ব্যর্থ হলে স্থানীয় সাংসদকে খবর দেওয়া হয়। তিনি সেখানে গিয়ে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে ক্ষমা চাইতে বলেন।

তবে, পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক- কখনোই ইসলাম নিয়ে কোনো ধরনের কটূক্তি করেননি; বরং তাঁরাও মনে করছেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার গুজব ছড়িয়ে স্থানীয়দের ক্ষেপিয়ে তোলা হয়েছে অন্য কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য।
এরাকাবাসীও জানিয়েছেন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তার বোনকে প্রধান শিক্ষক করতে দীর্ঘদিন ধরে শ্যামল কান্তি ভক্ত’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছেন।

তার পরও তর্কের খাতিরে যদি ধরেই নেওয়া হয় ওই শিক্ষক ধর্ম নিয়ে কথা বলেছেন তারপরও এমন শাস্তি হতে পারে না।
কারো বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ উঠলেই তাঁকে মারধর করা, এমনকি চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলাও যে দেশে জায়েয সেখানে একজন ‘স্কুলমাস্টারকে কান ধরে ওঠ-বস করানো’ কি খুব বেশি। শিক্ষককরা মূলত ভদ্র, বিনয়ী, শান্ত, সৌম্য। এ কারণেই অভদ্রদের পক্ষে এ কুৎসিত কাজটি করা সম্ভব হয়। তাদের ক্ষমা করে দেয়া ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: