সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শিক্ষকের কান ধরে ওঠ-বস, ডিজিটাল দেশের ডিজিটাল শাস্তি

20অবনী নাজমিন ::
গত শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে উত্তেজিত একদল লোক মারধর করে। ঘটনাটা এখানে থেমে গেলে হয়ত এতটা খারাফ লাগত না। মানুষ গড়ার কারিগর এই প্রধান শিক্ষক কী জানতেন এরপর তার উপড় নেমে আসছে কী ভয়ংকর শাস্তি।

নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্যে এমপি সেলিম ওসমান হাতের আঙ্গুলের ইশারায় প্রধান শিক্ষককে যেভাবে কান ধরে ওঠ-বস করাচ্ছিলেন তা দেখে মনে হচ্ছিল আমরা কোন যুগে বাস করছি। অবশ্য ডিজিটাল বাংলাদেশে ডিজিটাল শাস্তি। অপমান-যন্ত্রণায় ক্লান্ত স্যার যখন পরে গেলেন তখন একদল লোক বলল এটা ভঙ্গি।

আর এই দৃশ্য দেখে সামনের জনতা উল্লাস করছে। অনেকে ছবি তুলতে কিংবা ভিডিও করতে ব্যস্ত। কেউ শিস দিচ্ছে। এর মধ্যে সমস্বরে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতেও শোনা যায়। এখানে যারা উপস্হিত ছিলেন তারা কেউ দেখেননি স্যারের কান্না । সারাজীবন শিক্ষাদানের পর, এই একজন শিক্ষকের প্রতিদান!

স্যারের পরিবার, শিক্ষার্থী সবাই দেখেছে কান ধরে ওঠ-বস করার দৃশ্য। যে মানুষ সারা জীবন ঘরে নীতি আর আদর্শের কথা বলেছেন তিনি আজ নীতির কাছে পরাজিত। এই মানুষটি কি আবার তার প্রিয় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে পারবেন? মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন শিক্ষার্থীদের সামনে?

বার্তা সংস্থা বিবিসির কাছে ঘটনাটি স্বীকার করে এমপি জানান, তাঁর উপস্থিতেই এই শিক্ষককে কান ধরে ওঠ-বস করিয়ে সাজা দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, জনরোষ থেকে এই শিক্ষককে বাঁচাতে এ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

তবে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত তাঁর ওপর নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। সেখানে তিনি দাবি করেন, স্কুলের পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাঁর ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়।
শিক্ষক শ্যামল কান্তির অভিযোগ, ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় জনতাকে ক্ষেপিয়ে তোলা হয়েছিল।

প্রধান শিক্ষক জানান, কিছুদিন আগে তিনি স্কুলের এক ছাত্রকে সাজা দিতে গিয়ে মারধর করেছিলেন। পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে সেই ঘটনাটিকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। বলা হয়, এই ছাত্রকে মারার সময় তিনি ধর্ম সম্পর্কে কটু কথা বলেছেন, যা একেবারেই মিথ্যা বলেও দাবি করেন ওই শিক্ষক।

এদিকে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানিয়েছেন, স্থানীয় জনতার রোষের হাত থেকে ওই শিক্ষককে বাঁচাতে পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তা হেফাজতে নিতে বাধ্য হয়েছে। সূত্র-এনটিভি অনলাইন।

তাকে কান ধরে ‘উঠবস’ করালে সমস্যা কি? হত্যা করা হয়নি, তার সৌভাগ্য। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে রাষ্ট্রের আইন ভঙ্গ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা যায় এভাবে জনসম্মুখে কান ধরে ওঠ-বস করে নয়। তার মনের অনুভূতিটা কী রকম ছিল সেসময়। এটাই কী সারা জীবনের কর্মপ্রাপ্তি। এরপর বেঁচে থাকা যায়?

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: