সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কে এই আসলাম চৌধুরী? কী সম্পর্ক মোসাদের সাথে?

02_Aslam-Chowdhury_15052016_0003-696x228ডেইলি সিলেট ডেস্ক::
হঠাৎ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘আসলাম চৌধুরী’ ওঠে এসেছেন আলোচনায়। বিএনপির সাম্প্রতিক কাউন্সিলে চট্টগ্রামের এই নেতাকে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে বৈঠক করে সরকার উৎখাতের চক্রান্তে জড়িত থাকার অভিযোগেতাকে আটক করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এর আগে এদিন সকালে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিএমপি কমিশনার মো. ইকবাল বাহার জানান, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে দেশবিরোধী চক্রান্তে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী জড়িত। তাকে দেখা মাত্র গ্রেফতার আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার কয়েকঘন্টা পরেই আটক হলেন আসলাম চৌধুরী।

মোসাদ ইস্যুতে আসলাম চৌধুরী চাপে পড়েন আগেই । এ কারণে আসলাম চৌধুরীকে ডেকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলের সিনিয়র নেতারাও আসলামের ওপর ক্ষুব্ধ ।দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠছে, আসলাম চৌধুরী নয়াদিলি্লতে গিয়ে ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির নেতা এবং মোসাদের প্রতিনিধি মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে কেন বৈঠক করলেন? কেন তাদের সঙ্গে গ্রুপ ছবি তুলতে গেলেন? সাধারণ মানুষের মাঝে এখন প্রশ্ন, কে এই আসলাম চৌধুরী? কী সম্পর্ক মোসাদের সাথে?

ইসরায়েলভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘জেরুজালেম অনলাইন ডটকম’এর ‘শিগগিরই সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দরজা ইসরায়েলিদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। বাংলাদেশের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে।’ এই দাবি করে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় , ইসরায়েলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান মেন্দি এন সাফাদি সম্প্র্রতি ভারত সফর করেন। সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তির সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। ওইসব বৈঠকেই বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন মেন্দি এন সাফাদি। এক বৈঠকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে গ্রুপ ছবি তোলেন সবাই। ওই ছবিতে আসলাম চৌধুরীও রয়েছেন।
চট্টগ্রামের সীতাকু- উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা আসলাম চৌধুরী ২০০২ সালে জিয়া পরিষদের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তিনি তখন জিয়া পরিষদ, চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পরে ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। এর দু’বছরের মাথায় চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন তিনি। পাশাপাশি কেন্দ্রেও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জায়গা করে নেন। পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর কাছ থেকে কেড়ে নেন সভাপতির পদ। তার দুবছর পর এখন দলের যুগ্ম মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন নানা সময়ে বিতর্কিত ও সমালোচিত আসলাম চৌধুরী।

রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে এই বিএনপি নেতা বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে কলেজের শিক্ষকতায় যোগ দেন। শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে ১৯৯৬ সালে তিনি এফসিএ পাস করেন। এরপর একটি সিমেন্ট কোম্পানির অর্থ ব্যবস্থাপক পদে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে আরেকটি সিমেন্ট কোম্পানিতে সিএফও (হিসাব বিভাগের প্রধান) পদে কর্মরত ছিলেন।

চাকরিতে থাকা অবস্থায় তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। এর মধ্যেই তিনি ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে আসলাম চৌধুরী বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং শিল্পপতি হিসেবে আবির্ভূত হন। এসব প্রতিষ্ঠানের নামেই তিনি সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নিয়েছেন। আসলামের ব্যাংক ঋণ হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল হিসেবে রুগ্ন শিল্প-কারখানা হয়ে ওঠে মহাপুুঁজি। জোট সরকার আমলে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বেশ কয়েকটি রুগ্ন শিল্প কেনেন আসলাম। পরে সেগুলো চালু করার নামে দেশের একাধিক ব্যাংক থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা ঋণ হাতিয়ে নেন। যার অধিকাংশ এখনও অনাদায়ী। ব্যাংক থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে অল্প সময়ে গড়ে তোলেন সম্পদের পাহাড়। রাইজিং গ্রুপ নামে গড়ে তোলেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সীতাকুণ্ড ও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর রয়েছে একাধিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন।

বোয়ালখালীতে আছে কনফিডেন্স সল্ট নামে একটি অত্যাধুনিক লবণ কারখানা। কক্সবাজারে তাঁর রয়েছে বিপুল পরিমাণ জমিজমা। চকরিয়ার হারবাংয়ে অবস্থিত ইনানি রিসোর্টের মালিকও তিনি। নগরের নাসিরাবাদ ও সাগরিকা সড়কে তাঁর রয়েছে ফিশ প্রিজার্ভার্স নামে দুটি মৎস্য সংরক্ষণ কারখানা। বিএনপির প্রভাবশালী এই নেতার ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ঠিক কত- তা জানা না গেলেও বিষয়টি নিয়ে খুব শিগগিরই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তদন্তে নামবে বলে সূত্রে জানা যায়।

আসলাম চৌধুরী ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ধারাবাহিক সহিংসতার মূল মদতদাতা হিসেবে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে এসব সহিংস ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয় বলে সীতাকুণ্ড থানা সূত্রে জানা যায়।

উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক থেকে পদোন্নতি পেয়ে সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হয়েছেন আসলাম চৌধুরী। দলের একটি অংশ মনে করে, উড়ে এসে বিএনপিতে জুড়ে বসেছেন তিনি। অভিযোগ আছে ‘টাকার জোরে’ অল্প সময়ের ব্যবধানে পেয়েছেন যুগ্ম মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ। দলের একটি অংশের সঙ্গে তাই শুরু থেকেই বিরোধ রয়েছে আসলাম চৌধুরীর। এ জন্য উত্তর জেলা বিএনপির কাউন্সিল করতে পারেননি তিনি। উত্তর জেলার আওতাধীন সাতটি উপজেলা ও সাতটি পৌরসভাতে গঠন করতে পারেনি পূর্ণাঙ্গ কমিটিও।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: