সর্বশেষ আপডেট : ৫৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রমজান সামনে রেখে সিলেটে নিত্য পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

20স্টাফ রিপোর্টার ::
রমজান সামনে রেখে প্রায় প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ছে সিলেটের বাজারে। তবে এ সপ্তাহে রসুন ( দেশি) ও ব্রয়লার মুরগির দাম অন্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের তুলনায় কিছুটা বেশি বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার সিলেটের পাইকারি ও খুচরা বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতারা সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া যায়। তবে গত সপ্তাহে বৃদ্ধি পাওয়া দামেই বিক্রি হচ্ছে অন্য সব পণ্য। আমদানির অজুহাত দেখিয়ে এ সপ্তাহেও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে বলে ক্রেতারা অভিযোগ করছেন। তারা বলছেন, পণ্যের আমদানি ঠিকঠাক থাকলেও দাম ঠিক রাখা হচ্ছে না। কাস্টমস কর্মকর্তাদের জন্য দেশের বাজার অস্থির হয়ে থাকে বলে অভিযোগ করেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা যেন পিছু ছাড়ছে না। আজ একটি তো কাল অন্যটির দাম বাড়ছে।

এর ধারবাহিকতায় দুয়েকদিনের ব্যবধানে বাজারে বেড়েছে চিনি, ছোলা ও ব্রয়লার মুরগির দাম। রমজানের আগে এসব পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। গতকঅল শুক্রবার সিলেট নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা। অথচ দুয়েকদিন আগে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৫২ টাকা থেকে ৫৫ টাকায়। প্রতিকেজি চিনিতে বেড়েছে ৫ টাকা। এ ছাড়া বাজারে ছোলার দামও ঊর্ধ্বমুখি। খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকা থেকে ৯০ টাকা।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রমজান সামনে, এজন্য পাইকারি বাজারে চিনির দাম বাড়ানো হয়েছে। আর এ কারণে খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। তবে রমজানের আগে চিনির দাম কমবে না বলে জানান তারা। অন্যদিকে ছোলার দাম রমজানের আগে আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। চাহিদার চেয়ে আমদানি কম ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে দেশের বাজারে ছোলার দাম বাড়ছে বলে জানান তারা। তবে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সুত্রমতে, রমজানকে সামনে রেখে টিসিবি অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ছোলা কিনেছে, যা চলতি মাসের শেষ দিকে দেশে আসবে। রমজানে টিসিবি ছোলা বাজারে ছাড়লে দাম অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে আসবে। বাজারে রসুনের দাম সামান্য কমেছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়। বাজারে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১১০ থেকে ১৪০ টাকা।

খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ (দেশি) ৩৫-৪০ টাকায় এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ২৫-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৩৮০ টাকা থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতিকেজি খাসির মাংস ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভোক্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, আসলে নিত্যপণ্যের বাজারে সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা খুব দুর্বল। আর এ কারণে নিয়ন্ত্রণহীন নিত্যপণ্যের বাজার, যার ফলে ভোক্তাদের মাসুল দিতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ছে, অথচ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দাম স্বাভাবিক থাকবে। কিন্তু মাঠে তাদের কোনো তদারকি নেই। সঠিক তদারকির অভাবেই বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে মনে করছেন তারা।খুচরা বাজারে প্রতি হালি ব্রয়লার মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩২-৩৪ টাকায়। পাইকারি বাজারে ব্রয়লার মুরগির একশ ডিম ৭২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮২০ টাকায় (একশ)। এদিকে বাজারে কাঁচাপণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে।

নগরীর বন্দরবাজার, সোবহানীঘাট ও রিকাবীবাজার গিয়ে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতিকেজি বেগুন ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়, সাদা গোলাকার বেগুন ৩০ টাকায়, গাজর ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়, শশা ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায়, ঝিঙে ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়, চিচিঙ্গা ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায়, পেঁপে ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়, শালগম ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়, বরবটি ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়, কচুর ছড়ি ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়, লতি ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকায়, টমেটো ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়, করলা ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকায়, ঢেঁড়স ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়, উচ্ছে ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়, পটল ২৫ টাকা ৩০ টাকায়, শজনে ৬০ টাকায় এবং কাকরোল ৪০ টাকা থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতিটি বড় লাউ ৩৫ টাকায় এবং ছোট লাউ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি ছোট কুমড়া ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা এবং বড় কুমড়া ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে সয়াবিন তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে প্রতিকেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা থেকে ৮৫ টাকায়। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা থেকে ৪৫৫ টাকায়। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা থেকে ৯৫ টাকায়। আমদানিকারক কোম্পানিগুলো যদি পণ্য পাইকারি বাজারে নিজেদের দায়িত্বে পৌঁছে দেয়, তাহলে প্রতিটি পণ্যের দাম বর্তমান দামের থেকে অনেক কমে বিক্রি করা যেতো, এমন দাবি বিক্রেতাদের। তবে এমন কথা মানতে নারাজ ক্রেতারা। তারা বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য বাড়তি দামেই কিনতে হয়। পাইকারি বাজারে এক টাকা দাম বাড়লে, খুচরা বাজারে বেড়ে যায় দশ টাকা।কয়েক সপ্তাহ ধরে বেড়ে যাওয়া দামেই বাজারভেদে মসুর ডাল (দেশি) ১৭৫ টাকা, আমদানি ডাল ১৪৫ টাকা ও ক্যাঙ্গারু ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের অপরিবর্তিত দামে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়।

এ সপ্তাহে কেজিপ্রতি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ টাকায়। বৃদ্ধি পাওয়া দামে প্রতি কেজি রসুন (আমদানি) বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা। আর গত সপ্তাহের থেকে দশ টাকা বেশিতে এ সপ্তাহে দেশি রসুন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে, নগরীর বাজারে মাছের চালান আসতে শুরু করেছে। তবুও আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে রুই মাছ (ছোট) ২৬০ টাকা, রুই (বড়) ৩২০ টাকা কেজি। ছোট কাতলা ৩০০ টাকা ও বড় ৩৫০ টাকা কেজি। চিংড়ি (ছোট) ৫০০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: