সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

৪ কেজি ভাত ও ৩ কেজি গোশত আনোয়ারের প্রতিদিনের খাবার!

full_1482229391_1463319568ডেইলি সিলেট ডেস্ক::
মাত্র ১২ বছরের কিশোর আনোয়ারের ওজন ১০১ কেজি! তার প্রতিদিনের খাবার চার কেজি ভাত ও তিন কেজি গোশত! মুর্শিদাবাদের সেই লোকমান শেখের মতো। এলাকার এক হাতুড়ের কাছে ছ’মাস অন্তর ছেলের ওজন মাপান বাবা আক্কালনবি শেখ আর মা শহরবানু বিবি। এ বার ওজন মাফতে গিয়েই দেখা গেল কিশোরের ওজন ছাড়িয়েছে ১০০।

অতিরিক্ত ওজনের জন্য পাড়ায় কেউ পাত্তা দেয় না আনোয়ারকে। সবকিছু ঠিক থাকলে এবার ক্লাস সিক্সে পড়ত ছেলেটা। আনোয়ারের বয়স যখন ৩, তখন থেকেই তার ওজন বৃদ্ধি পায়।

দাদা মঞ্জুর আলি শেখ বলছিলেন, ‘ওকে নিয়ে খুব ভয়ে থাকি’। রাতে নিঃশ্বাস নেয়ার সময় মনে হয় এই বুঝি দম আটকে গেল। গরমকাল তো বটেই, শীতেও গঙ্গায় বেশ কিছুক্ষণ।

দিনে কেজি তিনেক গোশত একাই খেয়ে নিতে পারে ছেলেটা। এখন তাই গোশত দেয়াই হয় না ওকে। মা শহরবানু বিবির আক্ষেপ করছিলেন, ‘বুঝতে পারি, ছেলেটার খিদে মেটে না। কী করব, সামর্থ্যে কুলোয় না। অনেক সময় চালটুকুও বাড়িতে থাকে না। খিদের জ্বালায় আনোয়ার তখন বাসনপত্র ভাঙাভাঙি শুরু করে। রাতভর কান্নাকাটি করে।

ঘরের মধ্যেই বালতি বালতি পানি ঢালতে হয় ছেলের গায়ে। ছেলেকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে এবার তাই উঠেপড়ে লেগেছেন পরিজনরা। খাবারের লোভ দেখিয়ে আনোয়ারকে প্রায়শই সকাল সকাল নিজের দোকানে নিয়ে যাচ্ছেন দাদা। লুচি, মন্ডা -মিঠাইয়ে ভালোই মন ভরছে আনোয়ারের। ছেলেকে তার পর জোর করে খেলতে পাঠানো হচ্ছে। পাড়ার সমবয়সীরাও এ বিষয়ে সহযোগিতা করছে তাকে। খেলা বলতে শুধু ক্যারামে মন আনোয়ারের।

বাড়তি ওজনের সমস্যা মেটাতে কিছুদিন আগে ডাক্তারের পরামর্শও নিয়েছিলেন আনোয়ারের বাবা-মা। আনোয়ারকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কালনা মহকুমা হাসপাতালে। তবে কাজের কাজ কিছু হয়নি। সেখান থেকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে রেফার করে দেয়া হয় আনোয়ারকে।

কালনা মহকুমা হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণচন্দ্র বড়াই জানান, ‘আনোয়ারের যে ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজন, তার পরিকাঠামো নেই এখানে। তাই পিজিতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

যত দিন যাচ্ছে, বাড়তি ওজনের কারণে শারীরিক ও মানসিক দু’দিক থেকেই ক্রমশ ভেঙে পড়ছে আনোয়ার। এক্ষেত্রে আনোয়ার যদি বংশগতভাবে এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়, তা হলে তার জেনেটিক থেরাপি প্রয়োজন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: